GJM leadership

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: পঞ্চায়েত নির্বাচনে ডুয়ার্সে তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন জানাবে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। একটি জরুরি বৈঠকের পর প্রত্যাশামতোই বৃহস্পতিবার এ কথা জানায় বিনয়পন্থী মোর্চা নেতৃত্ব। দলীয় বৈঠকের পর এ দিনই  তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গেও বৈঠক করেন মোর্চা নেতা তথা জিটিএ চিফ বিনয় তামাং। মোর্চা এবং তৃণমূল কংগ্রেসের এই আতাঁত নিয়ে জলঘোলা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

পাহাড়ে পঞ্চায়েত নির্বাচন নেই। কিন্তু জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার জেলার অন্তর্গত ডুয়ার্সে নির্বাচন আছে। বিমল গুরুং ক্ষমতায় থাকার সময় জয়গাঁ, কালচিনি, হাসিমারা, বীরপাড়া, বানারহাট, নাগরাকাটার মতো এলাকাগুলিতে মোর্চার বেশ খানিকটা প্রভাব ছিল। ২০০৮-এর পর থেকে বিগত নির্বাচনগুলিতে মোর্চার অনেক প্রার্থী জয়ী হয়ে পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠনে ভাগীদার হয়েছে। আবার পাহাড়ে জোট থাকাকালীন ডুয়ার্সেও মোর্চার সমর্থনে লাভবান হয়েছিল বিজেপি।

কিন্তু এখন পাশা পালটেছে। বিমল গুরুং-এর জায়গায় ক্ষমতায় এসেছেন বিনয় তামাং। কার্যক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে প্রথম থেকেই তিনি রাজ্যের শাসকদলের ঘনিষ্ঠ। তাই এ বার পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপির বদলে মোর্চা যে তৃণমূলকে সমর্থন করবে তা এক রকম প্রত্যাশিতই ছিল।

বৃহস্পতিবার মোর্চার কেন্দ্রীয় কোর কমিটি এবং ওয়ার্কিং কমিটির নেতারা বাগরাকোট-চুনাভাটিতে বৈঠকে বসেন। ছিলেন জিটিএ চিফ বিনয় তামাং, কালিম্পং-এর বিধায়ক রোহিত শর্মাও। বৈঠকের পর মোর্চা নেতৃত্ব জানিয়ে দেয়, তৃণমূলকেই তারা সমর্থন করছে পঞ্চায়েত নির্বাচনে। মোর্চার অন্যতম মুখপাত্র সুরজ শর্মার বক্তব্য, “পাহাড় নিয়ে বিজেপি বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আর অন্য দিকে রাজ্য সরকার শান্তি ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি পাহাড়ের উন্নয়নেও সচেষ্ট। তাই নির্বাচনে তৃণমূলকে সমর্থন।”

বৈঠকে ঠিক হয়েছে, পাহাড়ের চার জন মোর্চা নেতাকে ডুয়ার্সে পাঠানো হবে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে। তাঁরা ডুয়ার্সের মোর্চা নেতা এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে আসন নিয়ে ‘বোঝাপড়া’ করবেন। কার্শিয়ং-এর বিধায়ক রোহিত শর্মা জানিয়েছেন, তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থনের পাশাপাশি কিছু জায়গায় মোর্চা নির্দল প্রার্থী দেবে। তাদের জন্য সমর্থন চাওয়া হবে তৃণমূলের কাছে।

এ দিনের দলীয় বৈঠকের পরই জলপাইগুড়ির মালবাজারের টুরিস্ট লজে তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী এবং আলিপুরদুয়ারের জেলা সভাপতি মোহন শর্মার সঙ্গে বৈঠকে বসেন বিনয় তামাং। বিস্তারিত আলোচনা হয় তাঁদের মধ্যে। পরে সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, “মোর্চার সিদ্ধান্তকে স্বাগত। মোর্চার সমর্থনের বার্তা রাজ্য নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে কোথায় মোর্চার নির্দল প্রার্থীদের আসন ছাড়া হবে তা রাজ্য নেতৃত্বই ঠিক করবেন।” একই ভাবে মোর্চাকে স্বাগত জানিয়েছেন মোহন শর্মাও।

এ দিকে এই আতাঁতের খবর  আসতেই বিতর্ক তৈরি হয় রাজনৈতিক মহলে। সিপিএমের জেলা সম্পাদক সলিল আচার্য এই জোটকে ‘লেনদেনের আতাঁত’ বলে মন্তব্য করেন।

ডুয়ার্সের চা-বলয়ের বিজেপি নেতা জন বার্লার বক্তব্য, এই জোট করে কোনো পক্ষই লাভবান হবে না। তাঁর দাবি, বিমল গুরুং ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর ডুয়ার্সের মোর্চার নেতা-কর্মীরা সকলেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। ফলে ডুয়ার্সে মোর্চার কোনো প্রভাব নেই। এই আতাঁতের খবর শোনার পর বিজেপি নেতা মুকুল রায় শিলিগুড়িতে জানান, পাহাড়ে অস্তিত্ব থাকলেও বিনয় তামাং পরিচালিত মোর্চার ডুয়ার্সে কোনো অস্তিত্ব নেই। তাই এই জোটের প্রভাব নির্বাচনে পড়বে না।

যদিও মোর্চা নেতারা এ সব বক্তব্য মানতে নারাজ। নির্বাচনের ফলাফলই সব উত্তর দেবে, দাবি বিনয় তামাং-এর। রাজনৈতিক মহলও কৌতূহলী এই রাজনৈতিক আতাঁতের ফলাফল দেখতে। তবে তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ৮ মে পর্যন্ত।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন