নিজস্ব প্রতিনিধি: জনা চল্লিশ গ্রামবাসীকে নিয়ে ছোটো একটা সভায় বক্তৃতা করছিলেন বোলপুরের তৃণমূল প্রার্থী এবং রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা। সমবেত শ্রোতাদের কাছে ভোটপ্রার্থনা করার পর মন্ত্রীর মুখের উপর এক মহিলা শুধিয়ে দিলেন,”যে জল দেবে, তাকেই ভোট দেব”।

বোলপুর স্টেশন থেকে পাঁচ কিমিরও দূরে আদিবাসী অধ্যুষিত আমড়াডাঙায় যেন অন্য এক দুনিয়া। যেমন রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, তেমনই মানুষের জীবনযাপনের মান। এলাকায় ঢোকার মুখেই চোখে পড়ল এক তলার ঝকঝকে পাকাবাড়ি, মাথায় লেখা রয়েছে, আমড়াডাঙা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। ব্যস ওইটুকুই। একশোর দিনের প্রকল্পে ঢালাই রাস্তা এবং কেন্দ্র-রাজ্য সরকারের সহায়তায় মাথাগোঁজার ঠাঁই চোখে পড়ার মতো নয়। জলের সমস্যাও যে কতটা তীব্র, তা নিয়ে তৃণমূলের নেতা, এমনকী মন্ত্রীর সামনেও ক্ষোভ প্রকাশ করতে ছাড়লেন না গ্রামবাসীদের একাংশ।

এমনই একটি গ্রামে গত শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনেই ছোটো সভায় অংশ নিয়েছিলেন মন্ত্রী। সংক্ষিপ্ত সেই সভা শেষ হতেই পানীয় জলের জন্য ক্ষোভপ্রকাশ করলেন গ্রামবাসীদের একাংশ। জানিয়ে দিলেন, “যে জল দেবে, তাকেই ভোট দেব”। এ কথা শুনে মন্ত্রীর আশ্বাস, ফলাফল বেরনোর চার দিনের মধ্যে জলের কল বসে যাবে। তবে শুধু এই গ্রাম-ই নয়, বোলপুর বিধানসভার অন্তর্গত ইলামবাজার ও বোলপুর-শ্রীনিকেতন ব্লকের রজতপুর বা কাশীপুরের মতো অনেক এলাকাতেই পানীয় জলের সংকট প্রকট।

কাশীপুরের এক বাসিন্দা জানালেন, সরকার থেকে যে ডিপ টিউবওয়েল বসানো হয়েছিল, তাতে জল পড়ে না। বাধ্য হয়ে অনেকেই নিজের বাড়িতে সাব মার্সিবল পাম্প বসিয়ে নিয়েছে। কিন্তু সেটা তো সবার পক্ষে সম্ভব নয়। খরচ প্রায় ৩০ হাজার টাকা।

এলাকার মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা সম্পর্কে চন্দ্রনাথবাবু বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে গ্রামবাংলার উন্নয়ন সে ভাবে হয়নি। দশ বছরে আমরা যতটা পেরেছি, করেছি। যে কাজগুলো বাকি রয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে আমরা তা সব করব”।

বিজেপি প্রার্থী অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “বোলপুর বিধানসভার বহু গ্রামে পানীয় জলের অভাব রয়েছে। মানুষ জল চায়, স্বাস্থ্য পরিষেবা, পাকাবাড়ি চায়- এই হল তাদের চাহিদা। এগুলো এত বছর ধরে তাদের দেওয়া হয়নি”।

অন্যদিকে আরএসপির বোলপুর জোনাল কমিটির সম্পাদক তুষার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আদিবাসী এলাকাগুলোর যতটুকু উন্নয়ন হয়েছে, তা বামফ্রন্ট সরকারের আমলেই হয়েছে। কাশীপুরে আমরাই পানীয় জলের ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু এই দশ বছরের মধ্যে জনসংখ্যা অনেক বেড়েছে। এখন যারা ক্ষমতায় রয়েছে, তারা যদি এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট ব্যবস্থা না নেয়, তা হলে কী হবে। বোলপুরে যে জার্মান প্রকল্প হয়েছিল, সেটা তো বামফ্রন্ট সরকারের আমলেই হয়েছিল”।

তবে শ্রীনিকেতন পঞ্চায়েত সমিতির অন্তর্গত আমড়াডাঙার ওই মহিলা বললেন, “এখন তো ভোটের জন্য সবাই আসছে, তখন তো কেউ আসত না। গ্রামে কেউ আসত না। কী করছে লোকগুলো, কাজ পাচ্ছে কি না, কী খাচ্ছে, কী করছে, তখন তো কেউ খোঁজ নিত না। এখন ভোটের জন্য সবাই আসছে”।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, “লকডাউনের সময় আমরা চাল-তেল পেয়েছি। কিন্তু আমাদের এখানে খাবার জলের অভাব রয়েছে। আমরা খাবার জলের দাবি করছি। আমাদের কল নেই, সাব মার্সিবল নেই, আমরা সেগুলোই চাইছি”।

স্থানীয় বিধায়কের কাছ থেকে কেমন পরিষেবা পেয়েছেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে ওই মহিলা বলেন, “রেশন কার্ডগুলো আগে বড়ো ছিল, এখন ছোটো ছোটো কার্ড দিয়েছে”।

ক্লিক করে দেখুন এখানে: অনুব্রত মণ্ডলের গড়ে এ বার জোর টক্কর দিতে তৈরি বিজেপি

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন