বোলপুর: বাগুইআটিকাণ্ডের ছায়া এ বার বীরভূমে। ইলামবাজারের জঙ্গল থেকে উদ্ধার নিখোঁজ ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়ার ক্ষতবিক্ষত দেহ। ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই মৃত যুবক সৈয়দ সালাউদ্দিনের এক বন্ধু শেখ সলমনকে আটক করেছে ইলামবাজার থানার পুলিশ। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

মৃত সালাউদ্দিন ওরফে জয়ের পরিবারের দাবি, “শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিলেন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া। গতকাল রাত ১২টা নাগাদ ৩০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চেয়ে প্রথম ফোন আসে। সালাউদ্দিনের নম্বর থেকেই ওই ফোন আসে। পুলিশকে এ কথা জানালে ছেলেকে ফিরে পাওয়া যাবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়”।

এর পর মল্লারপুর থানায় জানানোর পর আসে দ্বিতীয় হুমকি ফোন। টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে ইলামবাজার থেকে গ্রেফতার করা হয় সালাউদ্দিনের বন্ধু সলমনকে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই ইলামবাজার জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয় সালাউদ্দিনের দেহ। তাঁর গলার নলি কাটা ছিল। সলমনের হাতেও অস্ত্রের কোপের চিহ্ন ছিল।

প্রাথমিক তদন্তের পর বীরভূমের পুলিশ সুপার নগেন্দ্র ত্রিপাঠী জানান, খয়রাশোলের পাথর ব্যবসায়ী সৈয়দ আব্দুল মতিনের পুত্র সালাউদ্দিনকে খুন করেছেন শেখ সলমনই। বাজারে তাঁর অনেক দেনা ছিল। তাই বড়লোক বন্ধুকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ছক কষেছিলেন। অভিযোগ, অনলাইন গেম খেলার ফলে বাজারে অনেক টাকা ধার হয়েছিল ধৃতের।

উল্লেখ্য, সালাউদ্দিনের বয়স ১৯ বছর। আসানসোলে মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়ছিলেন তিনি। ফাইনাল পরীক্ষা বাকি ছিল। তাঁর বাড়ি মল্লারপুরের সুমনাপল্লিতে। শনিবার সকালের দিকে সৈয়দকে ফোন করে বোলপুরে ডাকেন সলমন। সেই মতো আসানসোল থেকে সোজা বোরপুর গিয়েছিলেন সৈয়দ। প্রথমে চায়ের দোকানে বসে আড্ডা। তার পর একটি দোকানে বসে বিরিয়ানি খান তাঁরা। এর পর একটি মদের দোকান থেকে বিয়ার এবং মদের বোতল কেনেন। সেখান থেকে সোজা চলে যান চৌপাহাড়ির জঙ্গলে। এর পরই ঘটে যাবতীয় ঘটনা।

রাত সাড়ে ১২টা থেকে একটা পর্যন্ত মোট সাত বার মৃতের বাবাকে ফোন করে মুক্তিপণের জন্য তাগাদা দেওয়া হয়। ছেলেক ফিরে পেতে ৩০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণের দাবি করা হয়। ফোন পাওয়ার পর মল্লারপুর থানায় যান ওই ব্যবসায়ী। ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে উদ্ধার হয় ছাত্রের ক্ষতবিক্ষত দেহ।

অন্য দিকে, খুনের পর সলমন ধল্লা গ্রামে একটি দুর্গা মন্দিরে গিয়ে নিজের হাত কেটে বন্ধুকে ফোন করেন বলে ঘটনায় প্রকাশ। সে সময় গ্রামবাসীরা তাঁর চিৎকার শুনে ধরে ফেলে। ভোরের দিকে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

আরও পড়তে পারেন: করোনায় আটকে ঘরে, চিনে ডাক্তারি পড়তে যাওয়া পড়ুয়াদের জন্য ‘সাধারণ ঝুঁকি’ সতর্কতা ভারতের

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন