লাভপুর হত্যামামলার চার্জশিটে মনিরুল ইসলাম এবং মুকুল রায়ের নাম

0
mukul and manirul

ওয়েবডেস্ক: সালিশিসভার নাম করে ডেকে নিয়ে গিয়ে ২০১০ সালে ৪ জুন লাভপুরের নবগ্রামে খুন করা হয় তিন ভাইকে। তৎকালীন ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ তোলেন নিহতদের মা। যদিও তাঁর নাম ছিল না চার্জশিটে। সূত্রের খবর, হাইকোর্টের নির্দেশে সেই ঘটনার পুনরায় তদন্ত শুরু হওয়ার পর জমা পড়া চার্জশিটে মনিরুল তো বটেই, প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে নাম উঠল বিজেপি নেতা মুকুল রায়েরও।

২০১০ সালের পর মাঝখানে অবশ্য দলবদল করেছিলেন মনিরুল। তিনি রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলে নাম লেখান। জানা যায়, নিহতদের ভাইয়েরা মনিরুলের নাম না বলায়, চার্জশিটে তাঁর নাম ওঠেনি। ২০১৪ সালে ওই ঘটনায় ২২ জনের সঙ্গেই নিম্ন আদালতে অব্যাহতি পেয়ে যান মনিরুল। তবে সেই মামলা হাইকোর্টে পৌঁছায় ২০১৫ সালে।

নিহতদের ভাই জামাল শেখ কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন। তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনায় যোগ রয়েছে মনিরুলের। দীর্ঘ শুনানির পর গত ৪ সেপ্টেম্বর পুনরায় তদন্তের দেয় হাইকোর্ট। সেই ঘটনার তদন্তে নেমেই বোলপুর আদালতে পুলিশ চার্জশিট জমা করেছে।

সূত্রের খবর, ২০১০ সালের ওই ঘটনার সময় ফরওয়ার্ড ব্লক ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছিলেন মনিরুল। সে সময় মুকুল ছিলেন তৃণমূলে। ওই ঘটনার যোগসূত্র ধরেই হত্যাকাণ্ডে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে চার্জশিটে নাম ঢুকে গিয়েছে মুকুলের।

রাজ্য-রাজনীতিতে বহু আলোচিত লাভপুর হত্যাকাণ্ড মামলার চার্জশিটে নতুন করে মনিরুলের নাম ওঠায় খুশি নিহতদের পরিবার। তবে ওই ঘটনায় মুকুলের কোনো যোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাঁরা মুখ খোলেননি বলেই জানা গিয়েছে। মুকুলের হাত ধরেই গত লোকসভা ভোটে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছিলেন মনিরুল। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই বিজেপির অন্দরে বিতর্কের জেরে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

প্রসঙ্গত, লাভপুরে খুন হন ধানু শেখ, কাটুন শেখ এবং তুরুক শেখ নামে তিন ভাই। ওই ঘটনায় মনিরুল ইসলাম-সহ ৫৪ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। গত ৪ সেপ্টেম্বর আদালত রাজ্য পুলিশকে নির্দেশ দেয় তিন মাসের মধ্যে লাভপুর হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.