খবরঅনলাইন ডেস্ক: টানা বৃষ্টি আর ব্যারেজ থেকে জল ছাড়ার পর রাজ্যের তিন জেলায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। এখনও পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকলেও ভবিষ্যতে তা খারাপ হতেই পারে।

গত কয়েক দিন ধরেই প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল বিহার আর ঝাড়খণ্ডে। এর ফলে জল ছাড়া শুরু করছে ম্যাসাঞ্জোর আর তিলপাড়া জলাধার। এর জেরে বীরভূম আর মুর্শিদাবাদে বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা। অন্য দিকে বিহারে ব্যাপক বৃষ্টির জেরে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মালদাতেও।

Loading videos...

মুর্শিদাবাদ

মুর্শিদাবাদের পরিস্থিতি চিন্তাদায়ক। এ বছর এমনিতেও স্বাভাবিকের তুলনায় ৩১ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে নিচু জমিতে জল জমে গিয়েছে। এ ছাড়া লাগাতার ভারী বৃষ্টির কারণে আনাজ চাষেও ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কান্দি মহকুমা সেচ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা নাগাদ তিলপাড়া ব্যারেজ থেকে ১৪ হাজার ৯০ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। দেওচা ব্যারেজ থেকে ১ হাজার ৮৫০ এবং বৈধড়া ব্যারেজ থেকে ৩ হাজার ১০০ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে।

এর ফলে কাজেই আগামী ২৪ ঘণ্টায় কান্দির বিভিন্ন এলাকার নদীগুলিতে জল বাড়বে। শুক্রবার কুয়ে নদীর জলে প্লাবিত হয়েছে ভরতপুর-১ ব্লকের সুখদানপুর। প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রামে ত্রাণশিবির খুলে সেখানে ১২টি পরিবারকে রাখা হয়েছে। বাসিন্দারা জানান, গ্রামে প্রায় ২০০ পরিবার বাস করে। বেশ কয়েকটি বাড়িতে ইতিমধ্যেই জল ঢুকেছে।

বীরভূম

গত কয়েক দিন ধরে বীরভূমে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। তার ফলে ময়ূরাক্ষী, দ্বারকা, অজয়, কুয়ে, হিংলো প্রভৃতি নদীর জলস্তর বেড়ে গিয়েছে। মহম্মদবাজারের পুরাতন গ্রামে দ্বারকা নদের জলস্তর বাড়ার ফলে রাতে পুরাতন গ্রাম পঞ্চায়েতের কংক্রিটের সেতুটির একাংশ ভেঙে গিয়েছে।

মালদা

এই মরশুমে মালদাতেও স্বাভাবিকের থেকে অনেক বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিহারের প্রবল বর্ষণ। ফলে জেলার নদীগুলিতে জলস্তর বাড়ছে।

ইতিমধ্যে বিপদসীমা ছুঁয়ে ফেলেছে মহানন্দা। বিপদসীমার কাছাকাছি রয়েছে ফুলহরের জলস্তরও। কৃষিজমিতে বৃষ্টির জল ঢুকে গিয়ে চাষাবাদেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখনও পর্যন্ত বন্যার সতর্কতা জারি না করা হলেও, জলস্তর বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে।

এ দিকে, রতুয়া-১ ব্লকের বিলাইমারি অঞ্চল ও মহানন্দটোলা অঞ্চলে গঙ্গা ও ফুলহর নদীর জলস্রোতে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। গত দু’ দিনের ভাঙনে ১০০ বিঘা জমি গঙ্গার গর্ভে চলে গেছে। এখনও ভাঙন আটকানোর কাজ শুরু হয়নি বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.