Visva Bharati university

খবর অনলাইন ডেস্ক: সোমবার ব্যাপক তাণ্ডব-ভাঙচুরের পর বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় (Visva Bharati University) কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) হস্তক্ষেপ চাইতে চলেছেন বলে সূত্রের খবর।

পৌষমেলার মাঠে পাঁচিল তোলাকে কেন্দ্র করে যাবতীয় গণ্ডগোলের সূত্রপাত। এই গণ্ডগোলের জেরে অনির্দিষ্ট কালের জন্য বিশ্বভারতী বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে মঙ্গলবার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখতে চলেছেন তাঁরা।

Loading videos...

কেন কেন্দ্রীয় বাহিনী?

জানা গিয়েছে, গত সোমবার তড়িঘড়ি এগজিকিউটিভ কাউন্সিলের বৈঠক ডাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেখানেই স্থির হয়, অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখা হবে। পাশাপাশি আরও এক গুচ্ছ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ভাঙচুর চলাকালীন পুলিশ নিষ্ক্রিয়তা অভিযোগ তুলেছেন কর্তৃপক্ষ। ওই সময় পুলিশ সুপার এবং জেলাশাসককে বারবার ফোন করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি বলে অভিযোগ। এর পরই ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে বড়োসড়ো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক আধিকারিক বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের এগজিকিউটিভ কাউন্সিলের বৈঠকে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের জন্য আচার্য এবং প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে”।

পুলিশের বক্তব্য এবং পরিস্থিতি

বীরভূমের পুলিশ সুপার শ্যাম সিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ক্যাম্পাসে হিংসাত্মক ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ন’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তবে মঙ্গলবার সকালেও ক্য়াম্পাসে চাপা উত্তেজনার পরিস্থিতি অব্যাহত ছিল বলে দাবি করা হয়। এমনকী বিচ্ছিন্ন ভাবে অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ।

[ তা হলে কি কবিগুরুর বিশ্বভারতীতে কেন্দ্রীয় বাহিনী?]

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিনিয়র অধ্যাপক অভিযোগ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্ত ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর মঙ্গলবার ভোরে একদল বিক্ষোভকারী তাঁর বাসভবনে হামলা চালায়।

এ ব্যাপারে পুলিশ এফআইআর দায়েরও হয়। এক অধ্যাপক অভিযোগ করেন, “পৌষমেলা মাঠের চারপাশে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পাঁচিল নির্মাণের সিদ্ধান্তে প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা গেটটি খোলেন, জানালা ভেঙে দেন এবং আমার উদ্দেশে গালিগালাজ করেছিলেন।”

তবে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও ভরতি প্রক্রিয়া এবং জরুরিকালীন কাজে কোনো প্রভাব পড়বে না বলেই জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

রাজ্যের অবস্থান

জানা যায়, মেলার মাঠ ঘেরার প্রতিবাদ করেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড়ো অংশ। ‘মেলার মাঠ বাঁচাও, শান্তিনিকেতন বাঁচাও’ নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় পেজ তৈরি করে গত কয়েক দিন ধরেই শুরু হয়েছিল প্রতিবাদ

রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ভাঙচুরের ঘটনার নিন্দা করে। তবে কিছু ঘটনা বিক্ষোভকারীদের সমর্থন করছে বলে অভিযোগ।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, তিনি সেখানে এ ধরনের কোনো নির্মাণের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে সমস্যার সমাধানে জেলা প্রশাসনকে বৈঠকে বসতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.