baison in a tea garden

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : চারটি বাগানে আটটি বাইসনের তাণ্ডব। মৃত এক চা শ্রমিক। বাইসনগুলিকে বাগে আনতে দিনভর নাজেহাল হলেন বনকর্মীরা।

ডুয়ার্সের কাঁঠালগুড়ি, রিয়াবাড়ি, পলাশবাড়ি এবং বানারহাট চা বাগান মঙ্গলবার দিনভর উত্তপ্ত রইল বাইসনের তাণ্ডবের এই ঘটনায়। সকালে সংলগ্ন রেতির জঙ্গল থেকে আটটি বাইসনের দল প্রথমে ঢুকে পড়ে কাঁঠালগুড়ি চা বাগানে। সেখানে তাদের তাণ্ডবে কাজ ছেড়ে পালান শ্রমিকরা। এর পর দলছুট হয়ে পড়ে বাইসনগুলি।

দু’টি বাইসন ঢুকে যায় রিয়াবাড়ি চা বাগানে। একটি বাইসন চা বাগানের আড়ালে থাকায় তাকে দেখতে পাননি শ্রমিকরা। অন্য বাইসনটিকে দেখতে পেয়ে সেখান থেকে সরে যান শ্রমিকরা। কিন্ত লুকিয়ে থাকা বাইসনটি হঠাৎ করেই বেরিয়ে এসে শ্রমিকদের ওপর আক্রমণ চালায়। অন্যরা পালিয়ে গেলেও বিষ্ণু মাহালি নামে এক শ্রমিক বাইসনটির মুখোমুখি পড়ে যান। শিং দিয়ে তাঁর পেট ফুঁড়ে দেয় প্রাণীটি। বনকর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় ওই শ্রমিকের।

এ দিকে দু’টি বাইসন পলাশবাড়ি এবং চারটি বাইসন বানারহাট চা বাগানে ঢুকে পড়ে। সেখানে তাদের আতঙ্কে শ্রমিকদের মধ্যে ছুটোছুটি পড়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় বাগানের চা-পাতা তোলার কাজ। খবর পেয়ে প্রথমে বিন্নাগুড়ি ওয়াইল্ড লাইফ স্কোয়াডের বনকর্মীরা রিয়াবাড়ি চা বাগানে আসেন।

baison seen in a tea garden
চা বাগানে বাইসন।

কিন্তু পরে অন্য বাগানগুলি থেকেও বাইসনের তাণ্ডবের খবর আসতে থাকে। কিন্তু তাদের পক্ষে চারটি বাগানের এতগুলি বাইসনকে সামলানো সম্ভব ছিল না। এর পর মালবাজার ওয়াইল্ড লাইফ স্কোয়াড, বানারহাট এবং খুনিয়া রেঞ্জ থেকে বনকর্মীদের সেখানে পাঠানো হয়। তাতেও বাইসনগুলিকে বাগে আনতে হিমসিম খেতে হয় বনকর্মীদেের।

রাতের অন্ধকার নেমে এলে বাইসনগুলিকে ফের রেতির জঙ্গলে পাঠানো সম্ভব হয়। আতঙ্ক কাটে শ্রমিকদের। হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন বনকর্মীরা।

জলপাইগুড়ি বনবিভাগের বনাধিকারিক বিদ্যুৎ সরকার জানিয়েছেন, বাইসনগুলিকে জঙ্গলে ফেরত পাঠালেও এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছেন বনকর্মীরা।

গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের বনাধিকারিক নিশা গোস্বামী জানিয়েছেন, মৃত শ্রমিকের পরিবারের হাতে আগামী কাল ক্ষতিপূরণের  প্রাথমিক কুড়ি হাজার টাকা তুলে দেওয়া হবে। বাকি দুই লক্ষ তিরিশ হাজার টাকা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর দেওয়া হবে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন