৯টি আসনের দায়িত্বে আরএসএসের প্রাক্তন প্রচারক! ঘাসফুলের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলতে পারবে কি পদ্ম?

TMC and BJP
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি

ওয়েবডেস্ক: রাজ্যের শেষ দফার ন’টি আসনের দায়িত্ব দিয়ে কলকাতায় উড়িয়ে নিয়ে আসা হয়েছে আরএসএসের প্রাক্তন প্রচারক সুনীল দেওধরকে। গত বছর ত্রিপুরা বিধানসভার নির্বাচনে সে রাজ্যের আড়াই দশকের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে গেরুয়া সাম্রাজ্যের পতনে মূল কারিগরের দায়িত্ব পেয়েছিলেন এই দেওধর।

sunil deodhar
সুনীল দেওধর। ফাইল ছবি

সাত দফার লোকসভা নির্বাচনে শেষ পর্যায়ে রয়েছে কলকাতা এবং শহরতলির ন’টি গুরুত্বপূর্ণ আসনের ভোটগ্রহণ। সপ্তম এবং শেষ দফায় দমদম, বারাসত, বসিরহাট, জয়নগর, মথুরাপুর, ডায়মন্ড হারবার, যাদবপুর, কলকাতা দক্ষিণ এবং কলকাতা উত্তরের ভোটগ্রহণ আগামী ১৯ মে। এগুলির মধ্যে প্রত্যেকটিতেই ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে জয় পেয়েছিল তৃণমূল। এই কেন্দ্রগুলিরই দলীয় সাংগঠনিক এবং প্রচারের দায়িত্ব দেওধরের হাতে তুলে দিয়েছে বিজেপি।

গত ২০১৪ লোকসভা ভোটে এই ৯টি আসনে বিজেপির অবস্থান

কেন্দ্র২০১৪-য় প্রাপ্ত ভোটের শতকার হারপ্রাপ্ত স্থান
দমদম২২.৫০তৃতীয়
বারাসত২৩.৩৭তৃতীয়
বসিরহাট১৮.৩৬তৃতীয়
জয়নগর৯.৫৪চতুর্থ
মথুরাপুর৫.২১তৃতীয়
ডায়মন্ড হারবার১৫.৯২তৃতীয়
যাদবপুর১২.২২তৃতীয়
কলকাতা দক্ষিণ২৫.২৮দ্বিতীয়
কলকাতা উত্তর২৫.৮৮দ্বিতীয়

দায়িত্ব পেয়েই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি নিয়ে ঘুঁটি সাজাতে নেমে পড়েছেন দেওধর। দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতেও রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, গত ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে মোদীর নির্বাচনী প্রচার ম্যানেজার হিসাবে নিযুক্ত করা হয়েছিল দেওধরকে। তারও আগে ২০১৩ সালের গুজরাত নির্বাচনে তাঁর সাংগঠনিক ক্ষমতা নজর কাড়ে দলের উচ্চ নেতৃত্বের। এর পর বিজেপির ত্রিপুরা বিজয়েও দলের অন্যতম কান্ডারি হিসাবে তাঁর কৃতিত্ব দলের সবমহলেই সমান প্রশংসিত। বর্তমানে ত্রিপুরার পাশাপাশি অন্ধ্রপ্রদেশের দায়িত্বেও রয়েছেন তিনি। তার উপর দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের অনুরোধে বাংলার এই ন’টি আসনের দায়িত্বও নিয়ে দু’দিন আগেই কলকাতায় পৌঁছেছেন তিনি।

বাংলার সঙ্গে ত্রিপুরার মিল তুলে ধরে সুনীল সংবাদ মাধ্যমের কাছে জানিয়েছেন, “মমতাদি যা করছেন, সেটাও আসলে সিপিএমের স্টাইল। ত্রিপুরার অভিজ্ঞতা এখানে ভাগ করে নেব”। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কলকাতা এবং দুই ২৪ পরগনা জুড়ে বিজেপির পক্ষে জোর ‘আন্ডার কারেন্ট’ রয়েছে। যা ইতিমধ্যেই তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ককে অনেকটাই ড্যামেজ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে সিপিএমের ধ্বসও নজর এড়াচ্ছে না বিজেপির।

একাধিক রাজ্যে দলের নির্বাচনী প্রচারের কাজের অভিঝ়্তা থেকে বাংলার পরিস্থিতিও খুব দ্রুত বুঝে নিচ্ছেন সুনীল। এ ব্যাপারে ভাষাগত অ্যাডভান্টেজও বাড়তি মাইলেজ দিচ্ছে তাঁকে। বঙ্গ-বিজেপি নেতৃত্ব প্রায়শই অভিযোগ করেন, দিল্লি থেকে বাংলার দায়িত্বে যে সব নেতাকে পাঠানো হয়, তাঁরা বাংলা জানেন না। তাই এবার জেনেবুঝে এমন নেতাকে পাঠানো হয়েছে, যাঁর এই সমস্যা নেই। মহারাষ্ট্র থেকে রাজনীতিতে আসা সুনীল দেওধর ত্রিপুরায় ৫০০ দিন কাটিয়েছিলেন। সেখানকার মানুষের সঙ্গে মিশেই তিনি বাংলা ভাষা শিখে নিয়েছিলেন।

এখন দেখার শেষ দফার ন’টি আসনে ঘাসফুলের ঘাড়ে কতটা নি‌শ্বাস ফেলতে সক্ষম হয় পদ্মফুল!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.