BJP Party ghosh and Bjp west bengal

কলকাতা: ২৮ ডিসেম্বর রাজ্য পুলিশ থেকে পদত্যাগ করার পরই আইপিএস ভারতী ঘোষের বিজেপি-যোগ নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তার পর থেকেই তাঁকে নিয়ে বিজেপির চিন্তা-দুশ্চিন্তা সুবিদিত বিষয়। খোদ রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও জানিয়েছিলেন, ভারতীর জন্য দলের দরজা সর্বদা খোলা রয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এখনই তাঁকে দলে নেওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছে ৬, মুরলীধর সেন লেনের একাংশ।

বিজেপির ওই অংশটি মনে করে, ভারতীদেবীকে তাড়াহুড়ো করে বিজেপিতে নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। ঘটনাক্রম যে দিকে এগোচ্ছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে ভারতীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি নিয়ে রাজ্য সরকার খুব বেশি দূর এগোতে পারবে না। ফলে আদালতে এই মামলার একটা আশাব্যঞ্জক ফলাফল মিললেই তাঁকে দল টেনে নেওয়া হোক। কারণ, মুকুল রায়ের দলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই বিজেপিতে ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি’র প্রবেশ নিয়ে সমালোচনা চলছে। তার পরই ভারতীদেবীকেও তড়িঘড়ি দলে নিলে সেই একই অভিযোগ উঠবে। সাধারণ মানুষের কাছে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে।

তাই বলে এ মুহূর্তে বিজেপিতে এমন কোনো প্রভাবশালী নেতা নেই, যিনি ভারতীদেবীকে দলে নেওয়ার বিরোধিতা করবেন। দলের তিনটি মূল স্তম্ভ মুকুল-দিলীপ-রাহুল সিনহা লবির প্রত্যেকেই চায়, এক সময়ের মমতা-ঘনিষ্টকে যে ভাবে হোক গেরুয়া শিবিরে অংশগ্রহণ করাতে। কিন্তু ভারতী যত দিন পর্যন্ত না প্রকাশ্যে আসছেন, ততদিন এ বিষয়ে ধীরে চলো নীতি নেওয়া দরকার বলে মনে করে ওই অংশটি। অর্থাৎ, তারা চাইছে, ভারতীদেবী নিজে মুখেই দলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করুন। কারণ এতদিন পর্যন্ত তাঁর বিজেপি-যোগ নিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব প্রকাশ্য মন্তব্য করলেও তাঁর তরফে এ বিষয়ে টুঁ শব্দটিও করা হয়নি।

উল্লেখ্য, পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রাক্তন পুলিশ সুপার ভারতীদেবীর বাড়ি-ফ্ল্যাটে টানা তল্লাশি চালানোর পরই সিআইডি তাঁকে খুঁজতে ভিন রাজ্যে পাড়ি দেয়। তার পরই বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশে জানানো হয়, ভারতীদেবীর স্বামীকে এখনই গ্রেফতার করতে পারবে না পুলিশ। উল্টে তদন্তকারী অফিসারকে সহযোগিতার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন