bjp worker beaten
প্রহৃত বিজেপি কর্মী। নিজস্ব চিত্র।

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁকুড়া: বাঁকুড়ায় শাসকদলের হাতে আবার বিজেপির আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, দলীয় পতাকা টাঙানোর সময় বিজেপি কর্মীকে ব্যাপক মারধর করা হয়েছে। বুধবার ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ার তালডাংরার বিবড়দা গ্রামে।

তালডাংরা গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রহৃত ওই বিজেপি কর্মী মধুময় পরামানিক বলেন, “কয়েক দিন আগে বিবড়দা বাজারে আমাদের টাঙানো পতাকা তৃণমূল খুলে দেয়। সেই পতাকা এ দিন নতুন করে টাঙানোর সময় জনা পনেরো তৃণমূল কর্মী আমাকে মারধর করে বাজারে ফেলে রাখে। তৃণমূল কর্মীদের হুমকির জেরে বাজারে থাকা কেউই সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসতে পারেননি। পরে আমার ভাই এসে আমাকে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করে।”

একই অভিযোগ করেছেন ওই আহত বিজেপি কর্মীর স্ত্রী রিঙ্কু ঘোষ পরামানিকও। তিনি জানান, তিনি স্কুলে ছিলেন। খবর পেয়ে হাসপাতালে চান। কিন্তু তাঁকে পর্যন্ত তৃণমূলের লোকজন কোনো গাড়িতে চাপতে দেয়নি। পরে তাঁদের স্কুলের এক সহকর্মীর বাইকে চেপে হাসপাতালে এসেছেন।

আরও পড়ুন লকেট চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের

স্থানীয় সূত্রের খবর, বুধবার সকালে বিবড়দা বাজারে মধুময় পরামানিক নামে এক বিজেপি কর্মী দলীয় পতাকা টাঙাচ্ছিলেন। সেই সময় জনা পনেরো তৃণমূল কর্মী মধুময় পরামানিককে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। মারধরের পর ওই বিজেপি কর্মীকে প্রকাশ্যে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়ির চেষ্টা করা হলে তাতেও বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে খবর পেয়ে পরিবারের লোকেরা ঘটনাস্থলে এসে গাড়ির ব্যবস্থা করে মধুময়কে তালডাংরা গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করে।

ওই ঘটনার সময়ে অনেকে উপস্থিত থাকলেও তৃণমূলের হুমকির জেরে কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসতে পারেনি বলে বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে। এমনকি তালডাংরা থানার পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও ‘এক ঘণ্টা পর’ তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে বলে বিজেপির তরফে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিজেপির তালডাংরা বিধানসভা আহ্বায়ক বিপত্তারন সেন বলেন, “শুধুমাত্র পতাকা টাঙানোর অপরাধে আমাদের তালডাংরা মণ্ডল ১-এর সাধারণ সম্পাদককে লাঠি দিয়ে ব্যাপক মারধর করেছে তৃণমূল।”

অন্য দিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিজেপির এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে। তালডাংরা ব্লক তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক মনসারাম লায়েক বলেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। বিজেপি ইন্দপুর থানা এলাকা থেকে লোকজন এনে ঝামেলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এই ঘটনায় তৃণমূলের কেউ জড়িত নেই দাবি করে তিনি বলেন, “অনুমতি ছাড়াই বিজেপি পতাকা টাঙাচ্ছিল। এই নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিজেপির ঝামেলা হয়েছে বলে শুনেছি।”

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here