mukul roy and dilip ghosh

শিলিগুড়ি: রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় চলছে বিজেপির জন জাগরণ যাত্রা। আগামী ২০১৯ লোকসভা ভোটকে পাখির চোখ করেই যে এই বিশেষ প্রচার কর্মসূচি, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বৃহস্পতিবার সেই কর্মসূচির অঙ্গ হিসাবেই শিলিগুড়িতে আয়োজিত হচ্ছে বিজেপির মহামিছিল। প্রচারের পাশাপাশি নিজদের সাংগঠনিক ক্ষমতা ঝালিয়ে নেওয়ার এই মিছিলে নেতৃত্ব দিতে শিলিগুড়ি আসছেন বিজেপির রাজ্য সম্পাদক দিলীপ ঘোষ এবং তৃণমূল ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে যাওয়া মুকুল রায়।

এ মুহূর্তে শিলিগুড়িতে বিজেপির সংগঠন মূলত নেতা-সমর্থক কেন্দ্রিক। অর্থাৎ সংগঠনের প্রসারে যে সংখ্যক কর্মীর প্রয়োজন হয়, তা নিতান্তই কম। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরপরই মুকুলবাবু শিলিগুড়িতে ঘুরে গিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, সে কারণেই হয়তো মুকুলবাবুকে সঙ্গী করে শিলিগুড়ি আসছেন রাজ্য সভাপতি। তাঁদের লক্ষ্য, এখানকার তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীকে দলে টানা। কারণ মুকুলবাবু বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে থেকেই এ ধরনের বেশ কয়েক জন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। কেউ কেউ আবার বিজেপির পতাকা বহন করার কথা প্রকাশ্যেই বলতে শুরু করেছেন। ফলে তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়া ওই সমস্ত নেতাদের কাছে টানাই এখন তাঁদের মূল লক্ষ্য। আর সে কাজে সফল হতে পারলে উত্তরবঙ্গের ছ’টি লোকসভায় সংগঠনের শক্তি অনেকটাই বাড়াতে পারবে বিজেপি।

মহামিছিলকে আরও বেশি প্রচারের আলোয় নিয়ে আসতে বাংলা থেকে নির্বাচিত বিজেপির দুই কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীকেও হাজির করানোর যাবতীয় তোড়জোড় চলছে। তেমন হলে ওই মিছিলে বাবুল সুপ্রিয় এবং এস এস আলুওয়ালিয়াকে দেখা যেতে পারে দিলীপবাবুর পাশে। সাংসদদের হাজির করে বিজেপি বোঝাতে চায়, শুধু মাত্র আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচন নয়, ২০১৯-এর সাধারণ নির্বাচনই তাঁদের লক্ষ্য। তাই দলের সাংসদরা নিজের এলাকা তো বটেই সারা দেশের উন্নয়নে কী ভাবে অংশ নিচ্ছেন, তা জনগণের কাছে তুলে ধরতে চায় দল। প্রাথমিক ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এখানকার বাঘাযতীন পার্কে ওই দুই সাংসদ বক্তব্য রাখবেন।

উল্লেখ্য, ওই মিছিল শিলিগুড়িতে আয়োজিত হলেও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলিতেও প্রভাব ফেলতে চাইছেন নেতৃত্ব। স্থির হয়েছে, মুকুলবাবু আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং জলপাইগুড়িতেও একই ধাঁচের মিছিলে অংশ নেবেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here