ভাঙড়: শুক্রবার সকালে ভাঙড়ের হাড়োয়া রোড থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্যে চলা অবরোধ তুলে নিলেন আন্দোলনকারীরা। ভাঙড়ের মাঝিভাঙা গ্রামে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে আন্দোলনের অন্যতম মুখ সিপিআই (এমএল) রেডস্টার নেতা অলীক চক্রবর্তী জানান, অবরোধের ফলে জনজীবনের স্বাভাবিকতা অনেকটাই বিপর্যস্ত হয়েছে। এখন জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে লাউহাটি থেকে খামারআইটের বিস্তীর্ণ এলাকায় পাওয়ার গ্রিড প্রকল্প বাতিলের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্যে যে অবরোধ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হল।

পাওয়ার গ্রিডের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরা বারেবারেই হাড়োয়া রোড অবরোধ করার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল স্থানীয় মানুষের রুজি। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছিলেন স্কুল বা কলেজ পড়ুয়ারাও। এদিন অবরোধ তুলে্ নেওয়ার পরে আশা করা যাচ্ছে, উত্তপ্ত ভাঙড় ফের শান্ত হবে।

এদিন মাঝিভাঙা গ্রামে ওই সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জমি-জীবিকা-বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির নেতারাও। কমিটির তরফে মহাদেব মণ্ডল জানিয়েছেন, অবরোধ তুলে নেওয়ার অর্থ এলা্কায় গ্রিড প্রকল্প করতে দেওয়ার ছাড়পত্র নয়। আমরা চাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসুন। কমিটির তরফে পাওয়ার গ্রিড প্রকল্প বাতিল ও ধৃতদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে কলকাতায় ৩০ জানুয়ারি একটি মহামিছিল করারও ডাক দেওয়া হয়েছে।

এদিন সিপিআই (এমএল) রেডস্টারের পক্ষে শংকর দাস বলেছেন, অবরোধ তুলে নেওয়ার মানে আন্দোলন থেকে পিছু হঠা নয়। এটা একটি কৌশলগত পর্যায়‌। আমরা চাই সরকার অবিলম্বে আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসুক। তাতেই সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে এখনও আমাদের আশা।

এদিন বেলা গড়াতেই ভাঙড়ের জনজীবন একটু একটু করে স্বাভাবিক গতি ফিরে পেতে থাকে। আন্দোলনের জেরে স্থানীয় হাটগুলি দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। গোলমালের ভয়ে স্থানীয় বাজারগুলিতে অধিকাংশ দোকানপাটও বন্ধ রাখছিলেন ব্যবসায়ীরা। সেগুলির ঝাঁপ একটু একটু করে ফের খুলতে শুরু করেছে। ভাঙড়ের গ্রামবাসীরা এখন পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর পাওয়ার গ্রিড প্রকল্প নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী সিদ্ধান্ত নেন, তা দেখার জন্যে অপেক্ষা করছেন।

মাছিভাঙা গ্রামের বাসিন্দা গোলাম মহিউদ্দিন যেমন বললেন, দিদিই এখন আমাদের শেষ ভরসা। পাওয়ার গ্রিড প্রকল্পে্র জন্যে অধিগৃহীত জমি সরকার যদি আমাদের আর ফেরতও না দেন, সেও আমরা মেনে নিতে রাজি আছি। তবে গ্রিড প্রকল্পটি যেন ভাঙড়ে না হয়, আশা করি মুখ্যমন্ত্রী এ বিষয়টি বিবেচনা করবেন।

স্বভাবতই গোটা বিষয়টি এখন দাঁড়িয়ে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাওয়ার গ্রিড প্রকল্প নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবেন তার ওপরই।

এদিন মাছিভাঙায় সাংবাদিক বৈঠকে জমি-জীবিকা-বাস্ততন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির নেতারা দাবি করেন, রেডস্টারের দুই নেতানেত্রী প্রদীপ সিংহ ঠাকুর, শর্মিষ্ঠা চৌধুরী ছাড়া শতাধিক আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁদের নিঃশর্ত মুক্তির ব্যাপারেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তাঁরা।

গত মাসখানেক ধরে ভাঙড়ের ওই পাওয়ার গ্রিড প্রকল্প বাতিলের দাবি নিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় দফায় দফায় ছড়িয়ে পড়েছিল অশান্তি। ইতিমধ্যে গুলিতে দুই গ্রামবাসীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের লাঠির ঘায়ে জখম হয়েছেন বহু গ্রামবাসী।

এদিন কমিটির তরফে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে অলীক চক্রবর্তী-সহ আন্দোলনকারীদের তরফে অন্য নেতারা স্পষ্টভাবে জানান, নিরীহ গ্রামবাসীদের ইতিমধ্যে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছেন তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত ও বিতর্কিত তৃণমূল নেতা আরাবুলের সাঙ্গপাঙ্গরা। ওঁরা ফের এলাকায় ঢুকে গ্রামবাসীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করলে তার পরিণাম ভালো হবে না।

এলাকা থেকে পুলিশ ও র‍্যাফ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে রেডস্টারের তরফে। প্রসঙ্গত, চলতি মাসের গোড়ায় হাড়োয়া রোড অবরোধ করে খামারআইটে পাওয়ার গ্রিড় প্রকল্পের সামনে দিনভর অবস্থান করার পর, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক ২৫ জানুয়ারির ভিতর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারপক্ষ আলোচনায় বসবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। ওই সময়সীমা অতিক্রান্ত হলেও এপর্যন্ত রাজ্য সরকার ওই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ব্যাপারে কোনও উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ।

তবে আন্দোলনকারীরা এখনই জঙ্গি প্রতিবাদের রাস্তায় ফের যেতে চান না বলে এদিন কমিটির নেতারা জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here