in search of bomb

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: ‘কাগুজে বাঘ’ কথাটা প্রায়ই শোনা যায়। এ বার ‘কাগুজে বোমা’ প্রত্যক্ষ করল জলপাইগুড়ি। আর সেই ‘কাগুজে বোমা’ শব্দ করে ফাটল না ঠিকই, কিন্তু তা নিয়ে শোরগোল চলল দিনভর।

জলপাইগুড়ি শহর সংলগ্ন খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ফকিরপাড়া অঞ্চল। সদ্যসমাপ্ত পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই ফকিরপাড়া অঞ্চল থেকে সিপিএম প্রার্থী প্রকাশ রায় জিতেছেন। সেই উল্লাসে রবিবার দুপুরে এলাকায় বিজয় মিছিল করার কথা সিপিএমের। তার আগেই অঘটন।

এ দিন সকালে উঠোন ঝাঁট দেওয়ার সময় প্রকাশবাবুর স্ত্রী রেবতী দেবী দেখতে পান সুতলি পাকানো বেশ বড়োসড়ো একটি বস্তু পড়ে আছে বাড়ির সামনে। তিনি স্বামীকে এনে দেখাতেই চমকে ওঠেন তিনি। কারণ আকার-আয়তন দেখে ‘অভিজ্ঞ’ প্রকাশবাবু বুঝতে পারেন এটি হাত-বোমা। খবর পেতেই দলে দলে লোক এসে হাজির হয়। খবর পেয়ে আসে কোতোয়ালি থানার পুলিশ। তারা তল্লাশি করে বাড়ির পেছনে খড়ের গাদা থেকে আরও একটি একই ধরনের ‘বোমা’ উদ্ধার করে। এ বার ছড়ায় আতঙ্ক। সেই সঙ্গে ক্ষোভও ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে স্থানীয় সিপিএম কর্মী-সমর্থকেরা। সদ্য নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্য প্রকাশ রায় অভিযোগ করেন, মাত্র ৮ ভোটে হেরেছে তৃণমূল প্রার্থী শিবু রায়। সেই হারের বদলা নিতেই তাঁকে হেনস্থা করতে বাড়ির মধ্যে বোমা রেখে দেওয়া হয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, যে হেতু আজ বিজয় মিছিল তাই সেটা বানচাল করতেই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা।

no real bomb
‘কাগুজে বোমা’।

যদিও অভিযোগ মানাতে নারাজ মাত্র ৮ ভোটে হেরে যাওয়া তৃণমূল প্রার্থী শিবু রায়। তাঁর বক্তব্য, “সব সিপিএমের নাটক”। এলাকার তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি সুভাষ চন্দ একধাপ এগিয়ে বলেছেন, ওটা কোনো বোমাই নয়। প্রচার পাওয়ার জন্য সিপিএম প্রার্থী নিজেই ‘নকল বোমা’ বানিয়ে বাড়ির মধ্যে রেখেছেন।

এই টানাটানির মধ্যেই পুলিশ সেই বোমা দু’টিকে উদ্ধার করে জলের বালতিতে করে থানায় নিয়ে যেতে চায়। তখন বেঁকে বসেন স্থানীয়রা। কারণ ততক্ষণে তাঁদের মনেও বোমার আসল-নকল নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। পুলিশকে ঘিরে ধরে আটকে রাখেন তাঁরা। দাবি করেন, বোম্ব স্কোয়াড নিয়ে এসে ঘটনার তদন্ত করতে হবে। বোমাগুলি আসল না নকল সেটা বের করার পাশাপাশি আরও কোথাও বোমা লুকোনো রয়েছে কিনা তাও তল্লাশি করে দেখার দাবি তোলেন সকলে।

শেষ পর্যন্ত পুলিশের স্নিফার ডগ নিয়ে আসা হয়। যদিও সারা দিন তন্নতন্ন করে খুঁজেও আর সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি এলাকায়। পাওয়া বোমা দু’টিও স্নিফার ডগ দিয়ে পরীক্ষা করানোর পর পুলিশকর্মীরা বুঝে যান সে দু’টিও ভূয়ো। পরীক্ষা করার পর দেখা যায় কাগজের কুচির ওপর সুতলি পেঁচিয়ে বোমার আকার দেওয়া হয়েছে।

জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি জানিয়েছেন, পাওয়া বস্তু দু’টি আদপেই বোমা নয়। আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই সেগুলি রাখা হয়েছিল। কে বা কারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন পুলিশ সুপার।

তবে যা বানচাল করার জন্য এই কাণ্ড ঘটানো হয়েছিল বলে ‘অভিযোগ’, সেই বিজয় মিছিল অতি উৎসাহের সঙ্গে সম্পন্ন করে সিপিএম। দিনের শেষে বস্তুদু’টিকে জলে ডুবিয়ে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে আসা হয়।

দিনভর টানাটানিতেও ‘কাগুজে বোমা’ দু’টি ফাটেনি। তবে যা গুজব ‘ফাটিয়েছিল’, তাতে রবিবাসরীয় ছুটির দিনটা ভরপুর উত্তেজনাতেই কাটল, সেটাই বা কম কীসে, বলছেন গ্রামবাসীরা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here