book bank and toy bank

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: ‘বুক ব্যাঙ্ক অ্যান্ড টয় ব্যাঙ্ক’।

কোনো বই বা খেলনার দোকানের নাম নয়, এটি জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসনের একটি উদ্যোগ। প্রত্যন্ত এলাকার দুঃস্থ শিশুদের কাছে বই-খেলনা পৌছে দেওয়ার একটি অভিনব প্রয়াস, যাতে শিশুমনের সঠিক বিকাশ ঘটে।

ভাবনাটি মাথায় ছিল পীযূষ সাহার। তিনি সুসংহত শিশু বিকাশ প্রকল্পের (আইসিডিএস) জলপাইগুড়ি জেলা কার্যক্রম আধিকারিক। কর্মসূত্রে বিভিন্ন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে গিয়ে তিনি লক্ষ করেছিলেন, একেবারে দুঃস্থ পরিবার থেকে আসা শিশুগুলির সম্পূর্ণ মননশীল বিকাশ হচ্ছে না। কারণ হাজার হাজার টাকা খরচ করে শহুরে শিশুদের মতো তাদের নার্সারি বা কিন্ডারগার্ডেনে ভর্তি করা সম্ভব নয়।
তা বলে আর্থিক রুগ্নতার কারণে পিছিয়ে থাকবে প্রত্যন্ত এলাকার শিশুগুলি? এতে মন সায় দেয়নি তাঁর।
যেমন ভাবনা তেমন কাজ। জেলাশাসক রচনা ভগতকে তাঁর পরিকল্পনার কথা জানান পীযূষবাবু। প্রস্তাবটি মনে ধরে যায় এই কর্মঠ জেলাশাসকেরও। যার ফল এই অভিনব উদ্যোগ।
বৃহস্পতিবার এর আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন জেলাশাসক রচনা ভগত। ছিলেন প্রশাসনের আধিকারিকরা। জেলার বাছাই করা কিছু অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ও হোমের হাতে তুলে দেওয়া হয় ছয় হাজার বই ও কিছু খেলনাসামগ্রী।
জেলাশাসক জানিয়েছেন, এই উদ্যোগ বিরামহীন ভাবে চলবে।
book and toy bank
তবে উদ্যোগটি সহজ ছিল না। পীযূষবাবু জানিয়েছেন, বহু প্রকাশক বিনামূল্যে বই দিয়েছেন। তার বাইরে অনেক সরকারি কর্মচারী সাধ্যমতো নিজেদের টাকা দিয়ে  বই বা খেলনা কিনে দিয়েছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে জোগাড় করা হয়েছে খেলনা অথবা বই। আইসিডিএস, নারী-শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতর, এবং জেলা প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সফল এই উদ্যোগ।
আইসিডিএস দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার ৩০১টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রকে ‘শিশুআলয়’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই সব অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রেই এই বই এবং খেলনা পাঠানো হবে। সেখানে আসা শিশুরা নিজেদের মতো করে তা ব্যবহার করবে।
বৃহস্পতিবার কিছু অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর হাতে সেগুলি তুলে দেন জেলাশাসক ও অন্যান্য আধিকারিক। জলপাইগুড়িতে বেশ কয়েকটি হোম রয়েছে যেখানে পরিবারহীন বা হতদরিদ্র পরিবারের শিশুরা থাকে।  ‘কোরক’, ‘নিজলয়’-সহ এ রকম কয়েকটি হোমের প্রতিনিধিদের হাতেও বই ও খেলনা তুলে দেওয়া হয়। এই সব শিশুর কাছে এই বইগুলি আর্থিক কারণে দুষ্প্রাপ্য আর খেলনা হাতে পাওয়া তো স্বপ্ন।  এগুলি হাতে পাওয়ার পর কচিকাঁচা মুখগুলি যে হাসিতে ভরে উঠবে তা নিয়ে নিশ্চিত শিশুআলয় বা হোমের প্রতিনিধিরা। ‘কোরক’ হোমের সুপার প্রণয় দে জানিয়েছেন, প্রশাসনের উদ্যোগ এই শিশুদের মননশীল বিকাশে সহায়তা করবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here