Breach: Mamata will not let the opponents 'issue' before the panchayat
আন্দোলনের দিনগুলি। ফাইল চিত্র

কলকাতা: ভাঙড়ে শুরু হওয়া ১২০০ কোটি টাকার পাওয়ার গ্রিড প্রকল্পের বিরোধিতায় শুরু হওয়া আন্দোলন গত দু’দিন ধরে অন্য মাত্রা পেয়ে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে একত্রিত হচ্ছে বিরোধী দলগুলি। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কংগ্রেস-সিপিএম বা অন্যান্য বামপন্থী সংগঠনগুলি স্থানীয় একটি ক্ষোভকে কবজা করে বৃহত্তর আন্দোলনে পরিণত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাদের হয়তো মনে হচ্ছে আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভাঙড়কে বড়োসড়ো ইস্যুতে পরিণত করা যেতে পারে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই ভাবনার গোড়াতেই জল ঢেলে দিতে চান।

এমনিতে পাওয়ার গ্রিডটি যেহেতু কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্প, সে কারণেই হয়তো বিজেপির পক্ষ থেকে দায় এড়িয়ে যাওয়া গোছের মন্তব্য করা হচ্ছে বলেই ধারণা করা যেতে পারে। কিন্তু বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে খোদ চেয়ারম্যান বিমান বসুর বক্তব্য পেশও যথেষ্ট ইঙ্গিতবাহী। তিনি নিরীহ মিছিলে শাসক দলের হামলার নিন্দা করেছেন। অর্থাৎ, ভাঙড়ের জমি-জীবিকা কমিটির বিরুদ্ধে রাজ্যের শাসক দলের সংঘর্ষই তাঁর কাছে মুখ্য বিষয়। কিন্তু আদতে কি তাই?

পাওয়ার গ্রিড প্রকল্পে যাঁদের জমি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হবে, তাঁরা কি সবাই তৃণমূল বিরোধী। অন্তত একাধিক জমি আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া মমতা তা কোনো মতেই বিশ্বাস করেন না। যে কারণে তিনি বিষয়টিকে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত না করে বিষয়টিকে আর্থ-সামাজিক দিক থেকে বিচার-বিশ্লেষণ করতে চাইছেন।

গত কাল নবান্নের বৈঠকে সে কথাই বোঝাতে চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করলেন, যে সব জমির উপর দিয়ে পাওয়ার গ্রিডের উচ্চ বিদ্যুৎবাহী তার যাবে, সেই সব জমির মালিককেও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। নবান্নের এই বৈঠকের কথা ভালো ভাবেই জানতেন বিরোধী দলের নেতৃত্ব। যে কারণে মানুষের সাময়িক ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে ওই বৈঠকে এক দিন আগেই ভাঙড়কে বিশেষ পন্থায় সংবাদ শিরোনামে তুলে নিয়ে আসা হল।

শাসক দলের নেতারা প্রথম থেকেই অভিযোগ করে আসছেন, স্থানীয় মানুষকে ভয় দেখিয়ে মিছিল-মিটিংয়ে সামিল করানো হচ্ছে। এ কথা কতটা সত্য, তা নিয়ে দ্বিমত থাকতেই পারে। কিন্তু পাওয়ার গ্রিড সংলগ্ন এলাকায় রাজনৈতিক দলগুলির সাম্প্রতিক কার্যকলাপ স্থানীয় মানুষকে আদতে ভীত-সন্ত্রস্ত করে তুলেছে। অতীতের কিছু জমি আন্দোলনের পোড় খাওয়া নেতাও ভাঙড়ে আসছেন। আর নিত্য দিন বোমা-আগ্নেয়াস্ত্রের হদিশ মেলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সব মিলিয়ে ভাঙড়কে রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসার প্রচেষ্টা চলছে বিরোধী দলগুলির পক্ষ থেকে। কিন্তু জমি কমিটির আন্দোলনকে পুলিশ প্ৰশাসনকে কাজে লাগিয়ে দমিয়ে না রেখে তাদের দাবি-দাওয়াগুলি পূরণ করার দিকে মনোযোগী হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি চান না, অন্য কোনো পন্থায় আন্দোলনকে দমন করতে গিয়ে প্রকল্পের কাজ বিলম্বিত হোক অথবা তাঁর সরকার নীতিভ্রষ্ট হোক।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here