বুলবুল আপডেট: দক্ষিণ ২৪ পরগণা পরিদর্শনের পর ক্ষতিপূরণের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

1

ওয়েবডেস্ক: দক্ষিণবঙ্গে ধ্বংসলীলা চালিয়ে বাংলাদেশের দিকে পাড়ি দিল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। এর প্রভাবে দক্ষিণ ২৪ পরগণা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বুলবুলের সব আপডেট পেতে চোখ রাখুন এখানে।

=============================================

১১ নভেম্বর

বেলা ৩টে বুলবুলে বিধ্বস্ত দক্ষিণ ২৪ পরগণায় বিস্তীর্ণ এলাকা আকাশপথে পরিদর্শনের পর আর্থিক ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বুলবুলে মৃতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

এ দিন আকাশপথে পরিদর্শনের পর, কাকদ্বীপে প্রশাসনিক বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত খতিয়ান চান মমতা।

হেলিকপ্টার থেকে দেখা অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, উপকূলবর্তী এলাকায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পান এবং ধান উপকূলবর্তী এলাকায় ১০০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমির কতটা ফসলবিমার অন্তর্ভুক্ত, তা জেলা কৃষি আধিকারিকদের কাছে জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে জানানো হয় এই পরিমাণ ১ লাখ ১৫ হাজার হেক্টর। অর্থাৎ মোট কৃষিজমির অর্ধেকের ফসল বিমার অন্তর্ভুক্ত। শোনার পর তিনি ১০০ শতাংশ জমি ফসলবিমার অন্তর্ভুক্ত করতে নির্দেশ দেন।

বেশ কিছু জায়গায় বাঁধ ভেঙেছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। সেই বাঁধ দ্রুত সারানোর জন্য নির্দেশ দেন তিনি। বাঁধ বাঁচাতে আরও ম্যানগ্রোভ লাগানোরও পরামর্শ দেন তিনি। রাজ্যে এখনও পড়ন্ত ৬ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত বলে জানান তিনি, তবে সংখ্যাটা দশ লক্ষ ছাড়াতে পারে বলেও আশঙ্কাপ্রকাশ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, গোটা রাজ্যে প্রায় ২ লাখ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত।

এ ছাড়াও দ্রুত বিদ্যুৎ ফিরিয়ে আনা, পানীয় জলের সমস্যা দূরীকরণের জন্যও সংশ্লিষ্ট মহলকে নির্দেশ দেন মমতা। তাঁকে জানানো হয়, পুরো পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক করতে অন্তত সাত থেকে দশ দিন সময় লাগবে।

বেলা ১২:৩০ ত্রাণের দাবিতে বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ। বকখালি, ফ্রেজারগঞ্জ-সহ বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এরই মধ্যে মৃত্যু হয়েছে আরও একজনের। বুলবুলের দাপটে নামখানায় ডুবে যাওয়া ট্রলারের চালকের মৃতদের উদ্ধার করা হয়েছে।

সকাল ৮টা: রাজ্যে বুলবুলের দাপটে এখনও পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে সরকারি সূত্রে মৃতের সংখ্যা ৭। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, বুলবুলের দাপটে প্রভাবিত হয়েছে প্রায় ৪ লক্ষ ৬৫ হাজার মানুষ। এঁদের মধ্যে ১ লক্ষ ৭৮ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে। মোট ৪৭১টি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছিল, তবে অনেক জায়গাতেই ত্রাণশিবির থেকে মানুষ নিজেদের বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। দুই ২৪ পরগণা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে বিপর্যস্ত মোবাইল এবং বিদ্যুৎ পরিষেবা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মোট ৩৪টি সাবস্টেশন। ১০৫০ মোবাইল টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত।

আজ আকাশপথে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিদর্শন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর কাকদ্বীপে প্রশাসনিক বৈঠক করবেন তিনি।

***** ১০ নভেম্বর

বেলা ৩টে বুলবুলের তাণ্ডবে মাথার উপর ছাদ হারানোর পর ত্রাণ না পেয়ে পথ অবরোধ করলেন ক্যানিংয়ের ইটখোলার বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, গত শনিবার রাতে ঝড়ের প্রকোপে তাঁরা মাথার উপর ছাদ হারিয়েছেন। স্থায়ী বাসস্থান হারিয়ে তাঁরা অসহায়তা বোধ করছেন। কিন্তু সরকারি ভাবে কোনো ত্রাণ পাননি। যে কারণে তাঁরা পথ অবরোধে বসেছেন। এ দিন তাঁরা ক্যানিং-গোলাবাড়ি রাস্তা অবরোধ করেন।

এখন পর্যন্ত ২ লক্ষ ৭৩ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে খবর মিলেছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সেখানে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে এক জন করে প্রাণ হারিয়েছেন। তবে রাজ্য সরকার জানিয়েছে, বুলবুলে প্রভাবে এখনও পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।

দুপুর ১টা উত্তরবঙ্গ সফর বাতিল করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বুলবুল প্রভাবিত এলাকাগুলির ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে নামখানা, বকখালি এবং বসিরহাট যাবেন। বিস্তারিত এখানে…

বেলা ১১টা ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের দাপটে এখনও পর্যন্ত রাজ্যে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। বসিরহাটে দু’জন এবং নন্দীগ্রাম, হিঙ্গলগঞ্জ, নোদাখালি এবং কলকাতায় একজন করে ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গোটা ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

রবিবার টুইট করে মোদী জানান, “পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। কেন্দ্রের তরফ থেকে সব রকম আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। দুর্গত মানুষদের পাশে রয়েছি আমরা।”

সকাল ৯টা: বুলবুলের তাণ্ডবে রাজ্যে তিন জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। শনিবার সকালে কলকাতায় গাছ পড়ে মারা যান এক ব্যক্তি। এ ছাড়াও গাছ পড়ে নন্দীগ্রাম এবং বসিরহাটে দুই মহিলের মৃত্যু হয়েছে। নোদাখালিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।

সকাল ৮টা: কলকাতা, পার্শ্ববর্তী অঞ্চল, পূর্ব মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগণায় ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়ে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ক্রমশ বাংলাদেশের দিকে এগোচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে জানা যাচ্ছে, এই মুহূর্তে বুলবুলের মূল কেন্দ্রটি বাংলাদেশের দিকে ঢুকে গিয়েছে। তবে তার বাইরের একটি অংশ এখনও দক্ষিণ ২৪ পরগণার ওপরে রয়েছে। ফলে কলকাতা বা তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বৃষ্টি এবং ঝড়ের দাপট কার্যত থেমে গেলেও, দক্ষিণ ২৪ পরগণার কিছু অংশে ঝোড়ো হাওয়া এখনও চলছে।

বুলবুলের প্রভাবে দক্ষিণ ২৪ পরগণা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের সেই কথা জানিয়েছেন। তবে ক্ষতির পরিমাণ ঠিক কতটা, সেটা আজ বিকেলের আগে জানা জানে না।

তবে বেলা যতো গড়াবে আবহাওয়া ধীরে ধীরে ভালো হতে শুরু করবে। ঝোড়ো হাওয়ার দাপটও কমে আসবে। আজ বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই রোদের দেখা পাওয়া যাবে।

*********************************************************

৮ নভেম্বর

***** রাত ১২টা: বুলবুলের কেন্দ্রস্থল কলকাতার সব থেকে কাছে। ফলে রাত বাড়তেই শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঝড়ের দাপট বেড়েছে। সারা সন্ধ্যায় যেখানে গড়ে ৫০ থেকে ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া দিয়েছে, সেখানে এই মুহূর্তে ৭৫ থেকে ৮০ কিমি বেগে হাওয়া দিচ্ছে। ইতিমধ্যে শহরে বেশি কিছু জায়গায় গাছ পড়েছে। আগামী ২-৩ ঘণ্টায় হাওয়ার এই দাপট থাকতে পারে। ফলে আরও গাছ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে শহরে। তবে শনিবার শেষরাত থেকে কলকাতার আবহাওয়ায় লক্ষণীয় উন্নতি ধরা পড়বে।

***** রাত ১০:১৫: প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের দাপটে রাজ্যের উপকূলবর্তী অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ রবিবার জানা যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। সব থেকে বেশি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পূর্ব মেদিনীপুরে। ১ লক্ষ ৬৪ হাজারের কিছু বেশি মানুষকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়া মানুষদের আর্থিক সাহায্য করবে রাজ্য সরকার।

***** রাত সাড়ে ন’টা এখনও পর্যন্ত হাওয়ার গতিবেগ খুব একটা বাড়েনি কলকাতায়। মাঝেমধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিমি বেগে হাওয়া দিচ্ছে। তবে ইতিমধ্যে কলকাতায় আরও একটি গাছ বেহে পড়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। রিজেন্ট পার্ক এলাকায় গাছ ভেঙে পড়েছে।

***** রাত ৯টা: শক্তি কিছুটা কমিয়ে বকখালির কাছাকাছি আছড়ে পড়ল প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল

***** রাত সাড়ে ৮টা বুলবুলের জেরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি পূর্ব মেদিনীপুরে। নয়াচর, খেজুরি, নন্দীগ্রাম-সহ বিভিন্ন অঞ্চলে ভেঙে পড়েছে প্রচুর কাঁচা বাড়ি। আজ রাত ন’টা থেকে বারুইপুরের পর শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখায় ট্রেন চলাচল বন্ধ।

***** রাত ৮টা: কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে বুলবুলের ‘আই’ এখনও সাগরদ্বীপ থেকে ৪০ কিমি দূরে রয়েছে।

***** সন্ধ্যা ৭:১৫: প্রবল দুর্যোগ সঙ্গে নিয়ে সাগরদ্বীপে আছড়ে পড়তে চলেছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, তার বর্তমান হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিমি। এই মুহূর্তে দক্ষিণ ২৪ পরগণা এবং লাগোয়া পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলে তাণ্ডব চালাচ্ছে বুলবুল। কাঁচা বাড়ি প্রায় কিছুই আস্ত নেই বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী সুভেন্দু অধিকারী। তবে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ফলে প্রাণহানির আশঙ্কা কম।

***** সন্ধ্যা ৬:৪৫: এই মুহূর্তে সাগরদ্বীপ থেকে ৬০ এবং কলকাতা থেকে ১৬০ কিমি দক্ষিণ দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান বুলবুলের। একাধিক কাঁচা বাড়ি ভেঙে পড়েছে বলে খবর।

***** সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা: বালিগঞ্জের সানি পার্কে আরও একটি গাছ পড়েছে। দুটি গাড়ির ওপরে গাছ পড়েছে। তবে গাড়িটির মধ্যে কেউ ছিল না বলে হতাহতের কোনো খবর নেই।

***** সন্ধ্যা ৬টা: দক্ষিণ ২৪ পরগণার ইতিহারে অন্যতম ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড় হতে পারে বুলবুল।

***** সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটা: বুলবুল সাগরদ্বীপ থেকে ৭০ কিমি দূরে রয়েছে। তবে দক্ষিণ ২৪ পরগণা জুড়ে তাণ্ডবলীলা চালাচ্ছে বুলবুল।

***** সন্ধ্যা ৫:১৫– মনে করা হচ্ছিল আছড়ে পড়ার আগে কিছুটা দুর্বল হতে পারে বুলবুল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, সেটি দুর্বল হবে না। বরং অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়েই বকখালির কাছাকাছি কোনো অঞ্চল দিয়ে স্থলভাগে ঢুকবে বুলবুল।

***** বিকেল ৪:২০ নবান্নের কন্ট্রোল রুম থেকে গোটা পরিস্থিতির ওপরে নজর রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আতঙ্কের কারণ নেই, আশ্বাস তাঁর।

৯ নভেম্বর, বিকেল চারটে

কলকাতা থেকে ১৮৫ এবং সাগরদ্বীপ থেকে ৮৫ কিমি দূরে রয়েছে বুলবুল। আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগামীকাল সকাল ৬টা পর্যন্ত বন্ধ করা হল কলকাতা বিমানবন্দরকে।

৯ নভেম্বর, বিকেল সাড়ে তিনটে

কিছুক্ষণের মধ্যেই বুলবুলের ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে গঙ্গাসাগর অঞ্চলে। তবে এখন থেকেই দক্ষিণ ২৪ পরগণায় ব্যাপক তাণ্ডব চালাচ্ছে বুলবুল। হাওয়ার গতিবেগ সর্বোচ্চ ১০০ কিমি ছুঁয়েছে। ধীরে ধীরে জলোচ্ছ্বাসও দেখা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগণার পরিস্থিতি বেশ জটিল।

৯ নভেম্বর, দুপুর ২:৪৫

ক্রমশ এগিয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। খারাপ হচ্ছে আবহাওয়ার পরিস্থিতি। ইতিমধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগণা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী এলাকায় ১০০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করে দিয়েছে। কলকাতাতেও বাড়ছে হাওয়ার গতিবেগ। তবে ঝড় আসার আগেই কলকাতায় একজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হল।

৯ নভেম্বর, দুপুর দুটো

শক্তি কমানো শুরু করল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। বর্তমানে তার বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ১৫০ কিমি। আগামী কয়েকঘন্টায় সেটি আরও গতিবেগ কমিয়ে। আজ রাত আটটা নাগাদ ১৩৫ কিমি বেগে সুন্দরবন অতিক্রম করা শুরু করবে বুলবুল। এই মুহূর্তে সেটি সাগরদ্বীপ থেকে ১১০ কিমি দক্ষিণ দক্ষিণপশ্চিম দিকে অবস্থান করছে।

৯ নভেম্বর, বেলা বারোটা

গতিপথে কিছুটা পরিবর্তন করল বুলবুল। এখন সে উত্তরমুখী পথ ছেড়ে উত্তরপূর্বমুখী হয়েছে। আজ বিকেল থেকে বুলবুলের ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। ঘণ্টা দুয়েক পর থেকেই বুলবুলের প্রভাব টের পেতে শুরু করবে কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলি। ইতিমধ্যে উপকূলবর্তী অঞ্চলে ঘণ্টায় ৯৫ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করেছে।

৯ নভেম্বর, সকাল ১০:৩০

ওড়িশাতেও প্রভাব ফেলেছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল।

৯ নভেম্বর, সকাল ৮টা

সাগরদ্বীপের ২০০ কিমির মধ্যে চলে এসেছে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। এর ফলে কলকাতা, পার্শ্ববর্তী অঞ্চল এবং উপকূলবর্তী অঞ্চলে ভোর থেকে বৃষ্টি এবং হাওয়ার দাপট বেড়েছে।

আজ দুপুরের পর থেকে সাগরদ্বীপে বুলবুলের ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। রাত ১০টা নাগাদ পুরোপুরি ল্যান্ডফল করবে সে। ফলে আজ দুপুর থেকে আবহাওয়া আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা। কলকাতায় এখন ঘণ্টায় ২৫ থেকে ৩৫ কিমি বেগে এবং উপকূলে ৬৫ থেকে ৭৫ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া দিচ্ছে। বুলবুল যতো এগোবে ততো বাড়বে হাওয়ার দাপট।

বুলবুল মোকাবিলায় আটঘাট বেঁধে নেমেছে প্রশাসন। উপকূলবর্তী এলাকায় চলছে মাইকিং। মানুষদের নিরাপদ জায়গায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

৮ নভেম্বর, রাত ১১টা

বাংলার হাতের কাছে চলে এসেছে বুলবুল। আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী এই ঝড় এখন সাগরদ্বীপ থেকে ৩৫০ এবং কলকাতা থেকে ৪৭০ কিমি দক্ষিণ দক্ষিণপশ্চিম দিকে অবস্থান করছে। এটি আগামী ৬ ঘণ্টায় আরও কিছুটা শক্তি বাড়িয়ে শনিবার সকাল থেকে শক্তি কমাতে শুরু করবে।

আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, শনিবার রাতে বুলবুল প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে সুন্দরবন অতিক্রম করবে। তবে আছড়ে পড়া, বা ল্যান্ডফলের প্রক্রিয়া শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হয়ে যেতে পারে। ফলে শনিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত কলকাতায় ৭০ থেকে ৭৫ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। মাঝেমধ্যে ৮৫ থেকে ১০০ কিমি বেগেও বইতে পারে হাওয়া।

উপকূলবর্তী অঞ্চল, বিশেষ দক্ষিণ এবং উত্তর ২৪ পরগণায় ঝড়ের গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১৩৫ কিমি পর্যন্ত। সেই সঙ্গে ব্যাপক বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা শনিবার ১৫০ থেকে ২০০ মিমি বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্য দিকে উপকূলবর্তী অঞ্চলে তিনশো মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে।

সমুদ্রে ব্যাপক জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগণায় স্বাভাবিকের থেকে দু’ মিটার পর্যন্ত বেশি ঢেউ হতে পারে। সৈকত থেকে দু’ কিমি পর্যন্ত মাঠঘাটে সমুদ্রের জল ঢুকে যেতে পারে। সব মিলিয়ে শনিবার দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

৮ নভেম্বর, দুপুর ২:২০

আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ বুলেটিন- বাংলার উপকূলের আরও কাছাকাছি চলে এসেছে বুলবুল। এই মুহূর্তে সেটি সাগরদ্বীপের ৪৫০ কিমি দক্ষিণ দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছে। শনিবার রাত থেকে রবিবার সকালের মধ্যে সেটি সাগরদ্বীপের কাছাকাছি অঞ্চল দিয়ে অতিক্রম করতে পারে। বুলবুল অতিক্রম করার সময়ে দক্ষিণ ২৪ পরগণায় ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১২০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

ঝড় যত এগিয়ে আসছে, ততোই বৃষ্টি বাড়ছে উপকূলে। এ দিন সকালে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হলেও, দুপুরের পর কলকাতাতেও বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা বেড়েছে। শুক্রবার রাত থেকে ঝোড়ো হাওয়া শুরু হয়ে যাবে কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে।

৮ নভেম্বর, সকাল সাড়ে ১১টা

ঝিরিঝিরি বৃষ্টি শুরু হয়েছে কলকাতায়। বুলবুলের মোকাবিলায় কী ব্যবস্থা নিয়েছে দুই ২৪ পরগণার জেলা প্রশাসন। দেখে নিন ক্লিক করে

৮ নভেম্বর ২০১৯, সকাল ১০টা

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল এখন অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত। এখন থেকে দক্ষিণবঙ্গে মেঘ ঢোকাতে শুরু করেছে বুলবুল। কোথাও কোথাও বৃষ্টিও শুরু হয়েছে।

রবিবার সকালেই সেটি সুন্দরবন অঞ্চল অতিক্রম করতে পারে। বাকি পথ অতিক্রম করার সময়ে সেটি আরও বেশ খানিকটা শক্তি বাড়াতে পারে। তবে আছড়ে পড়ার আগে কিছুটা শক্তিক্ষয়ের সম্ভাবনা রয়েছে তার।

তবে বুলবুলের যা মতিগতি তাতে সুন্দরবন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে বিস্তীর্ণ অঞ্চল। বাঁধ দুর্বল থাকলে সেখানে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন।

দক্ষিণবঙ্গের তিন জেলা, পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ এবং উত্তর ২৪ পরগণায় রেড আলার্ট জারি করা হয়েছে। এই সব অঞ্চলে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় চরম অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিমি পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।

দিঘা, মন্দারমণি, বকখালি এবং সুন্দরবন অঞ্চল থেকে পর্যটকদের ফিরে আসার আবেদন করা হচ্ছে। কাছাকাছি সাইক্লোন শেল্টারে পাঠানো হচ্ছে, কাঁচা বাড়িগুলিতে থাকা মানুষজনকে।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here