নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান: হঠাৎ এসে পড়লে মনে হবে সময় যেন থমকে রয়েছে এখানে। দেশে এখনও চলছে ব্রিটিশ শাসন বা কিছুদিন আগেই দেশ ছেড়ে গেছে লালমুখোরা।
মনে হওয়ার কারণ আছে বৈকি। আপনি দেখবেন, ছোটো ছেলেমেয়েরা চরকা কাটছে একমনে। তাদের চরকা কাটার তালিম দিচ্ছেন এক শিক্ষক।
কী বললেন? এটা আপনার আদৌ পুরোনো সময়ের কথা বলে মনে হচ্ছে না। আপনি মনে করছেন, খাদির ক্যালেন্ডার-ডায়রিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চরকা কাটার ছবি দেখে অনুপ্রাণিত হয়েই বর্ধমানের বড়শুলের কলানবগ্রামের এই স্কুলে পড়ুয়াদের চরকা কাটা শেখানো হচ্ছে ? 
না, একদম তা ভাববেন না।
শহর থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরের আচার্য প্রমথনাথ বুনিয়াদি বিদ্যালয়ের চরকা-দুটির সঙ্গে সরাসরি যোগ রয়েছে মহাত্মা গান্ধীর আদর্শের।  
মহাত্মার স্বদেশি আন্দোলনের আদর্শে অনুপ্রাণিত ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী বিজয়কুমার ভট্টাচার্য। তিনি গ্রামে কলানবগ্রাম শিক্ষা নিকেতন নামে স্কুল তৈরি করেন। সেটা ১৯৩৫ সাল। ছাত্রছাত্রীদের শুধু তত্ত্বগত দিক থেকে নয়, হাতে কলমে কাজ শিখতে উৎসাহ দিতেন বিজয়বাবু। বিদেশি সুতো বর্জন করে নিজের কাপড় যাতে নিজেরাই তৈরি করতে পারে, সেই লক্ষ্যে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি স্কুলে দেওয়া হতো চরকার পাঠ। একসময় প্রায় ১০০টি চরকা ছিল স্কুলে।
ধীরে ধীরে অত্যাধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার শুরু হলে জৌলুস কমতে থাকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। কমেছে পড়ুয়াদের সংখ্যাও । কিন্তু বিন্দুমাত্র আভিজাত্য কমেনি। তবে এখন রয়েছে মাত্র ২টি চরকা।
প্রধান শিক্ষক সুমন গঙ্গোপাধ্যায় বললেন, “আগে অরবিন্দ প্রকাশ বিদ্যায়তনে চরকায় সুতো কাটার ক্লাস নেওয়া হত। বছর ১৫ আগে শিক্ষা নিকেতনের আওতাভুক্ত এই বিদ্যায়তনটি সরকারি অনুমোদন পাওয়ায় চরকায় সুতো কাটার পাঠ নিয়ে যাওয়া হয় আচার্য প্রমথনাথ বুনিয়াদি বিদ্যালয়ে। সেখানে ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস এইট পর্যন্ত প্রতিটি ছাত্রছাত্রীকেই স্বনির্ভর হওয়ার জন্য শিক্ষা দেওয়া হয়। বিদ্যালয় ছুটি থাকে বুধবার। মঙ্গলবার অর্ধেক দিনের জন্য খোলা থাকে স্কুল।”
 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here