বনগাঁ: ২০২৪ সালের আগে বাংলায় সিএএ (CAA) লাগু হবেই। পঞ্চায়েত ভোটের আগে এ বার হুঙ্কার কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের (Shantanu Thakur)।

পঞ্চায়েত ভোটের আবহে মতুয়াদের নাগরিকত্ব নিয়ে আশ্বাস চলছেই বিজেপির তরফে। এরই মধ্যে ২৬ নভেম্বর একটি সভার আয়োজন করা হয়েছে ঠাকুরনগরে সিএএ নিয়ে। ওই সভায় যোগ দেওয়ার কথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামানিকের।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের দাবি, বিজেপির পক্ষ থেকেই ওই সভার আয়োজন করা হয়েছে। রবিবার ঠাকুরনগরে ওই সভার প্রস্তুতি সভার আয়োজন করেন শান্তনু। সেখানে বিজেপির অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায় শান্তনু বলেন, “২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগেই সারা ভারতবর্ষ জুড়ে সিএএ লাগু করা হবে। তার জন্য আগামী দিনে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় একই রকম সভা করা হবে।”

প্রথম থেকেই সিএএ-র বিরুদ্ধে সরব পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ প্রসঙ্গে শান্তনু বলেন, “বাংলার মুখ্যমন্ত্রী যে ভাবে সিএএ-র বিরোধিতা করছেন এবং ১৮০ ডিগ্রি বিপরীত দিকে যে ভাবে বিষয়টিকে তুলে ধরছেন, এটাকে আমরা সমস্ত উদ্বাস্তু ও মতুয়া সমাজ, নমশূদ্র, রাজবংশী…যারা উদ্বাস্তুদের মধ্যে পড়ে তারা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছ থেকে বঞ্চিত। এই বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করে দিয়েছেন। সিএএ আমাদের অধিকার। সংবিধানে যখন সেটা সংসদে পাশ হয়ে গেছে, তখন কারও অধিকার নেই এ ভাবে প্রকাশ্যে সেই সংবিধানের বিরুদ্ধে কথা বলা। উনি যেটা বলছেন, সেটাও সংবিধান-বিরোধী কথা”।

শান্তনুর হুঙ্কারের প্রেক্ষিতে বনগাঁর প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর বলেন, “ভোট আসলেই বিজেপির পক্ষ থেকে সিএএ নিয়ে ভাওতা দেওয়া হয়। সামনেই পঞ্চায়েত ভোট তাই বিজেপি আসরে নেমে পড়েছে। মতুয়ারা আর বিভ্রান্ত হবেন না। মতুয়ারা বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করবেন।”

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই গুজরাতে ভিন দেশ থেকে আগত অমুসলিমদের নাগরিকত্ব দেওয়া নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারপর থেকেই জোর গুঞ্জন ছড়িয়েছে রাজ্য-রাজনীতির অন্দরমহলেও। দিনকয়েক আগেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ঠাকুরনগরে গিয়ে বলেন, “২০২৪-এর আগে সিএএ চালু হবে। মুখ্যমন্ত্রী চাইলেও আটকাতে পারবে না। মতুয়াদের নাগরিকত্বের সঙ্গে সমঝোতা হবে না।” রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও সিএএ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, “নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বলবৎ করার কাজ শুরু হয়েছে ভারতে। পশ্চিমবঙ্গও তো ভারতেরই অংশ, এখানেও চালু হবে।”

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন