জলপাইগুড়ির অভিযুক্ত চিকিৎসকদের আপাতত গ্রেফতার নয়, স্থগিতাদেশ কলকাতা হাইকোর্টের

0
2464

জলপাইগুড়ি:-জলপাইগুড়ি নামী চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির মামলা এবার পৌঁছল কোলকাতা উচ্চ আদালতের দরজায়।
মঙ্গলবার সেই মামলায় ৪সপ্তাহের স্থগিতাদেশ দিয়েছেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী।আজকের রায়ে অনেকটাই স্বস্তি চিকিৎসক মহলে।

আরও পড়ুন: জলপাইগুড়ি: আপাতত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না পুলিশ, হাইকোর্টের পথে চিকিৎসকরা

গত ১১’ই এপ্রিল জলপাইগুড়ির মেরিনা নার্সিহোমে মৃত্যু হয় মীনা ছেত্রী নামে এক প্রৌঢ়ার।ভেন্টিলেশন মেশিন খারাপ থাকা তার মৃত্যুর কারণ বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। ভেন্টিলেশন মেশিন খারাপ থাকার কথা নার্সিংহোম র্কতৃপক্ষ চেপে গিয়েছিলে, অভিযোগ মৃতার ছেলে উদয় ছেত্রীর। ঘটনায় অভিযোগ জানিয়ে কোতোয়ালি থানা এবং জেলা স্বাস্থ্যদফতরের দ্বারস্থ হয় পরিবার। মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও অভিযোগ পৌছয়। কমিটি তৈরি করে তদন্ত শুরু করে জেলা স্বাস্থ্যদফতর। সূত্রের খবর, তদন্তে নার্সিংহোমের বিরুদ্ধেই গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়। সেই তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে পুলিশ। ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেণ্ট অ্যাক্ট’২০১৭ এর পাশাপাশি জুড়ে দেওয়া হয় আইপিসি’র ৩০৪নং ধারা (অনিচ্ছাকৃত খুনের ধারা)। এরপরেই প্রতিবাদের ঝড় ওঠে চিকিৎসক মহলে। একজোট হয়ে আন্দোলনে নামেন চিকিৎসকরা। চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশংকা দেখা দেয় জেলায়। এরই মধ্যে নার্সিংহোম মালিক,দুই চিকিৎসক সহ পাঁচজনের আগাম জামিনের আর্জি খারিজ করে দেয় জলপাইগুড়ি জেলা আদালত। এরপরেই উচ্চ আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ।


মঙ্গলবার কলকাতা উচ্চ আদালতে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসকদের হয়ে মামলায় যোগ দেন আইনজীবী শেখর বসু, সৈকত চ্যাটার্জি এবং সন্দীপ দত্ত সহ বেশ কয়েকজন খ্যাতনামা আইনজীবী। আইনজীবী সৈকত চ্যাটার্জি জানিয়েছেন, সিআরপিসি ৪৮২নং ধারায় আদালতে আবেদন জানানো হয়। অপর আইনজীবী সন্দীপ দত্ত জানিয়েছেন আবেদনে ৩০৪নং ধারা সহ সম্পূর্ন অভিযোগটিকে খারিজ করে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়।
তবে কেস ডায়রি না এসে পৌঁছনোয় সরকার পক্ষের আইনজীবীরা তাদের বক্তব্য পেশ করে পারেননি। সব শোনার পর আগামী ৪সপ্তাহের জন্য মামলার ওপর স্থগিতাদেশের নির্দেশ দেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। অর্থাৎ পুলিশ এই সময়ের মধ্যে ওই নার্সিংহোম বা চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যাবস্থা নিতে পারবে না, দাবি আইনজীবী সৈকত চ্যাটার্জির।
আইনজীবী সন্দীপ দত্ত জানিয়েছেন, আদালতের রায় অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত চিকিৎসকদের গ্রেফতার বা তদন্ত চালানো আপাতত বন্ধ রাখতে হবে পুলিশকে।
এছাড়াও আগামী দু-সপ্তাহের মধ্যে সরকারপক্ষের আইনজীবীকে তাদের বক্তব্য জানানোর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।


এই রায়ের পরে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে চিকিৎসক মহলে। তবে অভিযুক্ত নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ বা তার সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসকরা এই রায় নিয়ে কিছু বলতে চাননি।
যদিও চিকিৎসকদের একটা বড় অংশ আজকের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের মনরোগ বিশেষজ্ঞ ডা:স্বস্তিশোভন চৌধুরী জানিয়েছেন,তারা ৩০৪নং ধারা অপ-প্রয়োগের যে অভিযোগ করেছিলেন,তার স্বীকৃতি মিলল আদলতের প্রাথমিক নির্দেশে।
এই রায়ে খুশি জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালের অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ ডা:কমলেশ বিশ্বাসের বক্তব্য, ৩০৪নং ধারা প্রয়োগ করে সমাজের কাছে চিকিৎসকদের অপরাধী প্রমাণ করার যে প্রচেষ্টা হয়েছিল,তাতে বাধ সাধল আদালতের রায়।
যদিও মৃতা মীনা ছেত্রীর ছেলে উদয় ছেত্রী জানিয়েছেন,আজকের নির্দেশ সাময়িক। আদলতের কাছে তারা সুবিচার পাবেন এই ভরসা তাদের আছে।
রাজ্যের বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় লাগাম পড়াতে আইনে সংশোধন এনে ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেণ্ট অ্যাক্ট’২০১৭ তৈরি করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই আইনে সম্ভবত প্রথম জলপাইগুড়ির ওই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এই মামলা হওয়ায় শোরগোল পড়ে গিয়েছিল রাজ্য জুড়ে। এবার সেই মামলা উচ্চ আদালতে কোন দিকে গড়ায় তারই অপেক্ষায় চিকিৎসক মহল থেকে শুরু করে ভুক্তভোগী আমজনতা।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here