নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : গাছ কেটে উড়ালপুল তৈরি হবে কি না, এ বার সেই সিদ্ধান্ত নেবে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল। সোমবার কলকাতা হাইকোর্ট এই মামলাটিকে গ্রিন ট্রাইব্যুনালে ‘রেফার’ করে দিয়েছে।

জলপাইগুড়ির গরুমারা জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন শিলিগুড়ি-চ্যাংরাবান্ধাগামী রেলপথের ওপর উড়ালপুল তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে জলপাইগুড়ি পুর্ত দফতর। তারই প্রয়োজনে লাটাগুড়িতে বনাঞ্চল সংলগ্ন ৫৫০টি বাণিজ্যিক গাছ এবং কয়েকশো অন্যান্য গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জলপাইগুড়ি বনবিভাগ। সেই গাছ কাটা শুরু হতেই প্রতিবাদ-আন্দোলনে নেমেছে পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলি। আন্দোলনের জেরে গ্রেফতারও হয়েছিলেন পরিবেশকর্মীরা। আন্দোলনের পাশাপাশি আইনের দ্বারস্থ হয়েছিল গরুমারা বনাঞ্চল পরিবেশপ্রেমী যৌথ মঞ্চ। শুক্রবার গাছ কাটায় সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করেছিল আদালত। সোমবার ফের এই বিষয়ে শুনানি হয় আদলতে। যৌথ মঞ্চের ৬ জন আইনজীবী এবং সরকারপক্ষের আইনজীবীর সওয়াল-জবাব শোনার পর দু’টি নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি নিশীথা মাত্রে ও বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ। প্রথমত, এই মামলার পরবর্তী বিচার চলবে গ্রিন ট্র‍্যাবুনালে। এ জন্য আগামী বুধবার পর্যন্ত দু’ পক্ষকে সময়সীমা দিয়েছে আদালত। অন্য দিকে, বুধবার পর্যন্ত গাছ কাটার ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। আজকের রায়ে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে আন্দোলনকারীদের মধ্যে।

যৌথমঞ্চের সদস্য শ্যামাপ্রসাদ পাণ্ডে আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, বুধবারের মধ্যেই সমস্ত নথি নিয়ে তাঁরা গ্রিন ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হবেন। দুই পরিবেশকর্মী অনির্বাণ মজুমদার ও বিশ্বজিৎ দত্তচৌধুরী জানিয়েছেন, পরিবেশের ক্ষতির চিন্তা না করে বন দফতর যে ভাবে জোর করে বনাঞ্চল ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং আইনি লড়াই জারি থাকবে। যদিও বিচারাধীন বিষয় বলে এই বিষয়ে বিশেষ কিছু বলতে রাজ হয়নি বন দফতর বা পুর্ত দফতর। জলপাইগুড়ি বনবিভাগের বনাধিকারিক বিদ্যুৎ সরকার শুধুমাত্র জানিয়েছেন, তাঁরা সমস্ত নথি আদালতের নির্দেশ মেনে গ্রিন ট্রাইবুনালে পেশ করবেন। আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় জলপাইগুড়ি শহরে মৌন মিছিল করেন বহু পরিবেশকর্মী। তাঁদের নিরুচ্চারিত প্রতিবাদ, বন্ধ হোক গাছ-প্রাণ-হত্যা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here