Mamata-Banerjee and ChandraBabu Naidu

ওয়েবডেস্ক: অন্ধ্রপ্রদেশের পথেই হাঁটল পশ্চিমবঙ্গ। শুক্রবারই সিবিআই তদন্তের উপর নির্দেশিকা প্রকাশ করেছিল অন্ধ্রপ্রদেশ। বলা হয়েছিল, রাজ্য সরকারের অনুমতি ছাড়া সিবিআই কোনো তদন্ত অথবা তল্লাশি চালাতে পারবে না। সেই একই পথে হেঁটে ১৯৮৯ সালের অনুমতি খারিজ করে দিয়ে নবান্ন থেকে জানানো হল, এ বার রাজ্য সরকারের অনুমতি ব্যতিরেকে কোনো তদন্তে নামতে পারবে না সিবিআই। তবে আদালতের নির্দেশ চলা তদন্তের কাজ একই ভাবে চালাতে পারবে তারা।

দেশের সর্বোচ্চ তদন্তকারী সংস্থা সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)-কে এ দিনই নিজের রাজ্যে কার্যত ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা করেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমুন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু। তিনি প্রশাসনিক ভাবে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছেন, এ বার থেকে অন্ধ্রপ্রদেশে কোনো তদন্তের স্বার্থে প্রবেশ করতে হলে রাজ্য সরকারের অনুমতি নিতে হবে। চন্দ্রবাবুর এহেন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার পর তাঁকে সমর্থন করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তখনই প্রশ্ন উঠছিল, তা হলে কি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও সিবিআই নিয়ে একই পথে হাঁটবেন মমতা?

কার্যক্ষেত্রে হল তাই। এ দিন সন্ধ্যায় নবান্ন থেকে এ ব্যাপারে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তদন্তের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হল।

শুক্রবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে দলীয় সভা থেকে মমতা বলেন, “অন্ধ্রপ্রদেশে সিবিআইয়ের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে একদম সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উনি৷ সিবিআই, ইডিকে নিয়ন্ত্রণ করছে বিজেপি”।

তবে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সঙ্গে সম্মুখসমরে অবতীর্ণ হয়ে অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী যতই তাঁর রাজ্যের আইনৃশৃঙ্খলা রক্ষার অধিকারের ক্ষমতার মাধ্যমে সিবিআইয়ের কার্যপদ্ধতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করুন না কেন, সিবিআইয়ের সামনেও আদালতে যাওয়ার পথ খোলা রয়েছে। অন্ধ্র সরকার শুক্রবার নির্দেশিকায় দাবি করেছে, এ বার থেকে আর সিবিআই নিজেদের মর্জিমতো সে রাজ্যে তদন্ত বা তল্লাশি চালাতে পারবে না। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো এবং সিবিআইয়ের এক্তিয়ারের প্রশ্নে তারা আদালতে গেলেও যেতে পারে বলে মনে করে ওয়াকিবহাল মহল।

তা যাইহোক, আগামী লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি-বিরোধী মহাজোটের অন্যতম মুখ চন্দ্রবাবু। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসাবে তুলে ধরার প্রয়াস চলছে একটি মহল থেকে।


আরও পড়ুন: যাত্রা জমজমাট! বিজেপির ৩টি যাত্রার পর দিনেই ৩টি যাত্রা তৃণমূলের, সিপিএমেরও ৩ যাত্রা


আগামী ১৯ জানুয়ারি তৃণমূলের ডাকা ব্রিগেড সমাবেশে উপস্থিতির সম্ভাবনা প্রকট চন্দ্রবাবুরও। সে ক্ষেত্রে ভোটের আগে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান নিয়ে রাজ্যের তরফে বিধিনিষেধ আরোপকে ইঙ্গিতবাহী বলেই মনে করছেন রাজনীতির কারবারিরা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here