কলকাতা: অবলুপ্তির পথে বিআইএফআর। এর পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন যারপরনাই ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নোট বাতিল, টোলপ্লাজায় সেনা নজরদারি, তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতারির পর ফের একবার চরমে উঠল কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত।

যাকে তুলে দেওয়ার জন্য কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, সেই বিআইএফআর আসলে কী?

বিআইএফআর অর্থাৎ ব্যুরো অফ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিনান্স অ্যান্ড রিকন্সট্রাকশন। নুইয়ে পড়া শিল্প সংস্থাগুলির দুর্বলতা যাচাই এবং তাদের চাঙ্গা করার ব্যাপারে পরামর্শ দেওয়ার জন্য ১৯৮৫ সালে এটি তৈরি করে কেন্দ্র। ঠিকঠাক কাজও করছিল বিআইএফআর। কিন্তু গোল বাঁধল নতুন বছরের দ্বিতীয় দিন কেন্দ্রের একটি চিঠিতে। কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের তরফ থেকে চিঠিতে বিআইএফআরকে তুলে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। পাশপাশি বিআইএফআরের সহযোগী ‘আপেলেট অথোরিটি ফর ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিনান্স অ্যান্ড রিকন্সট্রাকশনও (এএআইএফআর) তুলে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে চিঠিতে।

আরও বলা হয়েছে, যে সব মামলা অমীমাংসিত অবস্থায় বিআইএফআর আর এএআইএফআররের কাছে পড়ে রয়েছে সেগুলি আর গ্রাহ্য হবে না। এনসিএলটি অর্থাৎ ন্যাশনাল কম্পানি ল ট্রাইব্যুনালে নতুন করে মামলা করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে চিঠিতে। এর পরই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ফের এক বার তোপ দাগেন ক্ষুব্ধ মমতা।

তিনি বলেন, “এ সব চলতে পারে না। কাল হঠাৎ চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিল বিআইএফআর তুলে দেওয়া হচ্ছে। এরা তো সব সংস্থাই বন্ধ করে দিচ্ছে”। রাজ্যের বন্ধ কারখানাগুলির শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি এ সব নিয়ে কাজ করেছি। বন্ধ কলকারখানার শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়েছি। বিআইএফআর তুলে দিলে সবাই যাবে কোথায়।”

এর পাশপাশি যোজনা কমিশন তুলে দিয়ে নিতি আয়োগ তৈরির ব্যাপারেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “যাদের কোনো নীতিই নেই তাদের আবার আয়োগ। ওখানে সব নিজেদের লোককে বসিয়ে রেখেছে কেন্দ্র।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here