অবশেষে এল ‘বর্ষা’, মরসুমের প্রথম প্রবল বৃষ্টিতে ভিজল কলকাতা

0
1328

কলকাতা: বর্ষার আগমন ঘটার এক সপ্তাহ পর আগমন ঘটল বর্ষার। না কোনো হেঁয়ালি নয়। গত সোমবার আবহাওয়া দফতর ঘোষণা করেছিল শহরে বর্ষার আগমনের। কিন্তু তার এক সপ্তাহ পর, অর্থাৎ আজ সোমবার প্রথম বর্ষার বৃষ্টি পেল কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গ।

গত এক সপ্তাহে কলকাতায় বৃষ্টি হয়েছে সাকুল্যে দু’টি দিন। সোমবার এবং বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। এর পর শনিবার রাতে উত্তর কলকাতার কিছু অংশে বিক্ষিপ্ত ভাবে বৃষ্টি হলেও, তাতে স্বস্তি কিছুই মেলেনি। বৃষ্টির এই আকালে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির ঘাটতি ঠেকেছে ৪৪ শতাংশে। তা-ও তো পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে তুলনায় বেশি বৃষ্টি হয়েছে। সেই বৃষ্টিটা না হলে আরও ভয়ঙ্কর হত বর্ষার ঘাটতির পরিস্থিতি।

তবে সোমবার বিকেলের পর বদলে গেল পরিস্থিতি। নামল স্বস্তির বৃষ্টি। আগের দু’দিনের মতো বিক্ষিপ্ত নয়, এই বৃষ্টি চলল শহর জুড়ে। সন্ধ্যা ছ’টার কিছু পরে শুরু হওয়া এই বৃষ্টি গভীর রাত পর্যন্ত চলেছে। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে আটটা পর্যন্ত আলিপুরে ৫৬ মিমি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।  প্রবল বৃষ্টির জন্য শহরের বিভিন্ন জায়গায় জল জমে গিয়েছে। শহরের যান চলাচলেও প্রভাব পড়েছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে দক্ষিণবঙ্গে দুর্বল হয়ে থাকা মৌসুমী বায়ু অবশেষে শক্তিশালী হচ্ছে। তার প্রভাবেই সোমবার এই বৃষ্টি হয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গে বর্ষার ঢোকার পর থেকেই দুর্বল ছিল মৌসুমী বায়ু। এর ফলে বর্ষার স্বাভাবিক বৃষ্টি বলতে যা বোঝায় তা ছিল অনুপস্থিত। স্থানীয় বজ্রগর্ভ মেঘ এবং ছোটোনাগপুর মালভূমি থেকে তৈরি হওয়া কালবৈশাখীর মতোই ঝড়ের প্রভাবেই বিক্ষিপ্ত ভাবে বৃষ্টি হচ্ছিল এখানে। গত সপ্তাহে দু’টি নিম্নচাপ তৈরি হয়েছিল বঙ্গোপসাগরে। কিন্তু দু’টো নিম্নচাপই বাংলাদেশ হয়ে উত্তরপূর্ব ভারতে চলে যাওয়ায় বৃষ্টি-ভাগ্য খারাপ হয়েছে দক্ষিণবঙ্গের। কিন্তু সোমবারের এই বৃষ্টির পরে বর্ষা-ভাগ্য খুলেছে বলেই মোট আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের।

আরও স্বস্তির বার্তা শুনিয়েছে আবহাওয়া দফতর। ৪৮ ঘণ্টা পর বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে শহরে। মঙ্গলবারের পর দক্ষিণবঙ্গে নেমে আসতে পারে মৌসুমী অক্ষরেখা। পাশাপাশি তৈরি হতে পারে একটি নিম্নচাপ। এর প্রভাবে ভারী বৃষ্টি পেতে পারে দক্ষিণবঙ্গ। আবহাওয়া দফতরের সঙ্গে এই ব্যাপারে একমত বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ‘ওয়েদার আল্টিমা’র কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা। তিনি বলেন, “উত্তরবঙ্গে একটি ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে, সেই সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গ এবং বাংলাদেশ উপকূল সংলগ্ন এলাকায় সৃষ্টি হতে পারে একটি নিম্নচাপ। এই দুইয়ের প্রভাবে জোর বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে দক্ষিণবঙ্গে।” এই নিম্নচাপের প্রভাবে বর্ষা বিহার এবং ঝাড়খণ্ডেও ছড়িয়ে পড়বে বলে জানান তিনি।

সেই সঙ্গে সোমবার সন্ধ্যার বৃষ্টিকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রবীন্দ্রবাবু বলেন, “এটা সম্পূর্ণ বর্ষার বৃষ্টি। দক্ষিণবঙ্গ এবং সংলগ্ন বাংলাদেশে অত্যধিক জলীয় বাষ্পের প্রভাবে বজ্রগর্ভ মেঘের সৃষ্টি হয়ে এই বৃষ্টিটা হয়েছে।” প্রবল বৃষ্টির পাশাপাশি অত্যধিক বজ্রপাতও হয়েছে শহরে।

প্রবল বৃষ্টি উত্তরবঙ্গে

দক্ষিণবঙ্গে বর্ষার আকালের পাশাপাশি বর্ষার আকাল চলছিল উত্তরবঙ্গেও। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় জোর বৃষ্টি শুরু হয়েছে সেখানে। উত্তরবঙ্গে তৈরি হওয়া একটি ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবেই এই বৃষ্টি বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। গত ২৪ ঘণ্টায় সব থেকে বেশি বৃষ্টি হয়েছে ডুয়ার্সের বাগরাকোটে (১১০মিমি)। পাশাপাশি জোর বৃষ্টি হচ্ছে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলার বিভিন্ন অংশে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।

ছবি সৌজন্য সুরজিৎ পাল

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here