ঝড়ের প্রভাবে মনোরম সকাল দক্ষিণবঙ্গে, সোমবারের পুনরাবৃত্তি মঙ্গলেও?

0
thunderstorm
ঝড়ের মেঘ। নিজস্ব চিত্র।

ওয়েবডেস্ক: সোমবার সকালেই সর্বনিম্ন পারদ ছিল ২৮-২৯ ডিগ্রি। ২৪ ঘণ্টা পর সেই পারদ এক ধাক্কায় নেমে গেল অন্তত ৬-৭ ডিগ্রি। এই সবই হয়েছে সোম-সন্ধ্যার কালবৈশাখীর জন্যই। ঝড়বৃষ্টির প্রভাবেই মঙ্গলবার এক মনোরম ভোর উপহার পেলেন দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলার মানুষ।

আবহাওয়া যে কালবৈশাখীর জন্য অনুকূল হচ্ছে, এবং সোমবারই যে ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে, সেটা খবর অনলাইন জানিয়েছিল গত শুক্রবার। সেই পূর্বাভাসকে সত্যি করে সোমবার বিকেল থেকে কালবৈশাখী হানা দিল দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়। ওই দিন দুপুরের পর ঝাড়খণ্ডের ছোটো নাগপুর মালভূমি অঞ্চলে তৈরি হয় বজ্রগর্ভ মেঘ। ধীরে ধীরে সেই মেঘ শক্তি বাড়িয়ে এগিয়ে আসে দক্ষিণবঙ্গের দিকে।

Loading videos...

প্রথমে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমানকে স্বস্তির কালবৈশাখী দিয়ে সেই ঝড়ের গতিমুখ হয় কলকাতার দিকে। রাত দশটার কিছু আগে প্রবল বৃষ্টি নিয়ে হাজির হয় মরশুমের নবম কালবৈশাখী। মিনিট খানেকের ঝড় এবং মিনিট দশেকের প্রবল বৃষ্টির জেরে ঠান্ডা হয় শহর। তার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে নেটিজেনরা জানাতে শুরু করেন, অনেক দিন পর রাতে ভালো ঘুম হবে তাঁদের।

হলও তাই। ঠান্ডা ঠান্ডা রাতের পর মঙ্গলবার যখন সকাল হল তখন পারদ অনেকটাই কমে গিয়েছে। এ দিন সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৩.৬ ডিগ্রি। আগের দিনের ২৮.৮-এর থেকে পাঁচ ডিগ্রি কম। কলকাতায় তা-ও ২৪ ডিগ্রির কোঠায় ছিল পারদ, কিন্তু পশ্চিমের জেলাগুলিতে পারদ আরও কম।

আরও পড়ুন শিশুকন্যার ধর্ষণকে কেন্দ্র করে কাশ্মীরে ফের সাম্প্রিদায়িক অশান্তির আবহ

এ দিন সকালে বোলপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২০.৯ ডিগ্রি। বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়ায় পারদ ছিল যথাক্রমে ২২, ২২.২ এবং ২৩.২ ডিগ্রি। বৃষ্টির পরিমাণ অবশ্য এক এক জায়গায় এক এক রকম। হুগলির মগরায় বৃষ্টি হয়েছে ৩৮ মিমি, বর্ধমানে ২২, ব্যারাকপুরে ২৩ আবার কলকাতায় হয়েছে ১০ মিমি।

তবে এত মনোরম একটা রাত এবং ততোধিক মনোরম একটা সকালের পর স্বাভাবিক ভাবেই বৃষ্টিপ্রত্যাশীদের প্রশ্ন, মঙ্গলবারে কি সোমবারের পুনরাবৃত্তি হওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে বলে রাখা যাক, হ্যাঁ সম্ভব। মঙ্গলবারও দক্ষিণবঙ্গে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা ষোলোআনা।

এই মুহূর্তে ঝাড়খণ্ড এবং সন্নিহিত দক্ষিণ বিহার অঞ্চলে এই ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা। ওর প্রভাবে মঙ্গলবার এবং বুধবারেও দক্ষিণবঙ্গে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে কালবৈশাখীর ক্ষেত্রে একটা মস্ত বড়ো সমস্যা হল, তারা বড্ড নিজেদের মর্জিমাফিক চলে। ফলে পরিস্থিতি অনুকূল হলেও, যতক্ষণ না ঝড়বৃষ্টির বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হচ্ছে ততক্ষণ কিছুই নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে আরও এক কালবৈশাখীর আশা করতেই পারেন সাধারণ মানুষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.