ফাইল ছবি

ওয়েবডেস্ক: বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাঁর নিজের দল তৃণমূল। একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য এবং দলের জন্য অস্বস্তিকর আচরণ করার পরই মেয়রপদ থেকে তাঁকে সরানোর যাবতীয় তোড়জোড়ের শুরু। এমন পরিস্থিতিতে ভোটাভুটি হলে পরবর্তী মেয়র হিসাবে উঠে আসছে তিন জনের নাম।

গত রবিবার তৃণমূল ভবনে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের নেতৃত্বে বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলারদের নিয়ে বৈঠক বসে। সেখানে সব্যসাচীর আচরণে বীতশ্রদ্ধ দল বিধাননগরের ডেপুটি মেয়র তাপস চট্টোপাধ্যায়কে পুরসভার দায়িত্ব সাময়িক ভাবে তুলে দেয়। এমনকী পরদিন, সোমবার সব্যসাচীর বিরুদ্ধে অনাস্থা নিয়ে আসার প্রস্তুতিও নিতে বলা হয় তাপসকে। স্বাভাবিক ভাবেই পরবর্তী সম্ভাব্য মেয়র হিসাবে অনেকেই ধরে নিচ্ছেন তাপসকেই।

কিন্তু সিপিএম-ছাপ তাপসের অতীতকে ঘিরে রয়েছে। এক সময়ে সিপিএমের দাপুটে নেতা তাপস ওরফে জিম্বোর বিরুদ্ধে তৃণমূলই এলাকায় সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলেছিল। এহেন নেতাকে মেয়রপদে বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সরে দাঁড়াতে পারেন বেশ কয়েকজন পুরনো তৃণমূলি কাউন্সিলার।

অন্য দিকে বিধাননগর পুরসভার চেয়ারপার্সন কৃষ্ণা চক্রবর্তীও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পছন্দের তালিকায় বরাবরই রয়েছেন। এমনকী সোমবার সন্ধ্যায় কৃষ্ণা যে ভাবে সব্যসাচীকে পাশে নিয়ে পুরসভায় বসে সাংবাদিক বৈঠক করলেন, তাতে তিনিও উঠে এসেছেন মেয়র-পদের দাবিদার হিসাবে। নিজেকে দীর্ঘ দিনের তৃণমূল কর্মী বলা বা মুকুল রায়কে অতীতে নিজেদের নেতা বলে উল্লেখ করার মধ্যে দিয়ে তিনি যে দলের কাছে নির্দিষ্ট বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন, সেটাও স্পষ্ট।

কৃষ্ণা অবশ্য মেয়রপদ নিয়ে ততটা চিন্তিত নন বলে ওই বৈঠকেই জানিয়ে দেন। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “মেয়র হওয়ার ইচ্ছা আমার নেই। তবে দল যোগ্য মনে করলে আমি তা পালন করব”। অন্য দিকে তাপসকে সামনে রেখে অনাস্থা নিয়ে এসে তৃণমূল যদি হেরে যায়, সেটা আগামী বছর রাজ্যের পুরনির্বাচনে বড়োসড়ো প্রভাব ফেলতে পারে। সে ক্ষেত্রে অ্যাডভান্টেজ কৃষ্ণা!

মেয়রপদের তৃতীয় দাবিদার অবশ্যই সব্যসাচী। তিনি নিজেই বলেছেন, “যে দিন ভোটাভুটি হবে, সেদিন দেখতে পাবেন, ক’জন কাউন্সিলর আমার সঙ্গে রয়েছেন”। তাঁর এই বক্তব্যের প্রতিফলন দেখা গিয়েছে ওই দিন তাপসের ডাকা বৈঠকেও। তৃণমূল ভবনে সিংহভাগ কাউন্সিল হাজিরা দেওয়ার পর দিন পুরসভার ডেপুটি মেয়র তথা বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়রের ডাকে ওই বৈঠকে সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্সিলার উপস্থিত হননি। ভোট হলে সব্যসাচী যে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সফল হতে পারেন, সেটাও ধারণার বাইরে নয়।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন