পার্শ্ববর্তী অঞ্চল বৃষ্টি পেলেও, এখনও বৃষ্টিহীন কলকাতা, ১৯৬১ সালের রেকর্ড ভেঙে ফেলবে শহর?

0
কলকাতার আকাশ।

কলকাতা: সাম্প্রতিক তো নয়ই, দূরের ইতিহাসেই এ রকম পরিস্থিতি দেখতে হয়নি কলকাতাকে। বৃষ্টি হওয়ার যাবতীয় উপাদান তৈরি। আশেপাশের জেলাগুলিতে বৃষ্টি হচ্ছেও ভালো, কিন্তু কলকাতার ভাগ্যে কিছুই জুটছে না। আর তাই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে কলকাতা কি ১৯৬১ সালের রেকর্ডটি ভেঙে ফেলবে।

কলকাতায় কোন বছর কোন মাসে কত বৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে সরকারি কোনো পরিসংখ্যান নেই ঠিকই, কিন্তু আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, শহরের ইতিহাসে সব থেকে খারাপ জুলাই গিয়েছিল ১৯৬১ সালে। সে বার গোটা মাসে বৃষ্টি হয়েছিল মাত্র ১০৯ মিমি। জুলাইয়ে যেখানে প্রায় ৪০০ মিমি বৃষ্টি হওয়া দস্তুর, সেখানে ১০৯ মিলিমিটার, মানে বৃষ্টি কতটা কম হয়েছিল তা তো বলাই বাহুল্য।

এখন প্রশ্ন উঠছে, সেই রেকর্ড কি এ বার ভেঙে যাবে? কারণ ১২টা দিন পেরিয়ে ১৩তম দিনে পড়ল জুলাই, অথচ কোনো বৃষ্টিই নেই। এই বারো দিনে শহরে মোট বৃষ্টি হয়েছে ৪০ মিমির কিছু বেশি। অর্থাৎ, বৃষ্টিকে যদি স্বাভাবিক হতে হয়, তা হলে আগামী ১৭ দিনে সাড়ে তিনশো মিমির বেশি বৃষ্টি হতে হবে। সেটা যে হওয়া কার্যত অসম্ভব তা বুঝতে পারছেন অতি বড়ো বৃষ্টিপ্রেমীও।

কলকাতার কাছে তাই এখন অশনি সংকেত। জুনে তিনশো মিমি বৃষ্টির বদলে হয়েছে মাত্র ৯৪, জুলাইয়ে এই অবস্থা। এই মুহূর্তে যেখানে শহরে অন্তত সাড়ে চারশো মিলিমিটার বৃষ্টি হয়ে যাওয়া উচিত সেখানে বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ১৩৪ মিমি। অথচ জেলার পরিস্থিতি এতটাও খারাপ নয়। দুই বর্ধমান, বীরভূম, হুগলি, বাঁকুড়া, দুই মেদিনীপুর, দুই ২৪ পরগণাতেও বৃষ্টির ঘাটতি ভালোই, কিন্তু সেখানে স্থানীয় ভাবে মেঘের সঞ্চার হয়ে রোজই বৃষ্টি হচ্ছে, ফলে জুনে যে ঘাটতিটা হয়েছিল সেটা আর বাড়ছে না। উলটো ছবি কলকাতায়। এখানে ঘাটতি এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০ শতাংশে।

আরও পড়ুন স্কুলপড়ুয়াদের নিয়ে পরিবেশ কর্মসূচি পালন বাঁকুড়ার গ্রামে

এই পরিস্থিতির জন্য এক দিকে যেমন নিম্নচাপের অভাবকে দায়ী করা হচ্ছে, তেমনই পরিবেশগত কারণও অনেকটাই দায়ী। নিম্নচাপের অভাবে টানা বৃষ্টি যে নেই সেটা তো বলাই বাহুল্য। কিন্তু শহরের মাথার ওপর দিয়ে যখন মৌসুমী অক্ষরেখা বিস্তৃত হচ্ছে, তখন স্থানীয় ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হয়েও তো জোর বৃষ্টি হওয়ার কথা। সেটা হচ্ছে না কারণ প্রচুর গাছ কাটা হচ্ছে, পূর্ব কলকাতার ভেড়ি এবং শহরের জলাশয়গুলিকে ছোটো করে দেওয়া হচ্ছে, এসি মেশিন ব্যবহারে কোনো লাগাম নেই, এখন একটু গরম পড়লেও সবাই এসির দিকে ঝুঁকছে, গাড়ির ব্যবহার অত্যন্ত ভাবে বেড়ে গিয়েছে, ফলে দূষণ বাড়ছে মাত্রাতিরিক্ত ভাবে।

ফলে স্থানীয় ভাবে মেঘ তৈরি হওয়ার অনুকূল পরিস্থিতি শহরে এক্কেবারেই নেই। তাই বৃষ্টির জন্য তাকিয়ে থাকতে হবে সেই নিম্নচাপের দিকে। আগামী এক সপ্তাহে নিম্নচাপ তৈরির বিশেষ সম্ভাবনা নেই। তবে ২০ জুলাইয়ের আশেপাশে একটি নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে। শহরবাসীর তখন প্রার্থনা হবে ওই নিম্নচাপের মধ্যে দিয়েই যাতে শহরে বৃষ্টিভাগ্য ফিরে আসে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here