নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : যতই তদন্ত এগোচ্ছে, ততই একের পর এক উঠে আসছে চন্দনা চক্রবর্তীর ‘কালো চেহারা’। সিআইডির পর এ বার পুলিশের তদন্তেও ফাঁস হল অর্থলোভী এক নারীর শিশু-বিক্রির জাল।

‘বিক্রি’ হয়ে যাওয়া চাঁদনিকে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার পুলিশ সোমবার কোচবিহারের দিনহাটা থেকে উদ্ধার করে। তাকে যাঁরা অবৈধ ভাবে কিনেছিলেন, সেই অভিভাবকদের কাছ থেকেই চাঁদনিকে উদ্ধার করা হয়।

১৭টি শিশুকে অর্থের বিনিময়ে অবৈধ ভাবে দত্তক দেওয়ার অভিযোগে সিআইডির হাতে গ্রেফাতার হয়েছিলেন জলপাইগুড়ির বিমলা শিশুগৃহের কর্ণধার চন্দনা চক্রবর্তী। এই ঘটনায় পরে আরও ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। যাঁর মধ্যে রয়েছেন দুই শিশুসুরক্ষা আধিকারিক সাস্মিতা ঘোষ ও মৃণাল ঘোষ, চিকিৎসক দেবাশিস চন্দ, বিজেপি নেত্রী জুহি চৌধুরী।

অন্য একটি শিশু নিখোঁজের ঘটনায় চন্দনা চক্রবর্তী ও তার সহযোগী সোনালি মণ্ডলকে আদালতের নির্দেশে ‘শোন অ্যারেস্ট’ করে গত বুধবার ১০ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে নিয়েছিল জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার পুলিশ। তাঁদের লাগাতার জেরা করে উঠে আসে শিশু বিক্রির চাঞ্চল্যকর ঘটনা। বছরখানেক আগে হোমে থাকা চাঁদনিকে ৪৫ হাজার টাকার বিনিময়ে দিনহাটার এক দম্পতির কাছে বিক্রি করেন চন্দনা। এ দিকে চন্দনার হোমে থাকা দিপালী নামে এক শিশুকন্যার খোঁজ না পেয়ে ফেব্রুয়ারি মাসে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন তাঁর বাবা-মা সমীর ও কাজল বাসফোর। সেই ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু করতেই উঠে আসে চাঁদনি নিখোঁজের ঘটনা। কারণ বালুরঘাটের একটি হোমে থাকা ‘চাঁদনি’ নামের শিশুটিই তাদের মেয়ে ‘দিপালী’ বলে দাবি করেন সমীর এবং কাজল। এর পরেই উঠে আসে প্রশ্ন, তা হলে আসল ‘চাঁদনি’ কোথায়? নিজেদের হেফাজতে থাকা চন্দনা ও সোনালিকে জেরা করতেই আসল সত্য বেরিয়ে আসে পুলিশের সামনে। দিনহাটা থেকে সোমবার উদ্ধার হয় চাঁদনি। তবে এখানেই শেষ নয়। পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, চাঁদনির আসল মা রয়েছেন। তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কলকাতার আরজিকর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। চাঁদনির এক দাদা বিশ্বজিৎও  চন্দনার হোমে ছিল একই সঙ্গে। সে-ও নিখোঁজ রয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, তাকেও মোটা অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি জানিয়েছেন, এ বার বিশ্বজিৎ-এর বিষয়েও তদন্ত শুরু করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে চন্দনাকে।

সোমবার চাঁদনিকে উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। আগামী কাল তাকে জলপাইগুড়ি শিশু সুরক্ষা সমিতির হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি। তারাই ঠিক করবে আপাতত চাঁদনি কোথায় থাকবে।

কিন্তু সব কিছুর পর একটি  প্রশ্ন থেকেই যায়। অর্থলোভী এক মহিলার শিকার এই অবোধ শিশুটির ভবিতব্য কী?  তার ঠাঁই কোথায়?  নিজের জন্মদাত্রী মায়ের কাছে? নাকি এত দিন যাদের মা-বাবা বলে জেনে এসেছে তাদের কাছে? এর উত্তর কিন্তু এখন অধরা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here