murder

নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা:  স্বামী পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট। তা-ও বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য নিয়মিত মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালাতেন স্ত্রীর উপরে। সঙ্গে ছিল স্ত্রী তেমন সুন্দরী নন, এই অভিযোগও। অবশেষে স্ত্রীকে হত্যা করার অভিযোগে বজ বজের বুদ্ধদেব পাঁজাকে সোমবার গ্রেফতার করল পুলিশ। খুনকে আত্মহত্যা বলে প্রমাণ করার চেষ্টায় বুদ্ধদেববাবু স্ত্রীর দেহ ঝুলিয়ে দেন বলে অভিযোগ।

জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটে রবিবার রাতে বজ বজ থানার চরিয়াল মোড় এলাকায়। এক বছর সাত মাস আগে দেখাশোনা করে বিয়ে হয় জয়ন্তী ও বুদ্ধদেবের। কিন্তু বিয়ের পর থেকে প্রায়ই ইতিহাসে এমএ শিক্ষিতা স্ত্রীকে উপার্জনের জন্য চাপ দিয়ে বাপের বাড়ি পাঠাতেন বুদ্ধদেব।  চার্টার্ড আক্যাউন্ট্যান্ট হওয়া সত্ত্বেও তিনি বাপের বাড়ি থেকে নিত্য টাকাপয়সা আনার জন্য জোরজবরদস্তি করতেন। শুধু তা-ই নয়, স্ত্রী দেখতে তেমন সুন্দর নয়- এই অভিযোগে দিনের পর দিন চলত মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার। অবশেষে স্ত্রীকে মেরে ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল স্বামী-সহ শ্বশুরবাড়ির ৪ জনের বিরুদ্ধে। বজ বজ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে।

murder
জয়ন্তী ও বুদ্ধদেব পাঁজা

ঘটনার জেরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বজ বজ থানায় জয়ন্তীর বাবা রবিন ডাল বুদ্ধদেব পাঁজা, তাঁর ভাইপো, ভাইঝি ও এক বন্ধুর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। বজ বজ থানার পুলিশ অভিযুক্ত বুদ্ধদেবকে গ্রেফতার করলেও অন্য অভিযুক্তরা পলাতক।

রবিন ডাল জানিয়েছেন, বজ বজের বিদ্যাসাগর রোডের বাসিন্দা জয়ন্তী ডালের সঙ্গে বজ বজের  চরিয়াল মোড় লেসলি রোডের বাসিন্দা বুদ্ধদেব পাঁজার দেখাশোনা করে ২০১৬ এর ৮ মে বিয়ে হয়। “দেখা-শোনা করে মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলাম, বিয়ের সময় ৫০ হাজার টাকা পণ নেয়। বিয়ের ৬ মাস পর থেকেই মেয়েকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিত জামাই। মেয়ে টিউশন পড়াত, তাই জামাই বলত উপার্জন করলে খেতে পাবে। মেয়ে প্রতি শুক্রবার  শ্বশুরবাড়ি চলে যেত, আবার সোমবার বাপের বাড়ি চলে আসত। এমনকী মেয়ে  দেখতে সুন্দর নয় বলে তাকে গঞ্জনাসহ শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করা হত। কিছুদিন আগে পুরীতে নিয়ে গিয়ে ওকে অপমান করে জামাই। ওখানে সে জয়ন্তীকে নিজের স্ত্রী বলে পরিচয় দিত না, বন্ধুদের স্ত্রীর সঙ্গে ঘুরত। মেয়ে রবিবার দুপুরে ফোন করে বলেছিল, মা ভালো লাগছে না, চলে যাবো। সেই চলে গেল। মেয়েকে খুন করে ঝুলিয়ে দিয়েছে জামাই ও তার ভাইপো, ভাইঝি।“

একই দাবি জয়ন্তীর দিদিরও। “৫ দিন বাপের বাড়ি পাঠাত বোনকে উপার্জনের জন্য। বোনকে বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ দিত। বোন জামাইয়ের কোনো অবৈধ সম্পর্ক জেনে ফেলেছিল পুরীতে গিয়ে, তাই ওকে খুন করা হল।  বোন ভালো দেখতে নয় বলে ওকে সবার সামনে অপমান করত জামাই। বোনকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে, দেহে আঘাতের চিহ্ন আছে। ওর শাস্তি চাই”, বলছেন জয়ন্তীর দিদি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here