mamata bandyopadhyay
শহিদ দিবসের সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি সৌজন্যে টুইটার।

কলকাতা: ১৯৫৯ সালে রাজ্যের ঐতিহাসিক ‘খাদ্য আন্দোলন’-এর শহিদদের স্মরণে করে বর্তমান সরকারের ‘খাদ্যসাথী’ প্রকল্পের গুরুত্বের কথা তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

১৯৫৮ সালের শেষ দিকে অবিভক্ত সিপিআই এবং অন্যান্য বামপন্থী দলগুলির নেতৃত্বে গড়ে উঠেছিল খাদ্য আন্দোলন। যা পরের বছরের ৩১ আগস্টে পৌঁছোয় চূড়ান্ত পর্যায়ে। নারী-কৃষক-সহ অজস্র প্রতিবাদী মানুষের উপর গুলি চালানোর ঘটনা বাংলার ইতিহাসে কালো দিন হিসাবেই চিহ্নিত কর এই বিশেষ দিনটিকে। তার পর কেটে গিয়েছে বেশ কয়েক দশক। রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রত্যেক নাগরিকের কাছে সুলভে চাল-গম পৌঁছে দেওয়ার জন্য চালু করেছেন ‘খাদ্যসাথী’ প্রকল্প। এই বিশেষ দিনটিতে সেই আন্দোলনের শহিদদের স্মরণ করার পাশাপাশি মমতা টুইটে উল্লেখ করেছেন এই প্রকল্পের গুরুত্বের কথা।

তিনি লিখেছেন ,”১৯৫৯ সালের ঐতিহাসিক ‘খাদ্য আন্দোলন’-এর শহিদদের আজ স্মরণ করছি। বাংলার মোট জনসংখ্যার নব্বই শতাংশকে (৮.৫৯ কোটি) খাদ্যসাথী প্রকল্পের মাধ্যমে খাদ্য সুরক্ষা দিতে পেরেছি আমরা। যার ফলে দু’টাকা কিলো দরে খাদ্য শস্য বাজারের অর্ধেক মূল্যে মানুষকে সুবিধা দেওয়ার কাজ সবই সম্পন্ন করেছি সুষ্ঠুভাবে”।

তিনি লিখেছেন, আমরা এক সময়ের মাওবাদী-অধ্যুষিত জঙ্গলমহল, পাহাড়, আয়লা বিধ্বস্ত সুন্দরবন, সিঙ্গুরের মতো জায়গাতে বিশেষ পরিষেবা দিতে সফল হয়েছি। একই ভাবে উত্তরবঙ্গের চা বাগান এবং টোটো সম্প্রদায়ের মানুষের কাছেও আমরা পিডিএসের মাধ্যমে চাল-গম পৌঁছে দিতে পেরেছি।

খাদ্যসাথী প্রকল্পের উদ্দেশ্য

সুলভ মূল্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করে খাদ্য ও পুষ্টির নিরাপত্তা দেওয়াই এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য। জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইন এবং রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা যোজনার মাধ্যমে অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা, অগ্রাধিকার তালিকাভুক্ত পরিবার, বিশেষ অগ্রাধিকার তালিকাভুক্ত পরিবার ও রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা যোজনা-১-এর তালিকাভুক্ত পরিবারের সমস্ত মানুষের কাছে রাজ্য সরকার দু’ টাকা কেজি দরে খাদ্যশস্য পৌঁছে দিচ্ছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পুষ্টি-পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন শিশু, মা ও তাদের পরিবারের জন্য মাসে ৫ কিলোগ্রাম চাল, ২.৫ কিলোগ্রাম গম, ১ কিলোগ্রাম মুসুর ডাল ও ১ কিলোগ্রাম ছোলা বিনা মূল্যে দেওয়া হচ্ছে ‘বিশেষ কুপন’ চালু করে।

যোগাযোগ

প্রতিটি ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের করণ ও খাদ্য পরিদর্শক। পুরসভার ক্ষেত্রে মহকুমা খাদ্য নিয়ামকের করণ। এ ছাড়া খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের শুল্কমুক্ত ফোন নং ১৯৬৭ ও ১৮০০–৩৪৫–৫৫০৫ প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here