Mamata
Samir mahat
সমীর মাহাত

কয়েক হাজার শিল্পী ‘লোক প্রসার প্রকল্প’-এ ঠাঁই পাননি, ঝাড়গ্রাম জেলা জুড়ে পঞ্চায়েতে তা ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। চাষের কাজ ফেলে গত বছর জুলাইয়ের শেষ দিকে, গোটা জেলার সব প্রান্ত থেকে প্রায় ২০-২৫ হাজার লোকশিল্পী জড়ো হন ঝাড়গ্রাম জেলা তথ্য সংস্কৃতি দফতরে। সে সময় দফতরে জোর কদমে শিল্পী নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। রটে যায়, এর পর আর লোকশিল্পী নিয়োগ হবে না। পুলিশি তৎপরতায় কোনো মতে ঘটনার সুরাহা হয়। এর পরই শুরু হয় নিচুতলায় চাপা ক্ষোভ। যে ক্ষোভের কথা এ বারের পঞ্চায়েত ভোটে অনেকেই উগরে দিচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, সরকারে এসেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চালু করেন, লোক প্রসার প্রকল্প। এই প্রকল্পে ৬০ বছর বয়সের লোকশিল্পীরা মাসে ১ হাজার টাকা ভাতা ও তালিকাভুক্ত শিল্পীরা ১ হাজার টাকা ট্রেনারি হিসেবে পান। উল্লিখিত, সরকারি প্রকল্প নিয়ে লোকগান প্রচারে শিল্পীরা মাসে পাঁচটি অনুষ্ঠান বাবদ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন। রাজ্যে এই প্রকল্পের আওতায় আছেন ৮৪ হাজার ৭২০ জন শিল্পী। ঝাড়গ্রাম জেলায় নথিভুক্ত শিল্পী ১২ হাজার, ৭০০।

এই লোকপ্রসার প্রকল্প নিয়েই ভুরি ভুরি অভিযোগ ঝাড়গ্রামে। যাঁরা শিল্পী নন, তাঁরাও এই প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন, প্রকৃত শিল্পীরা তালিকাভুক্ত হননি, বেশির ভাগ শিল্পীরা মাসে পাঁচটি অনুষ্ঠান করার সুযোগ পাননি এমনও হাজারো অভিযোগ উঠেছে। নয়াগ্রামের বাদ পড়া এক শিল্পীর অভিযোগ, “অফিসে গিয়ে জানতে পারি আমি নাকি পরীক্ষায় পাশ করতে পারিনি তাই নাম ওঠেনি, পরীক্ষার রেজাল্ট কবে প্রকাশ করেছে? পার্টির লোকরা নাম পাঠিয়ে যাঁরা শিল্পী নন, তাঁদের শিল্পী করেছে”।

জামবনির এক শিল্পী বলেন, “মৃত ব্যক্তির নামেও ভাতা তুলে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে খবর পাচ্ছি। প্রধান-পঞ্চায়েতরা তো সবাইকেই লোকশিল্পীর শংসাপত্র দিয়েছেন, ভালো পরীক্ষা দিয়েও নাম উঠেনি। আবার কিছু লোকশিল্পীর পরিবারের সবাই এই প্রকল্পের সুযোগ নিচ্ছেন। ঝাড়গ্রামের লোকশিল্পীদের নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর নিজে নজর করা দরকার”।

পাশাপাশি, এই সমস্ত অভিযোগগুলি অস্বীকার করে, ঝাড়গ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা তথ্য ও সাংস্কৃতিক আধিকারিক বরুণ মণ্ডল বলেন, “আমি এখানে নতুন এসেছি, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি”। ঝাড়গ্রাম মহকুমা শাসক নকুলচন্দ্র মাহাত বলেন, “লিখিত আকারে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে নিশ্চয় অভিযোগের প্রশাসনিক তদন্ত হবে”।

তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এ বিষয়ে হাত গুটিয়ে বসে নেই। তারা স্থানীয় স্তরে লোকশিল্পীদের এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূল-বিরোধী প্রচারে নেমেছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here