শিশুদের কোভিড, তবুও স্কুল খুলে রাখার পক্ষেই সওয়াল কলকাতার চিকিৎসকদের

0

কলকাতা: করোনার চলতি স্ফীতিতে স্বাভাবিক ভাবেই স্কুলপড়ুয়ারা অনেক বেশি মাত্রায় আক্রান্ত হয়েছে। এর মূল কারণ হল তাদের টিকাকরণ না হওয়া। কিন্তু তা সত্ত্বেও স্কুল বন্ধ না করার পক্ষেই সওয়াল করছেন কলকাতার চিকিৎসকরা। বরং অভিভাবকদের প্রতি তাঁরা আবেদন করছেন, কোভিডের উপসর্গ দেখা দিলে সেই শিশুকে যেন স্কুলে না পাঠানো হয় কয়েক দিনের জন্য।

শিশুদের মধ্যে মূলত ধুম জ্বর, সর্দিকাশির মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে পেটে গণ্ডগোলও হচ্ছে। আগে থেকে যাদের হাঁপানির সমস্যা রয়েছে, তাদের শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, তবে তা দ্বিতীয় ঢেউয়ের সঙ্গে কোনো ভাবেই তুলনীয় নয়।

উল্লেখ্য, ২০২১-এর এপ্রিলে ডেল্টার হানায় ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা হয়ে পড়েছিল ভারতের। শ্বাসকষ্ট তখন অন্যতম মূল উপসর্গ ছিল। সে বারও শিশুরা আক্রান্ত হয়েছিল। কিন্তু তখন হাসপাতালে ভরতি হওয়া শিশুদের সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে অনেকটাই বেশি ছিল এ বারের থেকে।

সিএমআরআই হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ শতরূপা মুখোপাধ্যায় বলেন, “শ্বাসকষ্টের সমস্যা খুব কম শিশুর মধ্যে দেখা যাচ্ছে এ বার, যেটা দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় খুব বেশি ছিল। কিন্তু ১২ বছরের শিশুরা যে হেতু টিকাপ্রাপ্ত নয়, তাই অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে। শিশুদের জ্বর বা কাশি হলে স্কুলে কোনো ভাবেই পাঠানো যাবে না।”

অন্য দিকে শহরের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অপূর্ব ঘোষ এই পরিস্থিতিটাকে ইতিবাচক চোখেই দেখছেন। তিনি বলেন, “সংক্রমণ খুব দ্রুত ছড়িয়েছে এ বার। কিন্তু যে হেতু রোগীরা মূলত মৃদু উপসর্গেই আক্রান্ত, তাই কোনো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। মৃদু জ্বর এবং সর্দিই এ বারের মূল উপসর্গ। এই সংক্রমণের ফলে শিশুদের শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হচ্ছে, যা তাদের ভবিষ্যতে সাহায্য করবে।”

শিশুদের মধ্যে যতই কোভিড হোক না কেন, স্কুল যেন বন্ধ না করা হয় সেই দাবিই করেছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ শান্তনু রায়। তিনি বলেন, “স্কুল বন্ধ করে দেওয়া কোনো সমাধান নয় কারণ এর ফল মারাত্মক। শিশুরা প্রায় দু’ বছর স্কুল যায়নি, তাদের ক্যাম্পাসে ফিরতেই হবে। মাস্ক পরতে বাধ্য করা, জ্বরে হওয়া শিশুদের স্কুলে না পাঠানো, বেশি ঘেঁষাঘেঁষি না করার মতো পদক্ষেপই আপাতত নিতে হবে স্কুলগুলিকে।”

উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৯৭৩ জন। এর মধ্যে কলকাতাতেই আক্রান্ত ৭১৭ জন। রাজ্যে সংক্রমণের হার ছিল ১৫.৯৩ শতাংশ। কিন্তু কলকাতায় সংক্রমণের হার চলছে অনেক বেশি, প্রায় ৪৫ শতাংশ।

কিন্তু একটা ছোট্ট পরিবর্তন লক্ষ করা গিয়েছে। দু’ সপ্তাহ আগে পর্যন্তও রাজ্যের মোট সংক্রমণের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ হচ্ছিল কলকাতাতে। কিন্তু বর্তমানে সেটা নেমে এসেছে ৩৫ শতাংশে। ফলে কলকাতার সংক্রমণ চূড়ার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে বলে একটা ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়তে পারেন:

আদালতে গড়াল কেন্দ্র বনাম টুইটার যুদ্ধ!

মুখ্যমন্ত্রী না হতে পেরে অসন্তুষ্ট? জল্পনা ওড়ালেন খোদ দেবেন্দ্র ফড়ণবীস

ঋষি সুনক-সহ দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ, ব্রিটেনে আতান্তরে পড়ল বরিস জনসন সরকার

‘আমি যদি বিজেপিতে যাই তা হলে…’, সিবিআই তলব নিয়ে মুখ খুললেন অনুব্রত মণ্ডল

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন