চন্দনা চক্রবর্তী ও সোনালি মণ্ডলকে বুধবার আদালতে হাজির করানো হয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: তদন্তের জাল গোটানোর কাজ প্রায় শেষ। এ বার বিচারের পালা। জলপাইগুড়ি শিশুপাচার কাণ্ডে বুধবার চার্জশিট জমা দিল সিআইডি। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, ভবানীভবন থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই  এ দিন  জলপাইগুড়ি আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তদন্তকারী অফিসাররা। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শিশুপাচার কাণ্ডে গ্রেফতার হন বিমলা শিশুগৃহের কর্ণধার চন্দনা চক্রবর্তী ও তার সহযোগী সোনালি মণ্ডল। বৃহস্পতিবার সেই গ্রেফতারির ৯০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। সূত্রের খবর, সিআইডি চায় অভিযুক্তদের ‘কাস্টাডি ট্রায়াল’ হোক। কারণ অভিযুক্তরা জামিনে মুক্ত হলে সাক্ষ্য-প্রমাণ লোপাট বা তদন্তের কাজ প্রভাবিত হতে পারে। সেই কারণেই মূল অভিযুক্ত চন্দনা গ্রেফতার হওয়ার ৮৯ দিনের মাথায় চার্জশিট জমা দিয়ে দিলেন তদন্তকারী অফিসার। এই ঘটনায় পরে একে একে গ্রেফতার হয়েছিলেন বিজেপি নেত্রী জুহি চৌধুরী, দুই শিশু সুরক্ষা আধিকারিক সাস্মিতা ঘোষ ও মৃণাল ঘোষ, চিকিৎসক দেবাশিস চন্দ ও চন্দনার ভাই মানস ভৌমিক। তাঁদের প্রত্যেকের নাম রয়েছে চার্জশিটে।

চার্জশিট নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

৩০ পাতার এই চার্জশিটে ৭০ জন সাক্ষীর নাম আছে, যার মধ্যে প্রায় ৩০ জন ইতিমধ্যেই গোপন জবানবন্দি দিয়েছেন বিচারকের সামনে। বেশ কয়েক জন সরকারি পদাধিকারীও সাক্ষীর তালিকায় আছেন বলে জানা গিয়েছে। এ ছাড়াও চার্জশিটে উঠে এসেছে সিআইডি তদন্তের গতিপ্রকৃতি। সূত্রের খবর, চন্দনার হোম থেকে যে ১৭টি শিশু পাচারের অভিযোগ উঠেছিল, তাদের হদিশ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। এ ছাড়াও আরও ৫টি শিশুর হদিশ পাওয়া গিয়েছে যাদেরও টাকার বিনিময়ে অবৈধ ভাবে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। এই ২০টি শিশুকেই জলপাইগুড়ি শিশু সুরক্ষা সমিতির সামনে ইতিমধ্যেই হাজির করেছে সিআইডি। তবে শিশুগুলিকে আপাতত দত্তক নেওয়া অভিভাবকদের কাছেই রাখার নির্দেশ দিয়েছে শিশু সুরক্ষা সমিতি। এই অভিভাবকদেরও চার্জশিটে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে বলে সিআইডি সূত্রের খবর। ইতিমধ্যেই পদোন্নতি হওয়ায় এই কেসের তদন্তকারী অফিসার মনোজিৎ সরকারের জায়গায় এসেছেন সূরজ ঠাকুরী। এ দিনই তিনিই চার্জশিট জমা দিতে আসেন। তবে চার্জশিটে জমা দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি বর্তমান তদন্তকারী অফিসার সূরজ ঠাকুরী।

এ দিকে অন্য একটি শিশু নিখোঁজের ঘটনায় চন্দনা চক্রবর্তী ও সোনালি মণ্ডলকে ‘শোন অ্যারেস্ট’ করে জলপাইগুড়ি আদালতে পেশ করে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার পুলিশ। জানা গিয়েছে, চন্দনার হোমে থাকা দিপালী নামে ওই শিশুকন্যার কোনো খোঁজ না পেয়ে ফেব্রুয়ারি মাসে কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন তার বাবা-মা সমীর ও কাজল বাসফোর। সেই ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু করতেই উঠে আসে আরও একটি শিশুকন্যা নিখোঁজের ঘটনা। কারণ দিনাজপুরের একটি হোমে থাকা চাঁদনি নামের একটি শিশুই তাঁদের মেয়ে দিপালী বলে দাবি করেন সমীর এবং কাজল। এর পরে উঠে আসে প্রশ্ন, তা হলে আসল চাঁদনী কোথায় যে এক সময় চন্দনার হোমে ছিল? এই ঘটনার তদন্ত করতেই চন্দনা এবং সোনালিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ। সেই কারণে এ দিন আদলতে তুলে তাঁদের ১০ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে চাওয়া হয়। চন্দনার আইনজীবী সমীর দাস জানিয়েছেন, জামিনের আবেদন খারিজ করে বিচারক ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন মঞ্জুর করেছেন। যদিও পুলিশ হেফাজতে যাওয়ার আগে আজ ফের সংবাদমাধ্যমের কাছে চন্দনা দাবি করেছেন, এই ঘটনায় জড়িত যাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত তা করা হচ্ছে না। তাঁর দাবি, পূর্বতন এক জেলাশাসককেও এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত।

1 মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here