চালু একটা কথা আছে, বাঙালি আত্মবিস্মৃত জাতি। তবে ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়কে হয়তো বাঙালি এখনও ভোলেনি। ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়ের ফাঁসি হয়ে গেছে এক যুগ আগে। ১৪ আগস্ট, ২০০৪, আদালতের রায় মেনে। হেতাল পারেখ নামে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। এমন অপরাধে মৃত্যুদণ্ড ঠিক কি না, তা নিয়ে নাগরিক সমাজে বিতর্ক চলেছিল কয়েক সপ্তাহ ধরে। তবে, তিনটি আদালতে দোষী সাব্যস্ত ধনঞ্জয়ের যে মৃত্যুদণ্ডই প্রাপ্য তা নিয়ে একমত হয়েছিল নাগরিক সমাজের অধিকাংশই। এমনকি সে সময়ের শাসক দলও জোরেসোরে পথে নেমেছিলেন ফাঁসির পক্ষে।

তবে অন্য মতও ছিল অনেকের। তাঁরা হাল ছাড়েননি। তথ্যপ্রমাণ জোগাড়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন নিজেদের সাধ্যমতো। কিছু দিন আগেই প্রকাশিত হয়েছে তিন জন কৃতী মানুষের লেখা একটি বই ‘আদালত-মিডিয়া-সমাজ এবং ধনঞ্জয়ের ফাঁসি’। লিখেছেন ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের দুই অধ্যাপক প্রবাল চৌধুরী ও দেবাশিস সেনগুপ্ত এবং প্রযুক্তিবিদ পরমেশ গোস্বামী। বহু নথি ঘেঁটে, ধনঞ্জয়ের গ্রাম সহ নানা জায়গায় ঘুরে তাঁরা সে দিনের সেই রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কোনও অপরাধ না করে শুধু প্রত্যন্ত গ্রামের সহায় সম্বলহীন পরিবারের সন্তান বলেই ধনঞ্জয়কে মরতে হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নটিকে ফের তুলে ধরেছেন তাঁরা।

dhanajay-book

ধনঞ্জয় মামলার তদন্ত এবং বিচারপ্রক্রিয়ার ফাঁক নিয়ে বই প্রকাশের পর এ বার নতুন করে নড়াচড়া শুরু হয়েছে নাগরিক সমাজে। ঘটনার পুনর্তদন্তের আবেদন জানিয়ে এক হাজারেরও বেশি মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করার পর বৃহস্পতিবার সেটি জমা দেওয়া হল মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে। যে হেতু তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রধান ভূমিকায় ছিলেন রাজ্য সরকার, তাই আবেদনকারীরা চান, এ ব্যাপারে পদক্ষেপ করুক রাজ্য। ঘটনাটি অনেক দিন হয়ে যাওয়ায় এ ব্যাপারে নতুন করে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া যে চট করে হওয়ার মতো কাজ নয়, তা-ও মানছেন তাঁরা। এ ব্যাপারে সরকার কোনও পদক্ষেপ করলে সাহায্যের হাত বাড়াতে তাঁরা প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন বইটির অন্যতম লেখক দেবাশিস সেনগুপ্ত।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here