clay water pot

শুভদীপ চৌধুরী, পুরুলিয়া: গরমে নাজেহাল জেলাবাসী। গ্রীষ্মের প্রখর তাপে স্বস্তির জন্য ঠান্ডার একটু আভাস চাইছে পশু থেকে মানুষ সকলেই। তাই জেলায় জেলায় স্বস্তির জন্য মিলছে মাটির কুঁজো। একটা অংশের মানুষ এখনও নির্ভরশীল এই সস্তার মাটির কুঁজোয় ঠান্ডা জলের উপর। বেশির ভাগের কাছেই এখন গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে  রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ। গ্রীষ্মকালে ঠান্ডা জলে একটু গলা ভেজাতে তাই কুঁজোকে অনেকটাই পিছনে ফেলে দিয়েছে এই বৈদ্যুতিক যন্ত্র।

গরম পড়ার পরে ফ্রিজের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি দিন দিন কমছে মাটির কুঁজোর চাহিদা। জেলার বিভিন্ন বাজারে মাটির কুঁজোর পসরা নিয়ে বাজারে বসেন অনেক ব্যবসায়ীরা। কিন্তু তাঁদের বিক্রয় অনেক কম হয় বলেই জানা যাচ্ছে ।

এক মাটির কুঁজো ব্যবসায়ী পশুপতি বাউরি জানান, দৈনন্দিন জীবনে রেফ্রিজারেটর ও বিভিন্ন ঠান্ডা জলের যন্ত্রগুলি বেশি হওয়ায় মানুষের কাছে কমেছে মাটির কুঁজোর চাহিদা। তাই বাজারে রৌদ্রের মাঝে শুধু বসাই সার হয় তাঁদের। আগে মানুষের কাছে মাটির কুঁজোর চাহিদা ছিল, তাই রমরমিয়ে চলত ব্যবসা। লাভও হতো ভালোই, কিন্তু এখন চাহিদা কম হওয়ায় লোকসানের উপর দিয়েই তাঁদের জীবন কোনোভাবে অতিবাহিত হচ্ছে ।

অন্যদিকে এক ক্রেতা দেবাশিস দে জানান, মাটির কুঁজোয় যে তেষ্টা মেটে, তা কিন্তু অন্য কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্রে মেটে না। তবে এ কথা সত্য, এখন মাটির কুঁজো ব্যবসায়ীদের লোকসান বই লাভ তেমন নেই।

এ দিকে বাজারে কুঁজোর সারি নিয়ে বসে থাকা ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, এ প্রজন্মের ছেলেরা আর এই ব্যবসায় আসতে চায় না। এ ভাবে হয়তো এক দিন মাটির কুঁজো বস্তুটাই অদৃশ্য হয়ে যাবে!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here