অবশেষে মঙ্গলবার ভোরে বৃষ্টি থামল কলকাতায়। কিন্তু সোমবার দুপুর থেকে পরবর্তী বারো ঘণ্টায় যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে শহরে তা গত ন’বছরে সেপ্টেম্বরের সর্বাধিক। সোমবার দুপুর আড়াইটে থেকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত আলিপুরে বৃষ্টি হয়েছে ১৩২ মিমি। এর মধ্যে প্রায় ১২০ মিলিমিটারই হয়েছে আড়াইটে থেকে রাত সাড়ে ১১টা, এই ন’ঘন্টায়। এত কম সময়ের মধ্যে এত বেশি বৃষ্টিতেই কার্যত অচল হয়ে পড়ল উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম, শহরের সব অংশ।

আসলে সোমবার দুপুরের পরে ছোটোখাটো একটা মেঘভাঙা বৃষ্টিই হয় কলকাতার বুকে। পাহাড়ি এলাকায় যাকে মেঘভাঙা বৃষ্টি বলে সেই তত্ত্ব মেনে শহরের বৃষ্টি না হলেও, অল্প সময়ের মধ্যে এত বৃষ্টি কলকাতার ইতিহাসে খুব একটা হয়নি। এর কারণ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি সোমবার দুপুরে অবস্থান করছিল দক্ষিণবঙ্গের ওপরে, এর সাথে যোগ হয়েছিল নিম্নচাপ অক্ষরেখা। এই জোড়া ফলার প্রভাবে সাগর থেকে হুহু করে ঢুকতে থাকে জলীয় বাষ্প। অত্যধিক এই জলীয় বাষ্প জমেই সোমবার দুপুরে কলকাতা ও তাঁর পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশে তৈরি হয় উলম্ব বজ্রগর্ভ মেঘপুঞ্জ। এই মেঘপুঞ্জ ভেঙেই দুপুরের পর ভেসে যায় কলকাতা। সোমবার বিকেল থেকে সন্ধে পর্যন্ত উত্তর আর দক্ষিণ কলকাতায় সমান বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত দক্ষিণের আলিপুরে বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ৮৬ মিলিমিটার, অন্যদিকে দমদমে বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ৭৩ মিলিমিটার। সন্ধ্যায় সাময়িক বিরতি নেওয়ার পর রাত ন’টার পর ফের জোর বৃষ্টি নামে। তবে সেই বৃষ্টির দাপট উত্তর কলকাতার তুলনায় দক্ষিণেই অনেক বেশি ছিল।

মাত্র কয়েক ঘণ্টায় এতো বিশাল পরিমাণে বৃষ্টি, সেই সঙ্গে গঙ্গার বান। সব মিলিয়ে ডুবে যায় কলকাতা। এ দিন জোর বৃষ্টি শুরু হওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই গঙ্গায় জোয়ার আসে। এর ফলে জলমগ্ন হয়ে পড়ে নদী তীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলি। জোয়ারের ফলে বৃষ্টির জল বেরোতে না পেরে জমে যায় শহরের প্রায় সমস্ত নিচু এলাকায়। সোমবার রাতের পর সেভাবে বৃষ্টি না হলেও, মঙ্গলবার সকালেও জল জমে থাকে উত্তরের সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, ঠনঠনিয়া, কলেজ স্ট্রিট, পাতিপুকুর আন্ডারপাস, উল্টোডাঙা আন্ডারপাস, মধ্য কলকাতার হসপিটাল রোড, ময়দান সংলগ্ন এলাকা। দক্ষিণের যাদবপুর আর পাটুলিতেও জল জমে রয়েছে। বেহালারও যথারীতি বেহাল দশা। কলকাতার পাশাপাশি বৃষ্টিতে অচল হয়ে পড়েছে হাওড়াও। হাওড়ার স্টেশন সংলগ্ন ইয়ার্ডটি জলমগ্ন হয়ে পড়ায় ব্যাহত হচ্ছে ট্রেন চলাচল। টিকিয়াপাড়া কারশেডে জল জমে যাওয়ায় দক্ষিণ-পূর্ব শাখায় ট্রেন চলাচল বিপর্যস্ত। ১৪ জোড়া লোকাল ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। হাওড়া থেকে নির্ধারিত দক্ষিণ-পূর্ব শাখার দুরপাল্লার ট্রেনগুলি সাঁতরাগাছি থেকে ছাড়বে।

তবে আবহাওয়া দফতরের তরফ থেকে কিছুটা আশার বাণী শোনা গেছে। নিম্নচাপটি বাংলাদেশের দিকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে, এর ফলে মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই কিছুটা উন্নতি হতে পারে শহরের আবহাওয়ার। তবে বুধবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here