মানুষ-সাপ সহাবস্থান, পূর্ব বর্ধমানের সাতটি গ্রাম মাতল ঝঙ্কেশ্বরী দেবীর পুজোয়

0
6280

নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান: সমগ্র বিশ্বের কাছে সাপ একটি আতঙ্ক-জাগানো সরীসৃপ হলেও, বর্ধমানের এই গ্রামের রীতি বিষধর সাপকে পুজো করা ।

পূর্ব বর্ধমান জেলার একটি ছোট্টো গ্রাম মুশারুগ্রাম। এখানে সাপ ও মানুষের সহাবস্থান । কোনো তামিল সিনেমার কাস্টিং নয় । বাস্তবের এই দৃশ্য দেখলে গা ছমছম হতে বাধ্য। ঘরে-বাইরে মানুষের সঙ্গে অবাধ বিচরণ এই বিষধর সাপেদের। গ্রামবাসীরা জানান, এই সাপ কখনও কাউকে কামড়ায় না। বরং উপকার করে। তাই তাদের পূর্বপুরুষদের কাল থেকেই এই সাপ পুজো করে আসছেন তাঁরা। মুশারুগ্রামের মানুষজন একে বলেন ঝঙ্কেশ্বরী দেবীর পূজা। পূর্ব বর্ধমান জেলায় যা ‘ঝাংলাই পুজো’ নামে খ্যাত। প্রায় ৯০০ বঙ্গাব্দ থেকে শুরু হয়েছে এই পুজো। ধীরে ধীরে এই পুজো এক বিশাল দর্শনীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে।

মূলত মঙ্গলকোট এবং ভাতার থানা এলাকার  মুশারু, ছোটো পোষলা, বড় পোষলা, শিকড়তোড়, পলসোনা এবং ময়দান এই সাতটি গ্রামের বাসিন্দারা ঝঙ্কেশ্বরী দেবীর পূজা করেন। তবে শুধু বর্ষায় নয়, সারা বছরই এই সাপ এই গ্রামগুলির রান্নাঘর থেকে শুরু করে শোওয়ার ঘরের বিছানায়, সর্বত্র বসবাস করে।

এখানে এই সাপ কাউকে কামড়ালে তাকে ‘দংশন’ বলা হয় না। বলা হয় ঝঙ্কেশ্বরী দেবী ‘প্রসাদ’ করেছেন। গ্রামবাসীদের দাবি, কাউকে কামড়ালে আক্রান্তকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। ক্ষতস্থানে মন্দিরের মাটি লাগিয়ে দিলেই তা ওষুধের মতো কাজ করে। তবে বর্তমানে বহু মানুষই এখন সাপে কাটা ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যান। এমনকি, এই সাপের কামড়ে কারওরই মৃত্যু হয় না বলে দাবি গ্রামবাসীদের। তাই প্রতি বছরই আষাঢ় মাসের কৃষ্ণা প্রতিপদে পূজা হয় ঝঙ্কেশ্বরী দেবীর।

তবে এই সাপেদের নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক শ্রীকুমার চ্যাটার্জির কথায়, পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে জানা গেছে, পলসোনা গ্রামের পূর্ব দিকে খুনগোড়ের ডাঙা থেকে আবির্ভাব হয় এই দেবীর। ওই পুকুর থেকেই যে সাপগুলি উঠে আসে তাদের কালনাগিনীর বংশধর বলে দাবি করেছেন শ্রীকুমারবাবু। যদিও এলাকাবাসীদের মনে হয় এই সাপগুলি গোখরো। তবে এখনও পর্যন্ত এই সাপগুলির প্রজাতি নিয়ে কেউই নিশ্চিত ভাবে বলতে পারেননি। আবার অনেকে বলেছেন, শ্রীকৃষ্ণ কালনাগিনীকে অভিশাপ দিয়েছিলেন, পৃথিবীর মধ্যস্থলে বিচরণ করবে তারা। সেই অনুযায়ী, ওই এলাকাকেই পৃথিবীর মধ্যস্থল বলে ধরে নিয়েছেন গ্রামবাসীরা। তাই সাপগুলি ওর মধ্যেই বিচরণ করে বলে জানা গেছে।

আবার অনেকে এই ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে দেবী দুর্গার সঙ্গে মহিষাসুরের যুদ্ধের সময় দুর্গার হাতে এই সাপের আবির্ভাব। সেই সাপ কামড়াতে উদ্যত হলে হাত থেকে ছিটকে ফেলে দিলে কনকের মতো ঝনঝনিয়ে শব্দ হয়। তার থেকেই এই সাপ ঝঙ্কেশ্বরী বা ঝাংলাই নামে পরিচিত।

তবে বর্তমানে এই প্রজাতির সাপেদের সঙ্গে অন্য প্রজাতির সাপেদের ‘ক্রস’ হয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন মন্দিরের সেবায়েতরা। তাঁদের দাবি, এই সাপেদের প্রজাতিকে সংরক্ষণ করার জন্য সরকার উদ্যোগ নিক।

 

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here