১ লক্ষ ২৫ হাজারের হারের মার্জিন মুছতে যাদবপুরে আরও এক কদম এগোলেন বিকাশ

0
bikash ranjan bhattacharya
যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য

ওয়েবডেস্ক: যাদবপুরে বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিএম প্রার্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে আগেই সমর্থন জানিয়েছে ভাঙড়ের জমি জীবিকা বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা  কমিটি এবং সিপিআই (এম-এল) রেডস্টার। একই পথ ধরে ওই কেন্দ্রে প্রার্থী না-দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল প্রদেশ কংগ্রেস। স্বাভাবিক ভাবেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ভোটের লড়াইয়ে নিজের কেন্দ্রে আরও এক কদম এগিয়ে গেলেন বিকাশ।

দীর্ঘ আলোচনার পরও এ বারের লোকসভা ভোটে রাজ্যে বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোট প্রক্রিয়া ভেস্তে গিয়েছে। শুরু হয়েছে একে-অপরকে দোষারোপের পালা। এরই মধ্যে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র মালদহে রাহুল গান্ধীর সভার পর দিনই ঘোষণা করেছেন, যাদবপুরে আলাদা করে প্রার্থী দেবে না দল। কারণ হিসাবে তিনি জানিয়েছেন, যাদবপুরের বাম প্রার্থী লড়াই-আন্দোলনে রয়েছেন, তাই তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রার্থী দেবে না কংগ্রেস। একই ভাবে বাঁকুড়ার বাম প্রার্থীর বিরুদ্ধেও তাঁরা প্রার্থী দেবেন না।

সোমেনবাবুর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রও বলেন, “আমাদের লড়াই কংগ্রেসের বিরুদ্ধে নয়। লড়াইটা বিজেপি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ফলে বিজেপি ও তৃণমূল বিরোধী ভোট একত্রিত করতে হবে”।

অন্য দিকে বিকাশবাবু বলেন, “শেষ কয়েক বছরে যাদবপুরের রাজনৈতিক সমীকরণ আমূল বদল হয়েছে। গত ২০১৪ সালের ভোটে আমাদের প্রার্থী ডা. সুজন চক্রবর্তী ১ লক্ষ ২৫ হাজারের মতো ভোটে হেরেছিলেন। সে বার আমি তাঁর ইলেকশন এজেন্ট ছিলাম। ভাঙড় থেকেই আমরা প্রায় ৭০ হাজার ভোটে হেরে যাই। কিন্তু এ বার ভাঙড় থেকেই আমরা লিড করব। কারণ একত্রিত ভাবে রিগিং যদি ঠেকানো যায়, তা হলে আমাদের জয় নিশ্চিত।”

একই সঙ্গে তিনি নির্বাচন কমিশনের সক্রিয়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমরা আগেও দেখেছি, ভোটের আগে কমিশন সক্রিয় থাকে, কিন্তু ভোটের দিন সেটা আর দেখা যায় না। ফলে মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারছে কি না, সেটাও দেখার। যদি নির্বাচন কমিশন এ রকম সক্রিয় থেকে ভোটটা শেষ পর্যন্ত নির্বিঘ্নে করাতে পারে, তা হলে খুবই ভালো। গত বারের ভোটপর্ব শেষে আমি রিপোর্ট পাঠানোর সময়, অল্প বয়সের যিনি এক পোলিং অফিসার ছিলেন, তিনি তো আমার হাতে-পায়ে ধরে অনুরোধ করেছিলেন, ‘স্যর, আমার চাকরিটা চলে যাবে’। এটাই তো বাস্তব চিত্র। কিন্তু এ বার সাধারণ মানুষ প্রতিরোধ গড়তে সক্ষম হবেন। জমি-জীবিকার লড়াই-ই সেই প্রতিরোধের প্রকৃষ্ট প্রমাণ।”

কংগ্রেসের সমর্থন প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, “আমরা দেশ জুড়ে সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছি। আমরা জানি, আমাদের ক্ষমতা সীমিত, তা সত্ত্বেও আমরা ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস নেতৃত্ব যদি একটা সমঝোতায় আসেন, সেটা খবুই ভালো। দেশের বৃহত্তর স্বার্থের কথা ভেবে যদি কেউ আসেন, সেটা ভালো।”

[ আরও পড়ুন: মানুষের কাছ থেকেই জানতে চাই, আমার কাছ থেকে তাঁরা কী চাইছেন: মিমি চক্রবর্তী ]

অন্য দিকে সিপিআই (এম-এল) রেডস্টারের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদক অলীক চক্রবর্তী আগেই জানিয়েছেন, ভাঙড় জমি আন্দোলনের অন্যতম সহযোগী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বামফ্রন্টের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, সে কারণে কমিটি ওই কেন্দ্রে তাঁকেই সমর্থন করবে।

[ আরও পড়ুন: যাদবপুরে সিপিএম প্রার্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে সমর্থন ভাঙড়ের জমি কমিটি ও সিপিআই (এম-এল) রেডস্টারের ]

উল্লেখ্য, গত ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে যাদবপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সুগত বসু পেয়েছিলেন ৫৮৪,২৪৪টি ভোট। সিপিএম প্রার্থী ডা. সুজন চক্রবর্তী পেয়েছিলেন ৪৫৯,০৪১টি ভোট। অর্থাৎ সুগতবাবু জিতেছিলেন ১২৫,২০৩টি ভোটে। সে বার কংগ্রেস প্রার্থী সমীর আইচ পেয়েছিলেন ২৬,৩৪৪টি ভোট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here