Shabar
জঙ্গলখাস গ্রামে লোধা শবরদের জন্য বিশেষ পরিষেবা

সমীর মাহাত, ঝাড়গ্রাম: শুধু লালগড়ের পূর্ণাপানিই নয়, জঙ্গল মহলে লোধা-শবরদের অকাল মৃত্যু সব জায়গাতেইই আছে, মত সংশ্লিষ্ট মহলের। ফারাক হল, বাম আমলে তা অনাহারে মৃত্যু আর হাল আমলে, মদ্যপানের কারণে মৃত্যু। সম্প্রতি যা ঘটেছে লালগড়ের পূর্ণাপানি গ্রাম সংসদের জঙ্গলখাস গ্রামে। গত সেপ্টেম্বর মাসে ৩ জন ও চলতি মাসে ৪ জন শবরের মৃত্যু ঘটেছে। ঘটনার পর পর্যাপ্ত তৎপরতা দেখিয়েছে প্রশাসন। তবুও প্রশাসন বর্ণিত মৃত্যুর কারণ নিয়ে চাপান-উতোর চলছেই।

তাই বলে এ নতুন ঘটনা নয়। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাস নাগাদ ৩৮ দিনের মধ্যে ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়া এলাকার কালাঝরিয়া গ্রামে তিন জন লোধা-শবরের অকাল মৃত্যু ঘটে। লালগড়ের মতো এ ক্ষেত্রে বিন্দু মাত্র তৎপরতা দেখায়নি প্রশাসন। একই ভাবে ২০০৪ সালের ৯ জুন আমলাশোলে লোধা-শবরের অকাল মৃত্যুর সময় ঝাড়গ্রামের পূর্বশোল গ্রামে অজানা রোগে তিন লোধা-শবরের মৃত্যু ঘটে। আমলাশোল নিয়ে নানা হইচই হলেও, এই গ্রামের দিকে কেউ ফিরেও তাকাইনি। পূর্বশোল ও কালাঝরিয়া লোধা অধ্যুষিত গ্রামগুলির দূরত্ব ঝাড়গ্রাম শহর থেকে ১০-১৫ কিলোমিটার। কালাঝরিয়ায় গিয়ে দেখা গেল, কী নেই গ্রামে? রয়েছে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা কেন্দ্র। মঙ্গলবার ও শুক্রবার এখানে বসেন চিকিৎসক। তবে চিকিৎসার জন্য লোধাদের ভরসা পাশের গ্রামের চুটিয়ামারি হাসপাতাল।

অথচ, ‘১৭ সালের ২৪ জানুয়ারি ৪৫ বছরের রঞ্জিত ভক্তার মৃত্যু দিয়ে শুরু, ক্যান্সার আক্রান্তে তাঁর মৃত্যু হয়। ২৭ ফেব্রুয়ারি সুকন ভক্তা (টুকু) ক্যান্সার আক্রান্তে মারা যান। ৪ মার্চ গ্রামের ঝন্টু ভক্তা মারা যান জন্ডিসে। এক বছর পর সেই প্রতিচ্ছবি ধরা পড়ল লালগড়ে।

আরও পড়ুন: সাইকেল নিয়ে গ্রামে বাঁকুড়ার জেলাশাসক, শুনলেন অভাব-অভিযোগের কথা

এ ব্যাপারে লোধা-শবর কল্যাণ সমিতির জেলা সম্পাদক বলাই নায়েক বলেন, “প্রশাসনের তরফে যে তৎপরতা দেখানো হচ্ছে বা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা সাময়িক। এই সমস্যার সমাধানে সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নেশা করে মারা যাওয়ার কথা বড়ো করে দেখানো হচ্ছে। সে ক্ষেত্রেও তো প্রশাসন সচেতনতা বৃদ্ধির দিকে নজর দিতে পারে”।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here