Bengal Polls 2021: শীতলকুচির ঘটনা নিয়ে বিচারবিভাগীয় তদন্ত চাইল এপিডিআর, দোষীদের শাস্তি দাবি

0

খবরঅনলাইন ডেস্ক: শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে মৃত্যু নিয়ে বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাল গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি তথা এপিডিআর (APDR)। সেই সঙ্গে এই গুলিচালনার ঘটনায় দোষীদের শাস্তি এবং নিহতদের পরিবারবর্গ ও আহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি করেছে তারা। শুক্রবার এপিডিআরের এক প্রেস বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হয়েছে।     

গত ১০ এপ্রিল চতুর্থ দফার ভোট চলাকালীন কোচবিহারের শীতলকুচি বিধানসভা কেন্দ্রে পাঁচজন গ্রামবাসীর মৃত্যু হয় এবং কয়েক জন আহত হন। অভিযোগ, শীতলকুচির ১২৬ নং বুথ আমতলী মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রে সিআইএসএফ (CISF) জওয়ানদের গুলিতে চার গ্রামবাসী মারা যান। আর ২৬৫ নং বুথ পাঠানতলীতে ভোটের লাইনে দাঁড়াতে গিয়ে মৃত্যু হয় এক তরুণের।

Shyamsundar

আমতলী ও পাঠানতলীর ঘটনা নিয়ে তথ্যানুসন্ধানের জন্য এপিডিআরের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার ওই দুই জায়গায় যাওয়া হয় বলে ওই প্রেস বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। স্থানীয় গ্রামবাসী এবং নিহত ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে এপিডিআর-এর সামনে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা তারা প্রেস বিবৃতিতে জানিয়েছে।         

আমতলীর ঘটনা

এপিডিআরকে গ্রামবাসীরা বলেছেন, সে দিন বুথ থেকে ২০০ মিটার দূরে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ১৪ বছর বয়সি জাহিদুল হককে সিআইএসএফ বাহিনী নির্মম ভাবে মারধর করে। এই ঘটনায় এলাকাবাসী সাময়িক ভাবে বিক্ষুব্ধ হলেও তারা কখনোই সেই সময় ১২৬ নং বুথ চত্বরে প্রবেশ করেনি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘিরে কোনো জমায়েতও করেনি।

গ্রামবাসীরা বলেছেন, ৩০০-৩৫০ জন মহিলা ১২৬ নং বুথে জমায়েত করে তাদের ঘিরে ধরে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল বলে কেন্দ্রীয় বাহিনী যে দাবি করেছে, তা আদৌ ঘটেনি। তারা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালিয়েছিল বলে যে কথা বলছে তা পুরোপুরি মিথ্যে। গ্রামবাসীদের দাবি, সে দিন কোনো রকম প্ররোচনা ছাড়াই সিআইএসএফ গুলি চালিয়েছিল।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, নির্বাচনের জন্য আগের দিন থেকে কর্তব্যরত কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ বাইরে থেকে আসা সিআইএসএফ জওয়ানরা এই গুলি চালায়। গুলি চালানোর আগে কোনো রকম ঘোষণা, লাঠি চালানো, কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ করা, রবার বুলেট ছোড়ার মতো কোনো উপযুক্ত পদ্ধতিগত সতর্কীকরণ করা হয়নি।

গুলি চালানোর প্রশাসনিক পদ্ধতিগত কোনো রকম নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কিনা সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি বলে এপিডিআরের প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

ভোটের লাইনে হিন্দু, মুসলিম উভয় সম্প্রদায় মিলিয়ে প্রায় ৭০-৭৫ জন ভোটার দাঁড়িয়ে থাকা সত্ত্বেও সিআইএসএফ-এর গুলিতে কেবলমাত্র সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চার জন কী ভাবে মারা গেল, সে নিয়ে এপিডিআরের প্রেস বিবৃতিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

এপিডিআরের প্রতিনিধিদের কাছে গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেন, প্রথম বর্ষের এক কলেজপড়ুয়াকে মাটিতে ফেলে পায়ে চেপে বুকে গুলি চালানো হয়।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বাইরে থেকে আসা সিআইএসএফ জওয়ানরা নিহত চার জনকে ওখানেই ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। রাজ্য পুলিশ বা ওই বুথে আগে থেকে  কর্তব্যরত কেন্দ্রীয় বাহিনী সাহায্য না করায় গ্রামের দুই যুবক টোটোতে করে তাদের দেহ মাথাভাঙা হাসপাতালে নিয়ে যায়। যাওয়ার পথে রাজ্য পুলিশ তাদের দু’জনকে মাথাভাঙা থানায় তুলে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে ও পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখে।

এপিডিআর বলেছে, ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও গ্রামবাসীদের কথা অনুযায়ী ওই গ্রামে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রয়েছে। বিদ্যালয়ের সরস্বতীপুজোয় সকলে একসঙ্গে যোগ দেয়। গ্রামে কোনো রকম সাম্প্রদায়িক অশান্তি নেই।

পাঠানতলীর ঘটনা

এপিডিআরের সহ-সম্পাদক আলতাফ আমেদের জারি করা ওই প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাঠানতলীতে ২৬৫ নং বুথে ভোট চলাকালীন আনন্দ বর্মন নামে যে তরুণের মৃত্যু হয়, তিনি দলীয় হিংসার বলি। আনন্দ ছাড়াও সে দিন বেশ কয়েক জন আহত হন। এই ঘটনাটিকে হাতিয়ার করে একটি রাজনৈতিক দল পাঠানতলী এলাকায় সাম্প্রদায়িক বিভাজনের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে এপিডিআরের অভিযোগ।

শীতলকুচির ঘটনা সম্পর্কে অনুসন্ধান চালিয়ে এপিডিআর যে তথ্য পেয়েছে, তার ভিত্তিতে তারা পুরো ঘটনার সার্বিক বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি করেছে। তাদের আরও দাবি, যে সব জওয়ান গুলি চালিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় মামলা রুজু করতে হবে এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে।

নিহতদের পরিবারবর্গকে ন্যূনতম ২০ লক্ষ টাকা ও আহতদের পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি করেছে এপিডিআর।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন