manabমানববন্ধু বেরা

সান খোসে থেকে প্যারিসে না চলে এলে তিনি হয়তো সাহিত্যিক হতেই পারতেন না। কারণ যে পরিবেশে তাঁর জন্ম, সেখানে নারী স্বাধীনতা তো দূর, মহিলাদের পড়াশোনা করতেও দেওয়া হত না। কিন্তু প্যারিসে গিয়ে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির ‘প্রভাব’ পড়ে তাঁর ওপর। প্যারিসে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে দেশে ফেরেন তিনি। পারিবারিক বাধা সত্ত্বেও নিজের দেশেই স্নাতক হয়ে তিনটে বিষয়ে স্নাতকোত্তর করে বর্তমানে তিনি সে দেশের এক বিখ্যাত লেখিকা।  

গল্প শোনাচ্ছিলেন রোক্সানা পিন্তো। কোস্তা রিকার সাহিত্যিক। বুধবার তাঁরই হাত ধরে সূচনা হয় এ বারের কলকাতা বইমেলার। বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি এসেছিলেন ‘থিম কান্ট্রি’ প্যাভিলিয়নে। দর্শকদের সঙ্গে প্রায় ঘণ্টা খানেক আলাপচারিতায় ফুটে উঠল কোস্তা রিকার চিত্র। যেখানে মানুষ মনে করে পৃথিবীর সব থেকে সুখি দেশ তারাই।

roxana-2
কোস্তা রিকার প্যাভিলিয়নে সমবেত শ্রোতার একাংশ।

এ দিন অনুষ্ঠানে সাহিত্যিকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কোস্তা রিকার চার্জ দ্য আফেয়ার ক্রিস্তোফার সানচেস এবং কনসাল জেনারেল এস্তোবান লুইরোস সালাসার। পূর্বে ক্যারিবিয়ান সাগর, পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগরকে নিয়ে লাতিন আর উত্তর আমেরিকার মধ্যে ‘সংযোগ’ এই কোস্তা রিকা। যে দেশের জনসংখ্যা মাত্র ৫০ লক্ষ। যে দেশের কোনো সেনাবাহিনী নেই। কারণ যদি কেউ বিদেশি শক্তি কোস্তা রিকা আক্রমণ করে তা হলে এমনিতেই তাদের নিজেদের রক্ষা করা সম্ভব নয়। সে কারণে প্রতিরক্ষার পেছনে কোনো ব্যয় না করে সেই টাকায় তাঁরা নিজেদের দেশের শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করে তুলেছেন এবং ফলও পেয়েছেন হাতেনাতে। স্বাস্থ্যব্যবস্থায় এখন খুব নাম হয়েছে কোস্তা রিকার। কনসাল জেনারেল এই কথাগুলো বলতেই হাততালিতে ফেটে পড়ল গোটা প্যাভিলিয়ন। দৃশ্যত অভিভূত হলেন কোস্তা রিকার তিন অতিথি।

roxana
কোস্তা রিকার লেখিকা রোক্সানা পিন্তো।

কোস্তা রিকার সাহিত্যের প্রসঙ্গে এলেন পিন্তো। এই অনুষ্ঠানে তাঁর সদ্য লেখা বই ‘ইদা ই বুয়েলতা’ প্রকাশ করেন লেখিকা। ‘ইদা ই বুয়েলতা’ অর্থাৎ ‘যাওয়া ও আসা’। এই বইয়ে তাঁর নিজের জীবনের অংশ ফুটিয়ে তুলেছেন পিন্তো। জন্মের পর কাকার হাত ধরে প্যারিস পাড়ি দেওয়া এবং ফিরে এসে শত বাধা কাটিয়ে উঠে সাহিত্যিক হয়ে ওঠার কাহিনি রয়েছে এই বইয়ে। লেখিকার কথায় এখন সে দেশের সমাজব্যবস্থা অনেক উন্নত হলেও সাত দশক আগেও মহিলাদের কোনো অধিকার ছিল না সে দেশে। ১৯৪৯ পর্যন্ত মহিলারা ভোটও দিতে পারতেন না।  কথা প্রসঙ্গে এল কোস্তা রিকান সাহিত্যের সূচনার কথা। ঊনবিংশ শতকের শেষের দিকে সাহিত্যে প্রসার শুরু কোস্তা রিকার। উঠে এল রোবার্তো ব্রেনেস মেসেনের কথা যাঁর কবিতাগুচ্ছ ‘নিঃশব্দে’ খুব সাড়া ফেলেছিল তখন।

আগত অতিথিরা বলছিলেন সবুজ দেশ কোস্তা রিকার কথা। আসলে সারা বছর নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া, সেই সঙ্গে বছরভর বৃষ্টি, দেশটাকে সবুজ, চারিদিক থেকে সবুজ করে রেখেছে। পাহাড় জঙ্গলে ঘেরা এই দেশটায় একবার অন্তত আসার জন্য আহবান জানান তাঁরা। কোস্তা রিকানদের জীবনের একটাই মন্ত্র ‘পুরা বিদা’ অর্থাৎ ‘খাঁটি জীবন’।

ছবি: শৌর্য মেয়ুর 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here