Connect with us

কলকাতা বইমেলা

শত বাধা পেরিয়ে সাহিত্যিক হয়ে ওঠার গল্প শোনালেন রোক্সানা পিন্তো

manabমানববন্ধু বেরা

সান খোসে থেকে প্যারিসে না চলে এলে তিনি হয়তো সাহিত্যিক হতেই পারতেন না। কারণ যে পরিবেশে তাঁর জন্ম, সেখানে নারী স্বাধীনতা তো দূর, মহিলাদের পড়াশোনা করতেও দেওয়া হত না। কিন্তু প্যারিসে গিয়ে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির ‘প্রভাব’ পড়ে তাঁর ওপর। প্যারিসে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে দেশে ফেরেন তিনি। পারিবারিক বাধা সত্ত্বেও নিজের দেশেই স্নাতক হয়ে তিনটে বিষয়ে স্নাতকোত্তর করে বর্তমানে তিনি সে দেশের এক বিখ্যাত লেখিকা।  

গল্প শোনাচ্ছিলেন রোক্সানা পিন্তো। কোস্তা রিকার সাহিত্যিক। বুধবার তাঁরই হাত ধরে সূচনা হয় এ বারের কলকাতা বইমেলার। বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি এসেছিলেন ‘থিম কান্ট্রি’ প্যাভিলিয়নে। দর্শকদের সঙ্গে প্রায় ঘণ্টা খানেক আলাপচারিতায় ফুটে উঠল কোস্তা রিকার চিত্র। যেখানে মানুষ মনে করে পৃথিবীর সব থেকে সুখি দেশ তারাই।

roxana-2

কোস্তা রিকার প্যাভিলিয়নে সমবেত শ্রোতার একাংশ।

এ দিন অনুষ্ঠানে সাহিত্যিকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কোস্তা রিকার চার্জ দ্য আফেয়ার ক্রিস্তোফার সানচেস এবং কনসাল জেনারেল এস্তোবান লুইরোস সালাসার। পূর্বে ক্যারিবিয়ান সাগর, পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগরকে নিয়ে লাতিন আর উত্তর আমেরিকার মধ্যে ‘সংযোগ’ এই কোস্তা রিকা। যে দেশের জনসংখ্যা মাত্র ৫০ লক্ষ। যে দেশের কোনো সেনাবাহিনী নেই। কারণ যদি কেউ বিদেশি শক্তি কোস্তা রিকা আক্রমণ করে তা হলে এমনিতেই তাদের নিজেদের রক্ষা করা সম্ভব নয়। সে কারণে প্রতিরক্ষার পেছনে কোনো ব্যয় না করে সেই টাকায় তাঁরা নিজেদের দেশের শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করে তুলেছেন এবং ফলও পেয়েছেন হাতেনাতে। স্বাস্থ্যব্যবস্থায় এখন খুব নাম হয়েছে কোস্তা রিকার। কনসাল জেনারেল এই কথাগুলো বলতেই হাততালিতে ফেটে পড়ল গোটা প্যাভিলিয়ন। দৃশ্যত অভিভূত হলেন কোস্তা রিকার তিন অতিথি।

roxana

কোস্তা রিকার লেখিকা রোক্সানা পিন্তো।

কোস্তা রিকার সাহিত্যের প্রসঙ্গে এলেন পিন্তো। এই অনুষ্ঠানে তাঁর সদ্য লেখা বই ‘ইদা ই বুয়েলতা’ প্রকাশ করেন লেখিকা। ‘ইদা ই বুয়েলতা’ অর্থাৎ ‘যাওয়া ও আসা’। এই বইয়ে তাঁর নিজের জীবনের অংশ ফুটিয়ে তুলেছেন পিন্তো। জন্মের পর কাকার হাত ধরে প্যারিস পাড়ি দেওয়া এবং ফিরে এসে শত বাধা কাটিয়ে উঠে সাহিত্যিক হয়ে ওঠার কাহিনি রয়েছে এই বইয়ে। লেখিকার কথায় এখন সে দেশের সমাজব্যবস্থা অনেক উন্নত হলেও সাত দশক আগেও মহিলাদের কোনো অধিকার ছিল না সে দেশে। ১৯৪৯ পর্যন্ত মহিলারা ভোটও দিতে পারতেন না।  কথা প্রসঙ্গে এল কোস্তা রিকান সাহিত্যের সূচনার কথা। ঊনবিংশ শতকের শেষের দিকে সাহিত্যে প্রসার শুরু কোস্তা রিকার। উঠে এল রোবার্তো ব্রেনেস মেসেনের কথা যাঁর কবিতাগুচ্ছ ‘নিঃশব্দে’ খুব সাড়া ফেলেছিল তখন।

আগত অতিথিরা বলছিলেন সবুজ দেশ কোস্তা রিকার কথা। আসলে সারা বছর নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া, সেই সঙ্গে বছরভর বৃষ্টি, দেশটাকে সবুজ, চারিদিক থেকে সবুজ করে রেখেছে। পাহাড় জঙ্গলে ঘেরা এই দেশটায় একবার অন্তত আসার জন্য আহবান জানান তাঁরা। কোস্তা রিকানদের জীবনের একটাই মন্ত্র ‘পুরা বিদা’ অর্থাৎ ‘খাঁটি জীবন’।

ছবি: শৌর্য মেয়ুর 

কলকাতা বইমেলা

মুর্শিদাবাদকে জানতে পড়ুন জাহির রায়হানের ‘মুর্শিদাবাদ’, মিলছে বইমেলায় ৩৫২ স্টলে

শম্ভু সেন

সুবে বাংলা তথা বাংলা-বিহার-ওড়িশার শেষ রাজধানী মুর্শিদাবাদ।ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে ‘কমিটি অফ রেভেনিউ’-এর এক সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মুর্শিদাবাদ বাংলার অন্যতম জেলা হয় ১৭৮৬ সালের ১৮ এপ্রিল। গভর্নর জেনারেল কমিটির ওই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করার পর ঠিক এক সপ্তাহ পর মুর্শিদাবাদ জেলা হিসাবে বাংলার মানচিত্রে স্থান পায়।

ভারত ভাগের ‘৩ জুন প্ল্যান’ বা ‘মাউন্টব্যাটেন প্ল্যান’ অনুযায়ী মুর্শিদাবাদ চলে যায় প্রস্তাবিত পাকিস্তানে। আর অধুনা বাংলাদেশের খুলনা থেকে যায় ভারতে। মুর্শিদাবাদের তদানীন্তন নবাব সৈয়দ ওয়াসেফ আলি মনেপ্রাণে চেয়েছিলেন মুর্শিদাবাদ ভারতের মধ্যে থাক। তিনি এবং জেলার বেশ কিছু বিশিষ্ট নাগরিক র‍্যাডক্লিফ কমিশনের কাছে তাঁদের দাবির সমর্থনে জোরালো বক্তব্য পেশ করলেন। যাঁরা চেয়েছিলেন মুর্শিদাবাদ পাকিস্তানে যাক, তাঁদের দাবির ভিত্তি ছিল জেলায় মুসলিম জনগোষ্ঠীর গরিষ্ঠতা। আর অপর পক্ষের দাবির ভিত্তি ছিল জেলার ভৌগোলিক অবস্থান। কলকাতা বন্দরের অস্তিত্ব নির্ভরশীল মুর্শিদাবাদ কোন দেশে যাবে তার উপর। বন্দররক্ষায় ভাগীরথী ও তার উপনদীগুলির জলধারার একটা বিরাট ভূমিকা রয়েছে।

আরও পড়ুন: রূপালীর ৮টি বই, স্বপ্ন থেকে বাস্তব, সঙ্গে ইতিহাসও

দু’ পক্ষই নিজ নিজ দাবির স্বপক্ষে কমিশনে রিপোর্ট পেশ করল। চেয়ারম্যান র‍্যাডক্লিফ তাঁর চূড়ান্ত অ্যাওয়ার্ড দাখিল করলেন ১২ আগস্ট। বিতর্ক-মতবিরোধ-অশান্তির আশঙ্কায় সেই অ্যাওয়ার্ড ১৫ আগস্টের আগে প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকে সরকার। শেষ পর্যন্ত ১৮ আগস্ট বিকেলে রায় বেরোল কমিশনের। স্বাধীন ভারতের তেরঙা পতাকা উড়ল মুর্শিদাবাদে। খুলনা চলে গেল তদানীন্তন পাকিস্তানে।

হাতের কাছে রয়েছে জাহির রায়হানের ‘মুর্শিদাবাদ’ গ্রন্থটি। এ সব সবিস্তার ইতিহাস পাওয়া গেল সেই গ্রন্থে। জাহির অবশ্য এই গ্রন্থে শুধু যে মুর্শিদাবাদের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করেছেন তা নয়, নানা দিক থেকে মুর্শিদাবাদকে তুলে ধরেছেন পাঠকের কাছে। এঁকেছেন মুর্শিদাবাদের একটা পূর্ণাঙ্গ ছবি।

গ্রন্থের শুরুতেই রয়েছে মুর্শিদাবাদ নাম কী ভাবে এল, তার ইতিহাস। নবাবি আমল থেকে শুরু করে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ের মুর্শিদাবাদকে যথাযোগ্য ভাবে উপস্থাপন করেছেন জাহির। নদনদী, জলাভূমি, যোগাযোগ ব্যবস্থা-সহ মুর্শিদাবাদের ভৌগোলিক বিবরণ সমৃদ্ধ করেছে এই গ্রন্থটিকে। নদীভাঙনের সমস্যাও জাহিরের গ্রন্থে এসেছে পৃথক অধ্যায় হিসাবে। জেলার অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে জাহির বাদ দেননি আম-লিচু-মিষ্টি, জেলার হাট এবং বিভিন্ন শিল্পকর্মকে। জেলা সদর বহরমপুর ও অতীতের নদীবন্দর কাশিমবাজারকে আলাদা ভাবে পরিচিত করানো হয়েছে পাঠকদের সঙ্গে।

হাজারদুয়ারি।

সিরাজের মুর্শিদাবাদ নিয়ে আলোচনা করলে আমরা কি সেখানকার পর্যটনকেন্দ্রগুলি বাদ রাখতে পাড়ি? পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পর্যটনস্থল মুর্শিদাবাদ। নবাবি আমলের নানা স্থাপত্য দাঁড়িয়ে রয়েছে এই জেলার মাটিতে, যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেশের ইতিহাস, তার কিছু রোমহর্ষক এবং রক্তাক্তও বটে। ‘মুর্শিদাবাদ’ গ্রন্থে জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলি নিয়ে খুঁটিনাটি আলোচনা করেছেন জাহির। গ্রন্থে রয়েছে জেলার মেলা-পার্বণের কথাও। একই সঙ্গে জাহির শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছেন জেলার কৃতী সন্তানদের।

এক কথায়, মুর্শিদাবাদকে জানতে হলে অবশ্য পাঠ্য জাহির রায়হানের ‘মুর্শিদাবাদ’। মুর্শিদাবাদের ভূমিপুত্র জাহির নিজের জেলাকে চেনেন হাতের তালুর মতো। তাঁর সেই পরিচয় রয়েছে বইয়ের প্রতিটি ছত্রে। শুধু তা-ই নয়, বাংলা লেখায় তাঁর দখল অনস্বীকার্য। এক অনুপম গদ্যশৈলীর ধারক তিনি। তাই ‘মুর্শিদাবাদ’ গ্রন্থের পাঠযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার কোনো অবকাশই নেই।

বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় নিয়মিত লেখেন জাহির রায়হান। খবর অনলাইনেরও নিয়মিত লেখক তিনি। আমরা গর্বিত। জাহিরের ‘মুর্শিদাবাদ’ গ্রন্থ পাওয়া যাচ্ছে কলকাতা বইমেলায় ৩৫২ নম্বর স্টলে, ‘রংরুট হলিডেয়ার-এ।   

Continue Reading

কলকাতা বইমেলা

কুড়ি বইমেলার কড়চা

kolkata book fair

জাহির রায়হান

“একমাত্র চার পেয়ে টেবল ছাড়া, চিনারা সব চার পেয়ে জিনিসই খায় গোগ্রাসে”, পুকাই বলল। তার পর পরই শান্তনুদার মোক্ষম – “আর বাঘের হাড়ের গুঁড়ো খায় যৌনশক্তি বাড়াতে।”। সার্থক এক পাশে কানে হেডফোন গুঁজে বই পড়ছে একমনে, এ দিকে এ হেন দু’টি উবাচ-উক্তিতে শেষ হয়ে গেল আমার ক্ষণজন্মা বুদ্ধির দৌড়। করোনা রোগের উৎপত্তি এবং বাড়বাড়ন্ত চিন দেশে তা শুনেছি, তা বলে বাঘের হাড়গুঁড়ো আর চার পেয়ে টেবল? কখনও শুনিনি বাপ!

রংরুটের স্টলে চলছে আমার এ বছরের বইমেলার আড্ডা। গত কয়েক বছর থেকে লক্ষ করছি, বইমেলায় গেলে নিজেকে বুদ্ধিজীবী বুদ্ধিজীবী মনে হয়। তাই যাওয়ার লোভ সামলাতে পারি না। তা ছাড়া এ বছর গ্রন্থকার হিসেবে পুস্তক-পার্বণে প্রবেশ আমার। আমায় আটকায় সাধ্যি কার! ৩৫২ নম্বর স্টলে ঢুকতেই শান্তনুদা ইশারা করলেন এক মগ্ন বইক্রেতাকে, ওই দেখুন উনিই লিখেছেন বইটি। ক্রেতার হাতে তখন ‘মুর্শিদাবাদ’। তার পর পাঠক, লেখক দু’ জনেই করলাম সুযোগের সদ্ব্যবহার। লেখককে কাছে পেয়ে উনি আমার সই বাগালেন, আমিও নিজেকে কেউকেটা মনে করে রঙিন বইয়ের সাদা মলাটে লিখে দিলাম পিতৃদত্ত নাম, জাহির রায়হান।

বইমেলার একাংশ।

কেউ একজন ফেসবুকে লিখেছেন দেখলাম, এত লোকের স্ট্যাটাস পড়ি ফেসবুকে, তা না পড়ে যদি অতগুলো বই পড়তাম, কোথায় পৌঁছে যেতাম আজ। কথাটি কিন্তু মন্দ নয়। সারা বছর বইমেলা কেন হয় না, তা নিয়ে আমার অন্তরে হালকা আক্ষেপ কাজ করে। বাঙালির তো মেলা-খেলা-পালপরবের কমতি নেই, সব উৎসব-অনুষ্ঠানে যদি বইয়ের ছোটো ছোটো স্টল করা হত, কতই না ভালো হত। পাঠক-ক্রেতাকে উৎসাহ দিতে গিল্ড অফিস থেকে হাঁকছে মাইকে, এক হাজার টাকা বা অধিক মূল্যের বই খরিদ করলেই আপনি হতে পারেন সৌভাগ্যবান বিজেতা। সে সব শুনতে শুনতে চলে গেলাম ‘জাগো বাংলা’র স্টলে। সেখানে গিয়ে দেখি থরে থরে সাজানো রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর স্টল জুড়েই ‘জাগো বাংলা’র জয়গান, নো এনআরসি, নো সিএএ, নো এনপিআর।

মাইকে বাংলা গান বাজছিলই, দেখি পশ্চিমবঙ্গ মণ্ডপের সামনে জমে উঠেছে লোকগানের আসর। সামনে থেবড়ে-দেবড়ে বসে তা উপভোগ করছে আট থেকে আশি। আমি ঘুরে চলেছি স্টল থেকে স্টলে, হাতে ঝুলছে মোবাইল চার্জারের সাদা তার, খুঁজে চলেছি ইলেকট্রিক প্লাগ। বন্ধু সেবাব্রত দু’টি বই কেনার ফরমান পাঠিয়েছে মোবাইলে, এ দিকে ফোনে চার্জ নেই একফোঁটা। কী করি কী করি, ভাবতে ভাবতেই অরণ্যমনে সন্ধান মিলল হঠাৎই। অনিমেষ বৈশ্যর ‘নুন মরিচের জীবন’ কিনে সেখানেই ১০ মিনিট বলে পাক্কা ৪৫ মিনিটের বৈদ্যুতিক তরঙ্গ বাগিয়ে নিলাম ফকোটিয়ায়।

বইমেলায় চলছে লোকগান।

সুখেন্দুশেখর দে-কে চিনতাম বন্ধুর বাবা হিসেবে, এখন চিনি গিল্ডের কর্মকর্তা হিসেবে। বন্ধু হারিয়ে গেছে বহু দিন, যোগাযোগ নেই আর। কোনো একটি টিভি চ্যানেল সাক্ষাৎকার নিচ্ছে সুখেন্দুবাবুর, সঞ্চালকের প্রশ্নের উ্ত্তরে বললেন তিনি, “৯ তারিখ শেষ হচ্ছে এ বছরের বইমেলা, ঠিক পরের দিন ১০ তারিখ শুরু হবে আগামী বছরের প্রস্তুতি।”

কতকটা তাই-ই, এত বড়ো আয়োজন, যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ বটেক। বাঙালি কি বই কিনছে? প্রশ্ন উঁকি দিল মাথায়। মনে মনে খুঁজছিলাম সেই ক্রেতাকে, যে গত বার একাই লক্ষ টাকার বই কিনে স্থান করে নিয়েছিলেন সংবাদপত্রের পাতায়। গত বার যখন আসি, ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর ট্রায়াল চলছিল মাথার ওপরে। এক বছর অতিক্রান্ত, সে ট্রায়াল এখনও বুঝি শেষ হয়নি, এখনও গড়ায়নি মেট্রোর চাকা। তবে এ বার গড়াবে, ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে।

ট্রাভেল ছুটি কি এ বার স্টল দেয়নি? খুঁজলাম, পেলাম না। সুপ্রতীমবাবুকে ফোন করতে হবে একবার। ট্রাভেল রাইটার্স ফোরামে ছিল না শ্রয়ণ, ছিলেন না বিদ্যুৎদাও। আশিসবাবুর দেখা পেলাম না চলো যাই-এ। আমি কি তবে একটু আগে এসেছি বইমেলা চত্বরে? হবে হয়তো, তাই বুঝি লোক কম, এখনও বুঝি জানতে পারেনি সকলে, আমি রয়েছি প্রাঙ্গণে! হা হা, দেখছেন তো বইমেলা গেলে কেমন নিজেকে বুদ্ধিজীবী বুদ্ধিজীবী বলে মনে হয়!  

ছবি: লেখক

Continue Reading

কলকাতা বইমেলা

বুধবার থেকে পাঁচ দিন ব্যাপী বইমেলা শুরু হচ্ছে বাঁকুড়ার ইন্দাসে

ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: ‘বই পড়ুন, বই পড়ান ও বই উপহার দিন, বইয়ের চেয়ে পরম বন্ধু আর কিছু নেই।’ এই বার্তাকে সামনে রেখে বুধবার বইমেলা শুরু হচ্ছে বাঁকুড়ার ইন্দাসে। এ বার এই বইমেলা দ্বিতীয় বর্ষে পড়ল। ইন্দাসের বিডিও সুচেতনা দাসের বিশেষ উদ্যোগে দ্বিতীয় বর্ষ বইমেলা উপলক্ষে স্থানীয় হাইস্কুল মাঠে এখন সাজো সাজো রব।

ইন্দাস ব্লক প্রশাসন ও পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগে দ্বিতীয় বর্ষ বইমেলার উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসের প্রধান বিএম জামাল হুসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন ভাষা আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব ডঃ ইমানুল হক, মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা, জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু, মহকুমা শাসক (বিষ্ণুপুর) ময়ুরী ভাসু, সভাধিপতি অরূপ চক্রবর্তী, বিধায়ক গুরুপদ মেটে, আনন্দ পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি সুধীর দত্ত প্রমুখ।

বইমেলা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ বার বইমেলায় কলকাতা ও রাজ্যের তিরিশটি প্রকাশনা সংস্থা যোগ দিচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় কবি-লেখকদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের জন্যও আলাদা স্টলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে বইমেলা কমিটি সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গেছে।

বইমেলা মঞ্চে প্রতি দিন থাকছে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সেই সঙ্গে হবে আলোচনাসভা, কবি সম্মেলনও। আগামী কয়েক দিন জেলার কবি, সাহিত্যিকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অন্যতম গন্তব্যস্থল হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইন্দাসের বিডিও সুচেতনা দাস বলেন, “বইয়ের চেয়ে ভালো বন্ধু হয় না। ইন্দাস ব্লক সহ বাঁকুড়া জেলার মানুষের কাছে সহজে ও সুলভে বই পৌঁছে দিতে এই বইমেলা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।” বইমেলায় প্রতি দিন আসার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। বইমেলা চলবে আগামী ৪ মার্চ পর্যন্ত।

Continue Reading
Advertisement
বাংলাদেশ5 hours ago

‘দম ফুরাইলে ঠুস’-এর গায়ক প্লেব্যাক সম্রাট এন্ড্রু কিশোর প্রয়াত

রাজ্য11 hours ago

নতুন সংক্রমণ কিছুটা কম, রাজ্যে করোনামুক্ত হলেন ১৫ হাজার

প্রযুক্তি11 hours ago

নতুন অ্যাপ ‘সেল্‌ফ স্ক্যান’ নিয়ে এল রাজ্য সরকার! এর কাজ কী?

বিনোদন12 hours ago

সুশান্ত সিং রাজপুত মৃত্যু-রহস্যে থানায় বয়ান রেকর্ডের পর নি‌ঃশব্দেই বেরিয়ে এলেন সঞ্জয়লীলা বনশালী

ক্রিকেট13 hours ago

ওপেনার সচিন তেন্ডুলকরের গোপন রহস্য ফাঁস করলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়

কেনাকাটা13 hours ago

রান্নাঘরের টুকিটাকি প্রয়োজনে এই ১০টি সামগ্রী খুবই কাজের

দার্জিলিং13 hours ago

‘বিশ্বাস ছিল এই লড়াই জিতব’, করোনাকে জয় করে বাড়ি ফিরলেন অশোক ভট্টাচার্য

বিদেশ14 hours ago

মার্কিন পথে কুয়েতও, কর্মহীন হয়ে দেশছাড়া হতে পারেন ৮ লক্ষ ভারতীয়

কেনাকাটা

কেনাকাটা13 hours ago

রান্নাঘরের টুকিটাকি প্রয়োজনে এই ১০টি সামগ্রী খুবই কাজের

খবরঅনলাইন ডেস্ক : লকডাউনের মধ্যে আনলক হলেও খুব দরকার ছাড়া বাইরে না বেরোনোই ভালো। আর বাইরে বেরোলেও নিউ নর্মালের সব...

কেনাকাটা2 days ago

হ্যান্ড স্যানিটাইজারে ৩১ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে অ্যামাজন

অনলাইনে খুচরো বিক্রেতা অ্যামাজন ক্রেতার চাহিদার কথা মাথায় রেখে ঢেলে সাজিয়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের সম্ভার।

DIY DIY
কেনাকাটা6 days ago

সময় কাটছে না? ঘরে বসে এই সমস্ত সামগ্রী দিয়ে করুন ডিআইওয়াই আইটেম

খবর অনলাইন ডেস্ক :  এক ঘেয়ে সময় কাটছে না? ঘরে বসে করতে পারেন ডিআইওয়াই অর্থাৎ ডু ইট ইওরসেলফ। বাড়িতে পড়ে...

smartphone smartphone
কেনাকাটা1 week ago

লকডাউনের মধ্যে ফোন খারাপ? রইল ৫ হাজারের মধ্যে স্মার্টফোনের হদিশ

খবরঅনলাইন ডেস্ক : করোনা সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে ঘরে বসে যতটা কাজ সারা যায় ততটাই ভালো। তাই মোবাইল ফোন খারাপ...

নজরে