সপ্তমীতে সংক্রমিত ৭৬৮, গত বছরের সপ্তমীতে ছিল ৪,১৫৭

0

কলকাতা: উৎসবের মরশুমের মধ্যে খুব স্বাভাবিক ভাবেই পশ্চিমবঙ্গে করোনা সংক্রমণ বেড়েছে। তবে তা খুবই নগণ্য। তবে একশ্রেণীর মানুষ যে ভাবে আতংক তৈরি করছেন, সেই ধরনের কোনো বৃদ্ধি রাজ্যের কোভিড সংক্রমণের গ্রাফে এখনও পর্যন্ত নেই। বরং এটা বলতেই হয় যে পরিস্থিতি এখনও পর্যন্ত স্বাভাবিক।

অথচ গত বছর এই পুজোর সময়তেই সংক্রমণ কার্যত ভয়াবহ অবস্থায় ছিল। প্রতিদিন চার হাজারের অধিক মানুষ কোভিডে আক্রান্ত হচ্ছেন। মৃত্যুও হচ্ছে ষাটের অধিক মানুষের। আর তখন টিকা নামক কোনো বর্মও মানুষের কাছে ছিল না। তবুও সংখ্যায় অনেক কম হলেও মানুষ ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছিলেন, উপভোগ করেছিলেন পুজো।

এ বছরের পরিস্থিতি কিন্তু এক্কেবারেই আলাদা। অনেক মানুষেরই টিকা হয়ে গিয়েছে। এমনকি শহরাঞ্চলে দু’ডোজ টিকাপ্রাপ্ত মানুষের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। এই পরিস্থিতি মানুষ কেন নিজেদের ঘরবন্দি করে রাখবেন। আর কোভিডের পরিসংখ্যানের যদি তুলনা করা হয়, তা হলে বোঝা যাচ্ছে পরিস্থিতি এখন কতটা ভালো।

amazon

সপ্তমীর সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৬৮ জন। গত বছর সপ্তমীতে এই সংখ্যাটা ছিল ৪ হাজার ১৫৭।

অনেকেই হয়তো বলতে পারেন গত বছর টেস্ট বেশি হয়েছিল। হ্যাঁ, গত বছর টেস্ট বেশি হয়েছিল। সেই তুলনায় এ বছর টেস্টের সংখ্যা কিছুটা কম। কিন্তু সংক্রমণের দাপট কী রকম রয়েছে সেটা দেখতে গেলে আমাদের সংক্রমণের হারের দিকে তাকাতে হয়। সপ্তমীতে রাজ্যে সংক্রমণের হার ছিল ২.৫৬ শতাংশ। আর গত বছরের সপ্তমীতে এই সংক্রমণের হার ছিল ৯.৩৯ শতাংশ।

গত বছর সপ্তমীতে রাজ্যে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ছিল ৩৬ হাজার ৬৪। মৃত্যু হয়েছিল ৬৪ জনের। এ বছরের সপ্তমীতে রাজ্যে সক্রিয় রোগী ৭ হাজার ৭৬২। মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের।

এ বার আসা যাক কলকাতা শহরের কথায়। এ বছরের সপ্তমীতে শহরে আক্রান্ত হয়েছেন ১৮০ জন। গত বছরের সপ্তমীতে এই সংখ্যাটাই ছিল ৮৭৪। অন্যদিকে, উত্তর ২৪ পরগণার এ বছর ১২৬টি নতুন সংক্রমণের বিপরীতে গত বছরের সংখ্যাটা ছিল ৮৬৮।

রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও গত বছরের সপ্তমীতে পরিস্থিতি ভয়াবহ ছিল। ১১টি জেলায় সংক্রমিত ছিল তিন সংখ্যায়। এর মধ্যে দুশোর ওপরে সংক্রমণ ছিল দক্ষিণ ২৪ পরগণা (২৫৯), হাওড়া (২৭৮) এবং হুগলিতে (২২৫)।

এ বছরের সপ্তমীতে কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগণার বাইরে কোনো জেলাতেই সংক্রমণ একশোর ওপরে নেই। সাতটি জেলায় সংক্রমণ রেকর্ড করা হয়েছে ১ সংখ্যায়। দক্ষিণ ২৪ পরগণা (৫৬), হাওড়া (৬৯) এবং হুগলির (৭৬) সংক্রমণ পরিস্থিতিও একদমই আলাদা।

গত বছর সপ্তমীর দিন রাজ্যের হাসপাতালগুলিতে কোভিডের জন্য নির্ধারিত শয্যাগুলির মধ্যে ৩৭.৭১ শতাংশ শয্যা ভরতি ছিল। এ বছর এখন মাত্র ২.৭৯ শতাংশ শয্যা ভরতি রয়েছে।

মহালয়ার তুলনায় সংক্রমণ

গত বছর মহালয়া ছিল ১৭ সেপ্টেম্বর। দুর্গাপুজো ছিল তার এক মাস পর। এই এক মাসে শহরে রাস্তায় উৎসাহী মানুষের ঢল নামে। এই সময়তেই লাগাতার সংক্রমণ বাড়তে থাকে। কিন্তু গত বছরের তুলনায় এ বছর সংক্রমণের সেই রকম কোনো বৃদ্ধি নজরেই পড়েনি।

গত বছর মহালয়ার দিন সংক্রমিত হয়েছিলেন ৩ হাজার ১৯৭ জন। অর্থাৎ মহালয়ার তুলনায় সংক্রমণ সপ্তমীতে বেড়েছিল ৩০.০২ শতাংশ। এ বছর মহালয়ার দিন রাজ্যে সংক্রমণ ছিল ৭৮৬ জন। অর্থাৎ মহালয়ার তুলনায় সপ্তমীতে সংক্রমণ তো বাড়েইনি, বরং তা ২.২৯ শতাংশ কমে গিয়েছে।

এই পরিসংখ্যান থেকে এটাই বোঝা যাচ্ছে যে রাজ্যের কোভিড পরিস্থিতি উদ্বেগজনক নয়। হাসপাতালগুলিও এখন যথেষ্ট ফাঁকা। ফলে অযথা আতংকিত হয়ে পড়বেন না। দুর্গাপুজোয় আনন্দ করুন ভরপুর। তবে মাস্ক মুখ থেকে নামালে চলবে না।

আরও পড়তে পারেন

আগের দিনের তুলনায় সামান্য বাড়লেও ১৬ হাজারের নীচেই থাকল দেশের দৈনিক সংক্রমণ

মহাষ্টমীর সকালে মুখভার আকাশের, হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা

ঝকঝকে আবহাওয়াকে সাক্ষী রেখে কলকাতা-সহ রাজ্যের অধিকাংশ অঞ্চল থেকে বিদায় নিল বর্ষা

আফগানিস্তানের মাটি যেন কোনোভাবেই সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর না হয়ে ওঠে, জি২০ বৈঠকে বার্তা নরেন্দ্র মোদীর

পিএফ গ্রাহকদের জন্য সুখবর! দীপাবলির আগে ৮.৫ শতাংশ সুদ পাওয়ার সম্ভাবনা

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন