cow worship
গোশালায় গোরু পুজো। নিজস্ব চিত্র।

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: যখন ভারতে কোনো গোরক্ষক গজায়নি, যখন কোনো রাজনৈতিক দল গোরুপুজোর কথা ভাবেনি, সেই সময় শতধিক বছর আগে জলপাইগুড়ির কতিপয় বাসিন্দা গোরু বাঁচানোর জন্য এগিয়ে এসেছিলেন। পরবর্তী কালে তাঁরা জলপাইগুড়িতে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন গোশালা, যা এখন বৈকুন্ঠনাথ পিঁজরাপোল গোশালা নামে পরিচিত। এখানে প্রচুর গোরু এখন প্রতিপালন করা হয়। বছরে এক দিন গোপাষ্টমীতে গোরুপুজো করা হয়। সেই উপলক্ষ্যে সন্ধ্যায় মেলা বসে। শুক্রবার ছিল সেই দিন।

জলপাইগুড়ির গোশালা এবং তার মেলার বয়স এখন ১০৭ বছর। গোশালা কমিটি সূত্রে জানা যায়, জলপাইগুড়ি শহরে এক সময় সমসংখ্যক হিন্দু এবং মুসলমানের বাস ছিল। হিন্দু ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটা বড়ো অংশ ছিল মারোয়াড়ি সম্প্রদায়। শহরের দিনবাজার এলাকায় তাদের বাস। মুসলমানদের পরবে অবাধে গোরু কাটা হত। এক দিন এ রকমই একটি গোরুকে একজন কসাই নিয়ে ষাচ্ছিলেন। তাই দেখে দিনবাজারের কয়েক জন ব্যবসায়ী এগিয়ে আসেন। তাঁরা তাঁর কাছ থেকে গোরুটি কিনে নেন।

fair on the day of gopashtami
গোশালা ঘিরে বসেছে মেলা। নিজস্ব চিত্র।

দিনবাজার এলাকায়ই একটি জায়গায় তাঁরা গোরুটি রেখে দেন। এর পর চোখের সামনে নিধন হতে যাওয়া গোরু দেখলেই তাঁরা কিনতে থাকেন। ক্রমে গোরুর সংখ্যা বাড়তে থাকে। গোরু রাখার জন্য একটা বড়ো জায়গার প্রয়োজন হয়ে পড়ে।গোরুদের খাওয়ানোর জন্য ঘাসেরও দরকার হয়ে পড়ে। তাঁরা বর্তমান জয়গায় গোশালাটি স্থাপন করেন। ক্রমে গোরুদের ভরণপোষণের জন্য ১৫০ বিঘা জমি কিনে নেন। এখন অবশ্য জমির সংখ্যা কমে ৫০ বিঘায় দাঁড়িয়েছে। এখন এখানে ২৫০টি গোরু থাকে। সংখ্যাটা মাঝে মাঝে বেড়ে যায়। কারণ সীমান্ত এলাকায় পাচারের সময় ধরা পড়া গোরু এখানে কিছু দিনের জন্য রাখা হয়।

আরও পড়ুন খোলা জায়গায় শৌচকর্ম করা গ্রামবাসীদের কেন মিষ্টি খাওয়াতে গেলেন ইন্দাসের বিডিও?

শুক্রবার গোপাষ্টমীর দিন গোরুদের জন্য বিশেষ পুজো দেওয়া হয়। এ দিন জলপাইগুড়ি দিনবাজার এলাকার মারোয়াড়ি সম্প্রদায়ের সমস্ত দোকান এবং ব্যবসা বন্ধ থাকে। তাঁরা সবাই এ দিন জলপাইগুড়ির দিনবাজার থেকে আড়াই কিলোমিটার দূরে গোশালায় এসে গোরুর পুজো এবং পরিচর্যা করেন। গোরুপুজোর পর বিকেলে মেলাপ্রাঙ্গণের মঞ্চে নানা রকম পোশাক পরে প্রতিযোগীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হয়। সন্ধ্যায় শুরু হয় বিচিত্রানুষ্ঠান। প্রথমে রাজস্থানী লোকগীতি, তার পর অর্কেস্ট্রা সহযোগে গান চলে। সব শেষে রাজবংশী সম্প্রদায়ের ভাওয়াইয়া এবং পালাটিয়া গান। এই গান রাতভর চলে।

baikunthanath goshala
বৈকুন্ঠনাথ পিঁজরাপোল গোশালা। নিজস্ব চিত্র।

বৈকুন্ঠনাথ পিঁজরাপোল গোশালা কমিটির সভাপতি কিশোর মারদিয়া বলেন, “আমাদের সমাজের সকলে প্রতি দিন গোরুকে খাইয়ে দিনের কাজ শুরু করেন। বছরে এক দিন গোপাষ্টমীতে আমরা সকলে মিলে গোরুর পুজো করি। দলমত নির্বিশেষে সবাই এ দিন এই উৎসবে শামিল হন।”

এ দিন বিকেলে গিয়ে দেখা গেল মেলা তখন জমতে শুরু করেছে, লোকজন সবে আসতে শুরু করেছেন। মেলা কমিটির দেওয়া হিসেব অনুযায়ী মেলায় প্রায় ৩০০ দোকান বসেছে।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here