congress and cpim tie up in Vidhan Sabha

কলকাতা: কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তকে আপাতত শিকেয় তুলে পশ্চিমবঙ্গ সিপিএম যৌথ কর্মসূচি নিয়ে ফেলল কংগ্রেসের সঙ্গে।  কলকাতায় আয়োজিত সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে ভোটাভুটিতে স্থির হয়েছিল বামপন্থার স্বকীয়তা রক্ষার স্বার্থে কংগ্রেসের সঙ্গে কোনো রকমের সমঝোতায় যাওয়া হবে না। কিন্তু সেই কলকাতাতেই কংগ্রেসের হাত ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধিতায় নামছে সিপিএম। রাজ্যের বাজেট অধিবেশনে সম্মিলিত ভাবে রাজ্য সরকারকে পর্যুদস্ত করতে এই দুই বিরোধী দলের উচ্চ নেতৃত্বের ঘনঘন বৈঠকই সে কথা প্রমাণ করছে।

গত  তিন দিনে বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী এবং কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নানের দু’টি রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে। সূত্রের খবর, সেখানে বাজেট প্রক্রিয়ার বিরোধিতাকে কতটা জোরালো করে তোলা যায়, তা নিয়েই একটি চুড়ান্ত রূপরেখা তৈরি হয়েছে। রাজ্য বাজেটের প্রথম দিনের একেবারে শুরু থেকেই যে চড়া সুরে সরকারকে আক্রমণ করা হবে, সে সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর বক্তব্য পেশের সময় থেকেই প্রতিবাদে মুখর হবেন বিরোধী বিধায়করা। তাঁদের হাতে থাকবে বিভিন্ন রকমের পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড।

জানা গিয়েছে, এই সমস্ত পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড তৈরির দায়িত্ব নিয়েছেন সুজনবাবু। গত বার বাজেট পেশের সময় বিধানসভায় যে ধরনের প্রতিবাদ আন্দোলন সংগঠিত করতে সফল হয়েছিল বিরোধী কংগ্রেস-সিপিএম, এ বারও তার ব্যতিক্রম হবে না বলে ধারণা করছে বামেরা। যে কারণে আগে থেকেই তার প্রস্তুতি সেরে রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২৭ জানুয়ারি বিধানসভায় শিল্প বিষয়ক বৈঠকেই শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় রাজ্য বাজেটের পূর্ব নির্ধারিত তারিখ ১ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ৩১ জানুয়ারি করার কথা ঘোষণা করেন। তখনই কংগ্রেস প্রতিবাদ জানাতে বৈঠক থেকে প্রস্থান করে। তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই বাম প্রতিনিধিরাও বৈঠক ত্যাগ করেন। এর পর আবদুল মান্নানের চেম্বারে গিয়ে কথা বলেন সুজনবাবু। সেখানেই প্রাথমিক ভাবে স্থির হয়, আগামী বাজেট অধিবেশনে কংগ্রেস-সিপিএম এক সঙ্গেই প্রতিবাদে অংশ নেবে। কিন্তু সুজনবাবু সে দিন মান্নানসাহেবকে কথা দিলেও আলিমুদ্দিনের স্বীকৃতির প্রয়োজন ছিল। যা গত সোমবার মিলে যেতেই ফের বৈঠকে মিলিত হন সুজন-মান্নান।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন