demonstration before IC chamber

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: ফের প্রাক-নির্বাচনী সন্ত্রাসের অভিযোগ নিয়ে উত্তেজনা ছড়াল জলপাইগুড়িতে। সিপিএম নেতার ওপর হামলার অভিযোগ। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার গ্রেফতারির দাবিতে কোতোয়ালি থানার আইসির চেম্বার ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাল বামফ্রণ্ট।

আহত হয়ে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তমাল চক্রবর্তী। তিনি সিপিএমের জলপাইগুড়ি সদর পশ্চিম এরিয়া কমিটির সম্পাদক। শুক্রবার বেলা আড়াইটে নাগাদ জলপাইগুড়ি সদর  বিডিও অফিসে আসেন পাতকাটা অঞ্চলের বাম-কংগ্রেস সমর্থিত পঞ্চায়েত সমিতির নির্দল প্রার্থী হামিদুল মহম্মদের হয়ে প্রতীক চিহ্নহ নিতে। অভিযোগ, বিডিও অফিস থেকে বের হওয়ার সময় তাঁকে ঘিরে ধরেন বারোপাটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বিদায়ী প্রধান তথা তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ দাস এবং ২৫-৩০ জন তৃণমূল কর্মী। কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুরু হয় মারধর। তাঁকে ফেলে দেওয়া হয় নর্দমায়। তমালবাবুর অভিযোগ, ঘটনার সময় পুলিশ সেখানে থাকলেও তারা নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিলেন। স্থানীয়  কয়েক জন বাসিন্দা তাঁকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এই ঘটনার পর সন্ধ্যায় বামফ্রণ্টের নেতা-কর্মীরা মিছিল করে কোতোয়ালি থানায় চলে আসেন। আইসি বিশ্বাশ্রয় সরকারের ঘরের সামনে অবস্থান অবরোধ শুরু করেন তাঁরা। তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারির দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। অপ্রীতিকর ঘটনার আশংকায় থানায় র‍্যাফ মোতায়েন করা হয়। প্রায় ঘণ্টা দেড়েক পরে আইসি বিশ্বাশ্রয় সরকার নিরপেক্ষ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে ঘেরাও-অবরোধ মুক্ত হয় থানা।

যদিও হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ দাস। ঘটনার পর তাঁকে ওই এলাকায় পাওয়া যায়নি। ফোনে তিনি জানিয়েছেন, অনেকক্ষণ আগেই তিনি বিডিও অফিস থেকে চলে এসেছেন। তাই ঘটনায় তিনি বা তাঁর অনুগামীরা যুক্ত নন। সদর বিডিও তাপসী সাহা জানিয়েছেন,  তিনি এই ধরনের ঘটনার কথা জানেন না। কোনো অভিযোগও তাঁর কাছে জমা পড়েনি।

এ দিকে মনোনয়ন প্রত্যাহার নিয়েও শাসক দলের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে বিরোধী শিবির। বিরোধীদের অভিযোগ, মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য এলাকায় এলাকায় চলছে তৃণমূলী সন্ত্রাস। সব চেয়ে বেশি আক্রমণ আসছে বিজেপির প্রার্থীদের ওপর। বারোপাটিয়া,  পাতকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের কোথাও কোথাও ভয়ভীতি দেখিয়ে, হুমকি দিয়ে প্রথমে তৃণমূলে যোগদান করানো হচ্ছে বিজেপি প্রার্থীদের। তার পর তাঁদের দিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি দেবাশিস চক্রবর্তী। পাতকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের এক বিজেপি প্রার্থী শিবানী দাস এ দিন সদর বিডিও অফিসে এসে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা যে ভাবে বাড়ি গিয়ে ছেলেমেয়েদের ক্ষতি করার ভয় দেখাচ্ছে তাতে আর ভোটে দাঁড়ানোর সাহস নেই। কারণ পুলিশ কোনো নিরাপত্তা দিচ্ছে না।”

ধূপগুড়ি এবং রাজগঞ্জ ব্লকেও একই চিত্র। কোনো কোনো এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্যদের খুনের হুমকি দিয়ে প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করা হচ্ছে। কোথাও জোর করে তৃণমূলে যোগ দেওয়ানো হচ্ছে। ধুপগুড়ির বিজেপি নেতা তথা দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক বিষ্ণুপদ রায় জানিয়েছেন,  এই কারণে তাঁরা অনেক প্রার্থীদের এলাকা থেকে সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে রেখেছেন।

যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। জেলা তৃণমূল  সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী জানিয়েছেম, সব ভীত্তিহীন অভিযোগ,  উন্নয়নের নিরিখেই তাঁরা নির্বাচনে লড়ছেন। বিরোধীশুন্য পঞ্চায়েত গড়াই লক্ষ্য তাঁদের, এ-ও অবশ্য জানাতে ভোলেননি সৌরভবাবু।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here