নোট নিষিদ্ধ হওয়ায় উজ্জ্বলতা ফিকে উত্তরবঙ্গের সোনার ব্যবসায়

0

বাতিল নোটের ধাক্কায় বড় ধরনের পতন গয়না ব্যবসায়। সামনেই বিয়ের মরশুম। কিন্তু ক্রেতা থাকলেও চাহিদা অনুযায়ী গয়না দিতে পারছেন না জলপাইগুড়ির স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। কারণ একটাই, বাজারে নগদ টাকার টান।

নোট বাতিলের ঘোষণার পর পার হয়ে গিয়েছে ৩দিন। কিন্তু প্রতিশ্রতি মত নতুন ৫০০ বা ২০০০ হাজার টাকার নোট এখনো পর্যন্ত পর্যাপ্ত পরিমাণে হাতে আসেনি আমজনতার। সরকারি নির্দেশ অনু্যায়ী পুরোনো ৫০০ বা ১০০০ এর নোটও নিতে পারছেন না স্বর্ণব্যবসায়ীরা। অথচ সোনার গয়নার দাম এত বেশি হয় যে খুচরো টাকা দিয়ে সেটা মেটানো সম্ভব নয়। ফলে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে সোনার গয়নার ব্যবসা। জলপাইগুড়ি স্বর্ন ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক বিকাশ দাস জানিয়েছেন, গত তিন দিনে প্রায় ৭০% কমে গিয়েছে গয়না বিক্রি। অবস্থা এতটাই খারাপ যে অনেক স্বর্ণ ব্যবসায়ী সকালে শোরুম খুললেও ব্যবসার হাল দেখে দুপুরে শোরুম বন্ধ করে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। এরকমই একজন ব্যবসায়ী সুজিত রায় জানিয়েছেন, সকাল থেকে দোকানে কোনো গ্রাহক আসেননি, তাই দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। জলপাইগুড়ি শহরে ৬৫ টি সোনার গয়নার দোকানের মধ্যে অধিকাংশ দোকানই বন্ধ রয়েছে। যেগুলি খোলা রয়েছে সেগুলির মালিকেরা জানিয়েছেন নেহাতই অভ্যাস বশে দোকান খুলেছেন। সামনেই অগ্রহায়ণ মাস থেকে বিয়ের মরশুম। অনেকে গয়নার অর্ডার দিয়ে গিয়েছেন। তা তৈরিও করে রেখেছেন কিন্তু ক্রেতার কাছে নগদ লক্ষাধিক  টাকার জোগান না থাকায় সেই তৈরি গয়না স্বর্ণব্যবসায়ীর সিন্দুক-বন্দি।

jlp_jwellery-1

জলপাইগুড়ি নয় গোটা উত্তরবঙ্গের ৭টি জেলাতেই কম বেশি একই চিত্র। আলিপুদুয়ার শহরের অমিত রায় নামে এক সরকারি চাকুরিজীবীর মেয়ের বিয়ে দু-সপ্তাহ পরে।গয়নার অর্ডারও দেওয়া হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ব্যাংক থেকে এখনো টাকা তুলতে না পারায় কী করে গয়নার দেড় লক্ষ টাকা মেটাবেন তা ভেবে পাচ্ছেন না। খুব দ্রুত বাজারে নতুন নোটের জোগান না এলে পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হতে পারে বলে আশংকা করছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন