cyclone akkhi

ওয়েবডেস্ক: উপকরণ রেডি, এবার শুধু ঘনীভূত হওয়ার পালা। আসন্ন ঘূর্ণিঝড় রাজ্যের উপকূলে আছড়ে পড়বে কি না সে ব্যাপারে ঠিক পূর্বাভাস না দেওয়া গেলেও, এবার কালীপুজোয় যে প্রবল বৃষ্টি হতে চলেছে তা এক প্রকার নিশ্চিত।

বর্ষা বিদায়ের এই সময়টা বঙ্গোপসাগর খুব অস্থির থাকে। তাপমাত্রার হেরফের হয়। এর প্রভাবেই ঘনঘন নিম্নচাপে তৈরি হয়। সাগরের তাপমাত্রা অনুকূল থাকায় সেই নিম্নচাপ দ্রুত গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয় এবং অনেক ক্ষেত্রেই তা ঘূর্ণিঝড়, প্রবল ঘূর্ণিঝড় বা অতী প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেয়। যেমনটা হয়েছিল ২০১৩-এর অক্টোবরে ফাইলিনার ক্ষেত্রে এবং তার পরের বছর হুডহুডের ক্ষেত্রে। হুডহুড কলকাতা বা দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়াকে প্রভাবিত করতে না পারলেও, ফাইলিনের ভালোই প্রভাব পড়েছিল এ রাজ্যে।

কিন্তু এবার কী হবে?

ঘূর্ণিঝড় যে তৈরি হতে চলেছে সে ব্যাপারে এক প্রকার নিশ্চিত বিভিন্ন বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা, বিদেশি মডেল। যদিও এ ব্যাপারে এখনও কিছু মতামত দেয়নি কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর। আবহাওয়া দফতরের মতে যতক্ষণ না নিম্নচাপটি তৈরি হচ্ছে ততক্ষণ নিশ্চিত ভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

তবে আবহাওয়ার বিভিন্ন মডেলের মতে ঘূর্ণিঝড়টি আগামী ১৯ অক্টোবর অর্থাৎ কালী পুজোর দিন পুরী সংলগ্ন ওড়িশা উপকূল দিয়ে স্থলভাগে ঢুকবে। আসন্ন এই ঘূর্ণিঝড়টিকে নাম দেওয়া হবে অক্ষি। এই নামটি বাংলাদেশের দেওয়া।

বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কার মতে, ওই নিম্নচাপটি দ্রুত শক্তি বাড়িয়ে পশ্চিম উত্তরপশ্চিম দিকে এগোবে, অর্থাৎ ওড়িশা উপকূলের দিকে। তাঁর কথায়, “ওড়িশা উপকূল দিয়ে প্রবেশ করলেও, পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ করে রাজ্যের উপকূলীয় অংশে ভালোই প্রভাব পড়বে। প্রবল বৃষ্টি হবেই, সেই সঙ্গে থাকবে ঝোড়ো হাওয়া।” তবে কিছু মডেল আবার অক্ষিকে চাঁদিপুর এবং দিঘার মাঝখান দিয়ে স্থল ভাগে প্রবেশ করার পূর্বাভাস করেছে। সেরকম যদি হয়, তাহলে বাংলার ওপর যে অশনি সঙ্কেত তা বলাই বাহুল্য। তবে ওড়িশা দিয়ে প্রবেশ করলে কিছুটা রেহাই মিলতে পারে রাজ্যে।

তবে রাজ্য দিয়ে ঘূর্ণিঝড় প্রবেশ করুক কী না করুক, কালী পুজোয় সারাদিনই বৃষ্টি হবে সমগ্র দক্ষিণবঙ্গে। তার প্রভাব থাকবে ভাইফোঁটার দিনেও। ভারী বৃষ্টি তো বটেই, ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।

আবার অনেক সময়ে সাগরেই বিলীন হয়ে যায়, বা গতিপথ পরিবর্তন করে ফেলে ঘূর্ণিঝড়। আপাতত সেরকম কোনো ইঙ্গিত না থাকলেও, শেষ মুহূর্তে প্রকৃতি কী খেল দেখায় সেটাই দেখার।