ফণী লাইভ: বড়োসড়ো ক্ষয়ক্ষতি এড়িয়েই রাজ্য থেকে বিদায় ফণীর

5

ওয়েবডেস্ক: ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ফণী। প্রথমে ওড়িশা হয়ে এই ঝড় আছড়ে পড়বে পশ্চিমবঙ্গে। ঝড়ের রোষ থেকে রেহাই পাবে না খোদ কলকাতাও। ফণীর গতিপ্রকৃতি সংক্রান্ত যাবতীয় খবরাখবর আমরা, মানে খবর অনলাইন আপনাদের দিয়ে যাব। আমাদের অনুরোধ, অযথা আতঙ্কিত হবেন না, কোনোরকম গুজবে কান দেবেন না।

ফণীর যাবতীয় আপডেট দেখতে চোখ রাখুন এখানে-

========================================

৪ মে শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটা

বড়োসড়ো ক্ষয়ক্ষতি এড়িয়েই রাজ্য ছেড়ে বাংলাদেশে পাড়ি দিল দুর্বল হয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় ফণী। শুক্রবার রাত ১টার পর কলকাতায় ফণীর প্রভাব পড়তে শুরু করে। কিন্তু ততক্ষণে তার দাপট অনেকটাই কমে গিয়েছে। হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৭৫ কিমি। যদিও দিঘা এবং সংলগ্ন পূর্ব মেদিনীপুরে ঝড়ের তীব্রতা অনেকটাই বেশি ছিল। আসলে পুরীতে আছড়ে পড়ার পর দীর্ঘক্ষণ স্থলভাগে থাকার ফলে ক্রমশ গতিবেগ কমে আসে ফণীর।

এই মুহূর্তে ফণীর কেন্দ্রের অবস্থান বাংলাদেশে। যদিও তার বাইরের অংশটির বেশ কিছুটাই রাজ্যের ওপরে রয়েছে। ফলে এখনও কলকাতায় দমকা হাওয়া চলছে। দুপুর পর্যন্ত রাজ্যে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি থাকতে পারে। দুপুরের পর ক্রমশ পরিষ্কার হবে আবহাওয়া। তবে ফণী কি রাজ্যে অন্য কোনো বিপদ নিয়ে এল? কিছুক্ষণের মধ্যে আমরা সেই রিপোর্ট নিয়ে আসব। দেখতে থাকুন খবর অনলাইন।

৩ মে শুক্রবার রাত ১:৩০

কলকাতায় প্রভাব ফেলা শুরু করেছে ঘূর্ণিঝড় ফণী। এই মুহূর্তে মহানগরীতে জোর বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৫৫ থেকে ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া দিচ্ছে। সময়ে যত এগোবে হাওয়ার গতিবেগ আরও কিছুটা বাড়তে পারে।

৩ মে শুক্রবার রাত ১:০০

ফণী ঢুকে পড়েছে বাংলায়। এই মুহূর্তে তার অবস্থান খড়গপুরের ওপরে। তবে ঝড়ের গতিবেগ অনেকটাই কম, ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১০০ কিমি। এর পর সেই ঝড় উত্তরপূর্বের দিকে এগোবে। ইতিমধ্যেই ফণীর দাপটে রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে প্রবল বর্ষণ শুরু হয়েছে। বর্ধমান, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুর প্রভৃতি জায়গায় প্রবল বৃষ্টি। কলকাতাতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি সঙ্গে হালকা ঝোড়ো হাওয়া দিচ্ছে।

৩ মে শুক্রবার রাত ১২:০০

এখনও বাংলায় পুরোপুরি ঢোকেনি ফনী। ফনীর বাইরের অঞ্চলটি রাজ্যে ঢুকে গেলেও ঝড়ের কেন্দ্র এখন বাংলা-ওড়িশা সীমান্তের বারিপদায়। তবে ঘূর্ণিঝড় শক্তি কমাচ্ছে। খড়গপুর দিয়ে রাজ্যে ঢোকার সময়ে ঝড়ের গতিবেগ থাকতে পারে ৯০ কিমি। তবে মাঝরাতে কলকাতার কাছ দিয়ে ফণী গেলে তখন বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ৭০ কিমি।

৩ মে শুক্রবার রাত ১০:০০

দিঘা দিয়ে বাংলায় আছড়ে পড়ল তীব্র ঘূর্ণিঝড় ফণীর ‘ডানা;। এই মুহূর্তে দিঘায় প্রবল ঝড় হচ্ছে। ঘণ্টায় ফণীর সর্বোচ্চ গতিবেগ ১০০ কিমি। তবে ঝড় যত এগোবে তত বাড়বে হাওয়ার গতিবেগ। ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছে না।

৩ মে শুক্রবার রাত ৮:৫০

বাংলার দিকে ক্রমশ এগিয়ে আসছে ফণী। এই মুহূর্তে দিঘা থেকে তার অবস্থান মাত্র ৬০ কিমি এবং কলকাতা থেকে দূরত্ব ২০০ কিমি। এই মুহূর্তে কলকাতার প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে বইছে ঝোড়ো হাওয়া।

৩ মে শুক্রবার রাত ৮:০০

আর কিছুক্ষণের মধ্যে রাজ্যে ঢুকে পড়বে ফণী। ইতিমধ্যেই উপকূলবর্তী অঞ্চলে প্রবল ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি হচ্ছে। কলকাতাতেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যে বৃষ্টির দাপট বাড়বে। ফণী বাংলায় ঢুকবে দিঘার উত্তরপশ্চিম দিয়ে, অর্থাৎ তার অভিঘাত ঝাড়গ্রামের কাছাকাছি থাকতে পারে। এর পর খড়গপুর, বিষ্ণুপুর, আরামবাগ, বর্ধমান, কাটোয়া, বেলডাঙা হয়ে ফণী ঢুকবে বাংলাদেশের ওপরে। এই জায়গাগুলি দিয়ে ফণীর চোখ অর্থাৎ ‘eye of the cyclone’ যাবে। এই সব জায়গায় ১০০ কিমি রেডিয়াসের জায়গাগুলিতে ফণীর ভালো প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা।

৩ মে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭:০০

দিঘা থেকে ১২০ এবং কলকাতা থেকে ২৪৫ কিমি দূরে রয়েছে ফণী।

৩ মে শুক্রবার বিকেল ৫:৪৫

পুরী আছড়ে পড়ার পর ফণী ক্রমশ দুর্বল হয়ে গেলেও, আবার শক্তিসঞ্চয় করছে ফণী। সর্বশেষ পাওয়া খবরে, ফণী অবস্থান করছে বালেশ্বরের কাছাকাছি। সেখানে স্থলভাগ দিয়ে না এসে আবার সমুদ্রে ঢুকে গিয়েছে সে। সাগরে ঢুকে যাওয়ার পর, আবার কিছুটা শক্তি বাড়ানোর ইঙ্গিত। কিছুক্ষণ পর থেকেই ফণীর দাপট টের পাবে উপকূলবর্তী পূর্ব মেদিনীপুর এবং সংলগ্ন পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম। হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৪০ কিমি। রাত দুটো থেকে চারটের মধ্যে কলকাতায় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা সব থেকে বেশি। তখন তার গতিবেগ পৌঁছতে পারে ১২৫ কিমিতে। এ ছাড়াও ভালো প্রভাব পড়তে পারে বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া, নদিয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনায়। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি এবং উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা।

৩ মে শুক্রবার বিকেল ৩টে

ঘূর্ণিঝড় ফণীর দাপটে ওড়িশায় মৃত্যু হল ৬ জনের। পুরী, ভুবনেশ্বরে তাণ্ডব চালিয়ে ফণী এবার এগোচ্ছে বাংলার দিকে। এই মুহূর্তে কলকাতা থেকে ৩৭০ কিমি দক্ষিণপশ্চিমে রয়েছে ফণী। শুক্রবার বিকেল থেকেই ফণীর প্রভাব টের পাবে বাংলা। রাত থেকে ঝড়ের দাপট বাড়বে কলকাতায়।

৩ মে শুক্রবার দুপুর ১২:৪৫

পুরী ছাড়িয়ে বেশ কিছুটা এগোতেই কিছুটা দুর্বল হয়েছে ঘূর্ণিঝড় ফণী। এই মুহূর্তে চরম প্রবল ঘূর্ণিঝড় থেকে সে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হয়েছে। আগামী ছ’ঘণ্টার মধ্যে সে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে শক্তিক্ষয় করবে। ততক্ষণে তার অবস্থান বলে বাংলা-ওড়িশা সীমান্তে। ফলে ফণী যত এগোবে, রাজ্যে আবহাওয়া আরও প্রতিকূল হবে। এ দিকে ফণীর প্রভাব পড়তে শুরু করে দিয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরে। সেখানে বেশ কিছু গাছ পড়ে গিয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

৩ মে শুক্রবার দুপুর ১২টা

কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ আপডেটে বলা হল, এই মুহূর্তে ফণীর অবস্থান দিঘা থেকে ৩৮০ এবং কলকাতা থেকে ৪৩৫ কিমি দক্ষিণপশ্চিমে। ক্রমে সেটি রাজ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। শুক্রবার গভীর রাতের পর থেকে ফণীর প্রভাব টের পারে দক্ষিণবঙ্গ। পশ্চিমবঙ্গের জন্য চরম সতর্কতা জারি কড়া হয়েছে।

সংবাদসংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, দিঘায় অবস্থিত এনডিআরএফের বিশেষ দল তাজপুর থেকে ১৩২ জনকে উদ্ধার করে সাইক্লোন শেল্টারে স্থানান্তরিত করেছে। এ দিকে ফণীর কথা মাথায় রেখে আজ বিকেল ৩টে থেকেই বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে কলকাতা বিমানবন্দরের পরিষেবা। আগে ঠিক ছিল রাত সাড়ে ন’টা থেকে বন্ধ করে দেওয়া হবে। আপাতত কাল সকাল ৮টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভুবনেশ্বরের বর্তমান পরিস্থিতি

৩ মে শুক্রবার সকাল ১০:৪৫

ফণী যত পশ্চিমবঙ্গের দিকে এগোচ্ছে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টির দাপটও বাড়ছে রাজ্যে। এই মুহূর্তে কলকাতায় প্রবল বৃষ্টি। মাঝেমধ্যে হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিমি ছাড়াচ্ছে।

৩ মে শুক্রবার সকাল ১০:১৫

পুরীতে আছড়ে পড়ে রাজ্যের দিকে এগিয়ে আসছে ফণী। ইতিমধ্যেই কলকাতায় শুরু হয়েছে বৃষ্টি। সময় যত এগোবে তত বাড়বে বৃষ্টির দাপট।

৩ মে শুক্রবার সকাল ৯:৪৫

সর্বশেষ খবর। পুরীতে তাণ্ডব চালাচ্ছে ফণী। উপকূলের সব জেলাই ক্ষতিগ্রস্ত। এ বার ফণী এগোবে উপকুল বরাবর।

৩ মে শুক্রবার সকাল ৯:৩০

সকাল ন’টায় পুরীতে সরকারি ভাবে আছড়ে পড়েছে ফণী। এর পর পুরীতে আরও তিন ঘণ্টা তাণ্ডব চালিয়ে ক্রমে পশ্চিমবঙ্গের দিকে এগোবে ফণী। ইতিমধ্যেই রাজ্যের উপকূলবর্তী অঞ্চলে শুরু হয়েছে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কলকাতআয় শুরু হয়ে যাবে বর্ষণ।

৩ মে শুক্রবার সকাল ৮:৩০

গতি বাড়িয়ে সময়ের আগেই পুরীতে আছড়ে পড়ল ফণী। আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ বুলেটিন বলছে পরবর্তী তিন ঘণ্টায় উপকূলে পুরোপুরি ঢুকে পড়বে ফণী। এই মুহূর্তে ফণীর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পুরীতে।

৩ মে শুক্রবার সকাল ৮:০০

একটা সময়ে তার গতিবেগ পেরিয়ে গিয়েছিল ঘণ্টায় ২৫০ কিমির ওপরে। সেখান থেকে কিছুটা কমে পুরী উপকূলে আছড়ে পড়ার দিকে আরও কিছুটা এগিয়ে গেল ঘূর্ণিঝড় ফণী। এই মুহূর্তে ফণীর অবস্থান পুরী থেকে ৮০ কিমি দক্ষিণ দক্ষিণপশ্চিম এবং কলকাতা থেকে ৩৭০ কিমি দক্ষিণ দক্ষিণপশ্চিমে।

তবে ফণীর গতিপথ নিয়ে শুক্রবার ভোরে আবহাওয়া দফতর যে নতুন পূর্বাভাস দিয়েছে, তাতে দক্ষিণবঙ্গে ফণীর দাপট কিছুটা কম হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। এখানে বলা হয়েছে ফণী রাজ্যে ঢুকবে প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে, অর্থাৎ তার গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১০০ কিমি মত। কলকাতায় এলে তার গতিবেগ আরও কিছুটা কমতে পারে। তবে এতে স্বস্তি পাওয়ার এখনও কিছু হয়নি। কারণ ক্ষয়ক্ষতি কতটা এড়ানো সম্ভব সে প্রশ্ন থেকেই যায়। পাশাপাশি বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা অবশ্য বলছে, দক্ষিণবঙ্গে ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৫০ কিমি বেগে ঝড় হতে পারে।

২ মে, বৃহস্পতিবার রাত ১২:০০

শক্তি বাড়াতে বাড়াতে চরম জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে ফণী। বিভিন্ন বিদেশি আবহাওয়া সংস্থা এবং বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থার মতে, ইতিমধ্যে ফণীর গতিবেগ ছাড়িয়ে গিয়েছে ২৫০ কিমি। কুড়ি বছর আগে ওড়িশার সেই সুপার সাইক্লোন আছড়ে পড়েছিল ২৬০ কিমি গতিবেগে। অর্থাৎ কুড়ি বছরে ফণী ভয়ংকরতম ঘূর্ণিঝড় হতে চলেছে।

তবে শুক্রবার দুপুর নাগাদ পুরীর কাছে আছড়ে পড়ার সময়ে গতিবেগ কিছুটা কমতে পারে। তার পর তার দক্ষিণবঙ্গের দিকে আসার কথা। বর্তমান পরিস্থিতির বিচারে, ফণীর প্রভাবে রাজ্যের উপকূলবর্তী অঞ্চলের থেকে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে। ফণীর সরাসরি অভিমুখ রয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান, নদিয়ার দিকে। বীরভূম, মুরসিদাবাদেও ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে। তবে এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে কলকাতার ৮০ কিমি উত্তরপশ্চিম দিয়ে বয়ে যেতে পারে ফণী।

২ মে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৮:৪৫

সুপার সাইক্লোনের তকমা পেতে চলেছে ফণী। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর এখনও ফণীকে সুপার সাইক্লোন হিসেবে ঘোষণা না করলেও, বেশ কিছু বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা এবং বিদেশি আবহাওয়া সংস্থা ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, অতীতের অনেক ঘূর্ণিঝড়ের রেকর্ড ছাড়িয়ে গিয়েছে ফণী। ওয়েদার আল্টিমার মতে, এই মুহূর্তে ফণীর মধ্যে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২৪০ কিমি এবং সর্বোচ্চ গতিবেগ পৌঁছে যাচ্ছে ৩০০ কিমির কাছাকাছি। তবে আশার কথা একটাই, উপকূলে পৌঁছে কিছুটা দুর্বল হতে পারে এই ঘূর্ণিঝড়।

২ মে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭:৪৫

শক্তি বাড়িয়ে উপকূলের আরও কাছাকাছি এসেছে ফণী। বর্তমানে তার গতিবেগ ঘণ্টায় ২২০ কিমি। তবে কিছুটা স্বস্তির কথা পুরীতে আছড়ে পড়ার সময়ে কিছুটা শক্তিক্ষয় হবে তার। এই মুহূর্তে ফণীর অবস্থান পুরী থেকে ২৫০ এবং কলকাতা থেকে ৫১০ কিমি দক্ষিণ দক্ষিণপশ্চিমে। ঘূর্ণিঝড়ের কথা মাথায় রেখে আজ রাত থেকে ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ভুবনেশ্বর বিমানবন্দর। অন্যদিকে কলকাতা বিমানবন্দরের পরিষেবাও বন্ধ করা হচ্ছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ন’টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা ছ’টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে পরিষেবা।

২ মে, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটে

মেঘ ঢোকাচ্ছে ফণী। আর তার জেরেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে শুরু হয়েছে বৃষ্টি।

কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, এই মুহূর্তে ফণীর অবস্থান- পুরী থেকে ৩৬০ কিমি দক্ষিণ দক্ষিণপশ্চিম এবং দিঘা থেকে ৫৫০ কিমি দক্ষিণ দক্ষিণপশ্চিমে।

ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা।

সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী শুক্রবার রাজ্যের দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হবে। শনিবার ভারী থেকে অতিভারী, এমনকি কোথাও কোথাও চরম অতিভারী বৃষ্টিও হতে পারে।

২ মে, বৃহস্পতিবার দুপুর ২:৪৫

ফণীর জন্য আগাম ছুটি ঘোষণা রাজ্যের স্কুলগুলিতে। সরকারি এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলিতে এগিয়ে এল গরমের ছুটি। সিবিএসই এবং আইসিএসই স্কুলগুলিতে শুক্রবার এবং শনিবার ছুটি দিয়ে দেওয়ার অনুরোধ।

২ মে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১:৪৫

শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত ফণীর দাপট থাকবে খাস কলকাতার ওপরে। ঝড়ের গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১২০ কিমির মধ্যে। এই কারণেই বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে কলকাতা পুরসভা।

**** শহরের রাস্তায় থাকা সমস্ত হোর্ডিং খুলে ফেলার জন্য বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা পুরসভা।

**** বিপজ্জনক বাড়ির বাসিন্দাদের অনত্র সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

**** রাস্তায় বিদ্যুৎবাহী তার যাতে পড়ে না থাকে, সেই দিকে কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে।

**** পুরসভার সমস্ত কর্মীর ছুটি আপাতত বাতিল করা হয়েছে। বোরো অফিসগুলিকে শনিবার ও রবিবার খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২ মে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা

ওড়িশার উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলি থেকে ৮ লক্ষ্য মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মত ৮৭৯টি সাইক্লোন শেল্টারে তাঁদের রাখা হয়েছে।

২ মে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২:০০

আরও কিছুটা এগিয়েছে ঘূর্ণিঝড় ফণী। এই মুহূর্তে তার অবস্থান পুরী থেকে ৪২০ এবং দিঘা থেকে ৬১০ কিমি দক্ষিণ দক্ষিণপশ্চিমে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজ্যের সৈকত শহরগুলিতে পর্যটকের সংখ্যা অনেক কমে গিয়েছে। ওয়াচ টাওয়ার থেকে উপকূলে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ প্রশাসন। মাইকিং করা হচ্ছে। অন্য দিকে চূড়ান্ত সতর্কতা ওড়িশাতেও। পুরী থেকে পর্যটকদের ফিরে যেতে অনুরোধ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ওড়িশায় ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে।

আজ বিকেলের পর থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা। ইতিমধ্যে আকাশে মেঘ ঢোকাতে শুরু করেছে ফণী।

২ মে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮:০০

ঘূর্ণিঝড় ফণীর গতিপথ নিয়ে নতুন যে পূর্বাভাস কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর প্রকাশ করেছে, তার ফলে বিপদ আরও বাড়তে পারে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর এবং বসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমা জানাচ্ছে, এই মুহূর্তে ফণীর অবস্থান পুরী থেকে ৪৪০ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিম, গোপালপুর থেকে ৩৮০ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিম এবং কলকাতা থেকে ৭০০ কিমি দক্ষিণ দক্ষিণপশ্চিম। ফণীর গতিপথ নিয়ে এই ম্যাপটি দেখুন।

এই ম্যাপ দেখে দেখে যেটা বোঝা যাচ্ছে, তা হল, কলকাতার ওপরে ‘এসসিএস’ অর্থাৎ প্রবল ঘূর্ণিঝড় দেওয়া আছে। শনিবার সকাল ছ’টা নাগাদ ফণী প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে অবস্থান করতে পারে কলকাতার এক্কেবারে নাকের ডগায়। তখন তার গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ১২০ কিমি। কিন্তু কলকাতায় পৌঁছনোর আগে, অর্থাৎ দিঘায় আছড়ে পড়া এবং সেখান থেকে কলকাতার পথ ধরার সময়ে, সেটি ‘ভিএসসিএস’ অর্থাৎ অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় থাকতে পারে। তখন তার গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ১৫৫ কিমি। কলকাতা থেকে বাংলাদেশ পৌঁছনো পর্যন্ত, অর্থাৎ উত্তর ২৪ পরগণা, নদিয়া দিয়ে যাওয়ার সময়ে সেটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ই থাকতে পারে। তার পর সেটি বাংলাদেশে গিয়ে ঘূর্ণিঝড় এবং অসমে গিয়ে গভীর নিম্নচাপে দুর্বল হয়ে যাবে।

এর ফলে কলকাতা, দুই মেদিনীপুর, দুই ২৪ পরগণা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমানের একাংশ এবং বাঁকুড়ার একাংশে চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

ইতিমধ্যেই দক্ষিণবঙ্গের আকাশে মেঘ ঢোকাতে শুরু করে দিয়েছে ফণী। বেলা বাড়লে বৃষ্টি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

১ মে, বুধবার, রাত ১:৩০

ফণী অবস্থান করছে বিশাখাপত্তনম থেকে ৩০০ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে, পুরী থেকে ৫৫০ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিম এবং দিঘা থেকে ৭৪০ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে।

১ মে, বুধবার, রাত ৯:৩০

আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, এই মুহূর্তে ফণী অবস্থান করছে পুরী থেকে ৫৭০ কিমি দক্ষিণ দক্ষিণপশ্চিম এবং দিঘা থেকে ৭৬০ কিমি দক্ষিণ দক্ষিণপশ্চিমে। শুক্রবার দুপুর নাগাদ এই ঝড় পুরী দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করবে। পুরীতে আছড়ে পড়ার সময়ে এই ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ২০০ কিমি।

পুরীতে আছড়ে পড়ে এই ঝড় এগোবে বাংলার দিকে, ওড়িশা উপকূল বরাবর। শুক্রবার গভীর রাত থেকে শনিবার সকালের মধ্যে এই ঝড় দিঘা দিয়ে বাংলায় ঢুকতে পারে। রাজ্যে প্রবেশ করার সময়ে ফণীর গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ১২০ কিমি। শনিবার সকাল নাগাদ ফণী কলকাতার কান ঘেঁষে বেরোতে পারে। তখন কলকাতায় হাওয়ার গতিবেগ থাকতে পারে ১১০ কিমির আশেপাশে। অর্থাৎ দক্ষিণবঙ্গে ভয়াবহ দুর্যোগের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ফণী মোকাবিলায় চূড়ান্ত সতর্ক রাজ্য। ইতিমধ্যেই রাজ্যে এসে পৌঁছেছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ৬টি দল। বৃহস্পতিবার থেকেই দিঘা, মন্দারমণি-সহ রাজ্যের সৈকত সংলগ্ন পর্যটন কেন্দ্রে জলক্রীড়া বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কলকাতা পুরসভার তরফে আবাসন, নিকাশি, বিদ্যুত দফতরকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রতিটি বরোতে কন্ট্রোল রুম খোলা হচ্ছে। পুরসভায় খোলা হচ্ছে কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম। কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সামগ্রিক পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালানো হবে। গাছ পড়ার খবর পেলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাতিল একাধিক ট্রেন

ঘূর্ণিঝড় ফণীর কথা মাথায় রেখে বৃহস্পতিবার থেকে একাধিক দুরপাল্লার ট্রেন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণপূর্ব রেল। বিস্তারিত দেখুন এখানে।

5 COMMENTS

  1. আমরা সর্বক্ষণ আপডেট দেওয়ার চেষ্টা করে চলেছি। ফণী সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য এখানে তুলে ধরা হবে। দেখতে থাকুন। ধন্যবাদ

    • ধন্যবাদ। খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here