world cup fever in darjeeling

দার্জিলিং: পাহাড় এখন জ্বরে কাবু। না ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া বা ভাইরাল জ্বর নয়। এ জ্বর বিশ্বকাপ জ্বর। বিশ্বকাপের দশ দিন আগে থেকেই এই জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে দার্জিলিং। এত দিন পর্যন্ত রাজনৈতিক দলের পতাকা দেখতেই যে শহর অভ্যস্ত, সেই শহর এখন ব্রাজিল, আর্জেন্তিনা, জার্মানি প্রভৃতি দলের পতাকায় মুড়ে গিয়েছে।

বিশ্বকাপের এই জ্বরকে কাজে লাগিয়েই পর্যটকদের আহ্বান জানাচ্ছে দার্জিলিং। হ্যাঁ, এই ভরা বর্ষাতেও। দার্জিলিঙের প্রধান দু’টি স্কুল সেন্ট জোসেফ এবং নর্থ পয়েন্টের প্রাক্তনীরা দার্জিলিং শহরকে ভিন্ন রূপে সাজিয়ে তোলায় শামিল হয়েছেন। তাঁদের এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কিছু এনজিও। ঘুম থেকে দার্জিলিং ম্যাল পর্যন্ত রাস্তার দু’দিক এখন ছেয়ে গিয়েছে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ৩২ দেশের পতাকায়।

গত শনিবার একটি র‍্যালির মধ্যে দিয়ে বিশ্বকাপময় হয়ে ওঠে দার্জিলিং। নর্থ পয়েন্ট স্কুলের আলুমনি সংস্থার প্রেসিডেন্ট দেবেন গুরুং বলেন, “আমাদের লক্ষ্য দার্জিলিংকে এখন বিশ্বকাপ শহর হিসেবে ব্র্যান্ডিং করা। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে আমরা বোঝাতে চাই যে দার্জিলিং এখন সম্পূর্ণ শান্ত। আপনার আসুন।”

আগামী এক মাস শহরে বিভিন্ন রকম অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ফুটবল প্যারেড, চিয়ারলিডিং প্রতিযোগিতা, নাচের অনুষ্ঠান, মাউন্টেন বাইক র‍্যালি, সঙ্গীতানুষ্ঠান-সহ একাধিক অনুষ্ঠান রয়েছে পাহাড়ে। এই সব অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে যা আয় হবে সেগুলি ‘ক্লিনিক অন হুইলস’ নামক একটি প্রকল্পে যাবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যে সব অঞ্চলে চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছোয় না, সেখানে চিকিৎসা ব্যবস্থা পৌঁছে দেওয়া হবে।

নর্থ পয়েন্ট স্কুলের আলুমনি অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট অজয় এডওয়ার্ডস বলেন, “এই পাহাড়ি শহরে ক্রিকেটের থেকে অনেক বেশি জনপ্রিয় ফুটবল। আমরা সেজন্য ফুটবল বিশ্বকাপকে অন্য রকম ভাবে উদযাপন করতে চলেছি।”

পর্যটকদের কাছে দার্জিলিং মানে কাঞ্চনজঙ্ঘা, টয় ট্রেন আর চা বাগান। তবে সামনের এক মাস যদি প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে দার্জিলিঙে যেতে পারেন, তা হলে পাহাড়ের রানিকে অন্য রূপে পাবেন আপনি।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here