makaibari darjeeling raja banerjee

দার্জিলিং: কর্মীদের অংশীদারিত্ব দিয়ে অবসর নেওয়ার কথা ঘোষণা করে দিলেন দার্জিলিং-এর ‘রাজা’। তিনি স্বরাজ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।

কার্শিয়াং-এর কাছে ঐতিহ্যশালী মকাইবাড়ি চা-বাগানের মালিক স্বরাজ ওরফে রাজা জানিয়ে দিয়েছেন, এই ব্যবসা থেকে অবসর নিচ্ছেন তিনি। নিজের ভাগের যে ১২ শতাংশ অংশীদারিত্ব ছিল সেটা কর্মীদের উপহার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

১৮৫৯-এ যে ব্যবসা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার শুরু করেছিল, রাজাবাবুর অবসরে আর তাদের কোনো হাত থাকল না এই ব্যবসায়। ২০১৪ সালে নিজের অংশীদারিত্বের একটা বিশাল অংশ কলকাতার লক্ষ্মী গ্রুপকে দিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

ঘোড়ার পিঠে চড়ে চা বাগানের রোজকার কাজের ওপরে নজর রাখতেন রাজা। তাঁর উপহার দেওয়া অংশীদারিত্ব চারটি সংগঠনে বিভক্ত হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ‘ফেয়ার ট্রেড প্রিমিয়াম কমিটি’ নামে কর্মচারী এবং মালিকপক্ষের যৌথ কমিটি, একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠী, ‘জড়িবুটি কমিটি’ এবং কর্মীদের তৈরি একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এই অংশীদারিত্ব পাবে।

পয়লা বৈশাখ নিজের অংশীদারিত্ব ছেড়ে দেবেন বলে ঘোষণা করেছেন রাজা। তিনি বলেন, “যতদূর আমি জানি আজ পর্যন্ত কেউ তাদের অংশীদারিত্ব এভাবে কর্মীদের উপহার দেয়নি।”

বছরের পর বছর ধরে দার্জিলিং এবং ভারতের চা-এর একটা ব্র্যান্ড তৈরি করে ফেলেছে মকাইবাড়ি। ২০১৬-য় বাকিংহাম প্রাসাদে রানি এলিজাবেথকে মকাইবাড়ি চা উপহার দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বছরে এক লক্ষ কেজির বেশি চা উৎপাদিত হয় মকাইবাড়িতে।

২০০৮-এ বেজিং অলিম্পিক এবং ২০১৪-তে ব্রাজিল ফুটবল বিশ্বকাপের সময়ে প্রতিযোগী এবং আধিকারিকদের এই মকাইবাড়ি চা দেওয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত বছরই ভয়াবহ আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায় মকাইবাড়ি চা-বাগানের বাংলোটি। এই আগুনের গ্রাসে চলে যায় রাজাবাববুর অনেক দুর্লভ জিনিসপত্র, যার মধ্যে বেশ কিছু ট্রফি, আঁকা, বই ইত্যাদি জিনিসপত্র ছিল। তিনি বলেন, “মকাইবাড়ি আমার আত্মা ছিল। আমি মিস করব।”

রাজাবাবু যখন অবসরের কথা ঘোষণা করছেন তখন কর্মীদের চোখে জল। মণ্ডল ছেত্রী নামে এক কর্মী বলেন, “রাজাবাবু আমাদের বন্ধু এবং পথপ্রদর্শক ছিলেন।” মালিক রাজাবাবু যে অন্যদের থেকে একদমই আলাদা ছিলেন সে কথাই ফুটে উঠেছে চা বাগানের কর্মী কুমার রাইয়ের গলায়, “অন্যান্য চা-বাগানে কর্মী অসন্তোষ খুব পরিচিত একটা ছবি। কিন্তু রাজাবাবুর নেতৃত্বে এখানকার কর্মীরা খুব ভালো ছিলেন।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here