darjeeling election
কার্শিয়াংয়ের গয়াবাড়ির বুথে ভোটারদের লম্বা লাইন।

নিজস্ব প্রতিনিধি, দার্জিলিং: সমতলে যখন বিক্ষিপ্ত অশান্তি হচ্ছে, তখন এক্কেবারে অন্য মেজাজে ভোট দিচ্ছে পাহাড়। কোথাও কোনো অশান্তির চিহ্ন নেই। মানুষ নিজের খুশিমতো ভোট দিয়ে চলে যাচ্ছেন।

অথচ দু’ বছর আগের ছবিটা দেখলে যেন বৃহস্পতিবারের ছবির সঙ্গে কোনো ভাবেই মেলানো যাবে না। গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে বিমল গুরুংয়ের আন্দোলনে জেরবার হতে হয়েছিল পাহাড়কে। অশান্ত পরিস্থিতিকে শান্ত করতে প্রচুর সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানো হয়েছিল। নামানো হয়েছিল সেনাকেও। সেই গণ্ডগোলের কথা স্মরণ করেই পাহাড়ের অধিকাংশ বুথকেই স্পর্শকাতর ঘোষণা করেছে কমিশন।

মিরিকের একটি বুথে।

এ দিন সকাল থেকেই অবশ্য অন্য রকম পাহাড়। সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোট দেওয়ার যথেষ্ট উৎসাহ লক্ষ করা গিয়েছে।

পাহাড়ে এ বার ভোটের চিত্রটাও অন্য রকম। এত দিন একটা নিয়ম ছিল, পাহাড়ে তখনকার সর্বেসর্বা যা নির্দেশ দেবেন, তাঁকেই সাধারণ মানুষকে ভোট দিতে হবে। ঠিক যেমন বিমল গুরুংয়ের নির্দেশের জন্য ২০০৯ এবং ২০১৪ সালে এই কেন্দ্র জিতে যায় বিজেপি। পাহাড়ে সে ভাবে কোনো সংগঠন ছাড়াই বিজেপির জয় এসেছিল গুরুংয়ের জন্য। আবার একই ভাবে ২০০৪-এ জিতেছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী দাওয়া নরবুলা। তখনকার প্রধান সুভাষ ঘিসিংয়ের নির্দেশ ছিল এটাই! কোনো এককালে সিপিএমেরও দাপট যথেষ্টই ছিল পাহাড়ে।

আরও পড়ুন পোড়খাওয়া রাজনীতিক, অথচ ভোটের নিয়ম-কানুনই জানেন না!

কিন্তু এ বার ভোটের পরিস্থিতি এক্কেবারে অন্য রকম। বিনয় তামাং নেতৃত্বাধীন মোর্চা তৃণমূলকে সমর্থন করায় পাহাড়ে প্রভাব বেড়েছে তৃণমূলের। সেই সঙ্গে কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়লেও বিজেপিও রয়েছে। কারণ তাদের সমর্থন করছেন বিমল গুরুং এবং জিএনএলএফ। পাহাড়ে বিশেষ প্রভাব না থাকলেও, দার্জিলিং কেন্দ্রের সমতলে প্রভাব রয়েছে সিপিএমের। কারণ শিলিগুড়ির পুরসভা, বিধানসভা এবং মহকুমা পরিষদ সব সিপিএমের দখলে।

পোখরিয়াবংয়ের বুথে ভোটারদের লাইন।

পাহাড়ে এ বার বাজিমাত করল কে, সেটা তো ২৩ তারিখ জানা যাবে। কিন্তু ভোটের ছবি দেখে যা বোঝা যাচ্ছে, তা হল অশান্তি দূরে ঠেলে এ বার সামনের দিকে এগোতে চান দার্জিলিংয়ের বাসিন্দারা।

(লোকসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা ভোটের যাবতীয় লাইভ আপডেট পেতে ক্লিক করুন এখানে)

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here